default-image

ঢাকার আশপাশের পাঁচ জেলার অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা, মাত্রার চেয়ে বেশি কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে চলা যান জব্দ ও ধুলাপ্রবণ এলাকায় দুই সিটি করপোরেশনের নিয়মিত পানি ছিটানোসহ বায়ুদূষণ রোধে এর আগে দেওয়া ৯ নির্দেশনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে বিবাদীদের আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকায় বায়ুদূষণ রোধে আদালতের এর আগের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চেয়ে পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ১৫ নভেম্বর আবেদনটি করে। এইচআরপিবির করা এক রিটের ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট বায়ু দূষণ রোধে ৯ দফা নির্দেশনাসহ আদেশ দিয়েছিলেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী আমাতুল করীম, উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে আইনজীবী তৌফিক ইনাম ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফরিদা ইয়াসমিন।

বিজ্ঞাপন

আদেশের বিষয়টি জানিয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, ১৩ জানুয়ারি দেওয়া ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হলে গত ফেব্রুয়ারিতে বায়ু দূষণ কিছুটা কমতে থাকে। তবে বর্তমানে ঢাকা শহর আবার সর্বোচ্চ বায়ু দূষণের শহর বলে গণমাধ্যমে এসেছে। তাই গণমাধ্যমের খবর যুক্ত করে ১৫ নভেম্বর আবেদনটি করা হয়। আবেদনের সঙ্গে যুক্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বায়ু দূষণের যে বর্ণনা আছে, তা সবার জন্য উদ্বেগজনক ও পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে আনা না হয়, তবে নাগরিকদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার খর্ব হতে পারে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

‘ঢাকার বাতাসে নতুন বিপদ’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এটি যুক্ত করে এইচআরপিবির পক্ষে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করা হয়। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকায় বায়ুদূষণ রোধে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতিবিষয়ক শুনানিতে দূষণ রোধে কয়েক দফা নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনকারীপক্ষ সম্পূরক একটি আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চ কয়েক দফা নির্দেশনাসহ আদেশ দেন।

আইনজীবীর তথ্যমতে, ৯ দফার মধ্যে ঢাকা শহরে মাটি/বালু/বর্জ্য পরিবহন করা ট্রাক ও অন্যান্য গাড়িতে মালামাল ঢেকে রাখা; নির্মাণাধীন এলাকায় মাটি/বালু/সিমেন্ট/পাথর/নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা; সিটি করপোরেশন রাস্তায় পানি ছিটাবে; রাস্তা/কালভার্ট/কার্পেটিং/খোঁড়াখুঁড়ির কাজে দরপত্রের শর্ত পালন নিশ্চিত করা; সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে গাড়ির চলাচল সময়সীমা নির্ধারণ ও উত্তীর্ণ হওয়া সময়সীমার পরে গাড়ি চলাচল বন্ধ করা; পরিবেশগত সনদ ছাড়া চলমান টায়ার ফ্যাক্টরি বন্ধ করা; মার্কেট/দোকানের প্রতিদিনের বর্জ্য ব্যাগে ভরে রাখা এবং বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন