default-image

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঝড়ে উপজেলা দুইটির প্রায় ৩২৪টি বসতঘর, কাঁচা রাস্তা, গবাদি ও মাছের খামার। উভয় উপজেলা প্রশাসন থেকে গত রোববার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৮৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি কার্যালয়।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৩ হাজার ৩০০ লোক কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৬৬০টি। এসব পরিবারের ২০টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৩০০টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয় ঝড়ে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ১২টি ইউনিয়নের ৩৫টি গবাদিপশু, ২০০টি হাঁস-মুরগির ক্ষতি হয়েছে—যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

 ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা ও কাঁচা ২২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। ঝড়ে অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কমবেশি ক্ষতি হয়। এ ছাড়া জোয়ারের পানি ঢুকে দুটি মাছের খামারের প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

জানতে চাইলে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূর-এ-আলম। গতকাল সোমবার বিকেলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিভাগভিত্তিক প্রতিবেদন গত সোমবার তাঁরা জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বিভাগভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম ইবনুল হাসান বলেন, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির উঠতি আমন ফসল মাটিতে শুয়ে গেছে। এসব ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এখনই নিরূপণ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি তাঁরা জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।

উপজেলার চর আমানউল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য লিটন দাস প্রথম আলোকে বলেন, ঝড়ে মাটিতে শুয়ে যাওয়া যেসব গাছের ধান এখনো পাকেনি সেগুলো পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মিরসরাই

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে অবকাঠামোগত তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এর প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিতে শীতকালীন সবজি ও আমন ধানের বেশ ক্ষতি হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে পানি জমে গেছে সবজি ও ধানের জমিতে। এতে আগাম লাগানো শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুনসহ আমন ধান ও খেসারি ডালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ মাঠের ফসলের এমন ক্ষতিতে  হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত মিরসরাই পৌরসভার উত্তর আমবাড়িয়া এলাকা। গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় শীতকালীন সবজির অনেক খেতে পানি জমে আছে। কৃষকেরা খেতে পানিনিষ্কাশন ও হেলে পড়া সবজি গাছে খুঁটি পুঁতে দেওয়ার কাজ করছেন।

কথা হয় কৃষক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে। তিনি বলেন,‘ দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছি। ভালো গাছ হয়েছে। ২৫-৩০ দিন পর বিক্রি করতে পারতাম। বৃষ্টির কারণে এখন  জমিতে পানি জমে গেছে। পানি নামলেও গাছ দুর্বল হয়ে উৎপাদন অর্ধেক কমে যাবে।’

মিরসরাইয়ের চরশরৎ এলাকায় কথা হয় কৃষক মো. শহিদুল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এবার ৫ বিঘা জমিতে খেসারি ডালের বীজ ছিটিয়েছিলাম। গাছও হয়েছিল বেশ ভালো। কিন্তু বৃষ্টিতে জমির সব জায়গায় পানি জমে গেছে। মনে হয় না এ ডাল আর থাকবে।’

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের হিসাবমতে, এবার উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে ২০ হজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান, ১ হজার ১০০ হেক্টরে শীতকালীন সবজি ও ৪০০ হেক্টর জমিতে খেসারি ডালের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে গত দুই দিনের বৃষ্টিতে ৭০০ হেক্টর জমির আমন ধান, ৫০ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি ও ১০০ হেক্টর জমির খেসারি ডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মিরসরাই উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী মো. নুরুল আলম বলেন, অসময়ের ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার সব ইউনিয়নেই আমন ধান ও শীতকালীন সবজির কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে এর মধ্যে করেরহাট, হিঙ্গুলী, ওসমানপুর হাইতকান্দি, মিরসরাই সদর, খৈয়াছড়া ও ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। ফসলের জমি থেকে দ্রুত পানিনিষ্কাশনের জন্য মুহুরী প্রজেক্ট স্লুইসগেট কর্তৃপক্ষকে জোয়ারের সময় বন্ধ রেখে ভাটার সময় কপাট খুলে রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন