default-image

প্রতিবছরই বাংলাদেশে নতুন প্রজাতির পাখির দেখা মিলছে। আমাদের পাখির তালিকায় এবার যোগ হলো উত্তর আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার পাখি ব্লাক-লেগড কিডিওয়েক। এ পাখির বৈজ্ঞানিক নাম rissa tridactyla। ইংরেজি নাম Black-legged Kittiwake। গাঙচিল পরিবারের এ পাখির বাংলা নাম দেওয়া হয়নি এখনো। তবে কালো-পা কিডিওয়েক রাখা যেতে পারে। যেসব গাঙচিল পরিবারে পাখি খোলা সমুদ্রে বেশির ভাগ সময় বসবাস করে এবং খোলা পর্বতে বাসা করে, তাদের কিডিওয়েক বলা হয়। ৪ জানুয়ারি পাখিটি বাংলাদেশে প্রথম দেখতে পান আবদুল মজিদ শাহ নামের এক পাখি পর্যবেক্ষক। তিনি পাখিটির একটি মাত্র ছবি তুলতে সক্ষম হন। ভারতীয় কয়েকজন পাখি বিশেষজ্ঞ পাখিটিকে শনাক্ত করে দেন। দ্রুত উড়ে যাওয়ার ফলে আর কোনো ছবি তোলা যায়নি বলে জানান মজিদ শাহ। পাখিটি ভোলা জেলার তুলাতলি নামক স্থানে মেঘনা নদীর ওপর দিয়ে একা একা উড়ে যাচ্ছিল। এ পাখি আমেরিকা, রাশিয়া, কোরিয়া, জাপান, নরওয়ে, কানাডা, আলাস্কা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে দেখা যায়। তবে মাঝেমধ্যে এরা অন্য গাঙচিলদের সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের উপকূলে পরিযায়ী হয়ে আসে। ২০০৫ ও ২০১২ সালে এটি ভারতের কেরালা, মহারাষ্ট্রের সৈকত এলাকায় এবং আসামের মাজুলী দ্বীপে দেখা গিয়েছিল।
পাখিটির পা ছোট ও কালো এবং ডানার আগার পালক কালো। আকারে কালো মাথা গাঙচিলের মতো। দেহের দৈর্ঘ্য ৩৮-৪১ সেন্টিমিটার, ওজন ৩০৫-৫২৫ গ্রাম। শরীরের বেশির ভাগ অংশ সাদা। পিঠের পালক ধূসর নীল। ঠোঁট হলদে। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি দেখতে একই রকম। তবে গবেষকদের মতে, স্ত্রী পাখি পুরুষ পাখির চেয়ে হয়তো কিছুটা ছোট।
এ পাখি সাধারণত নিজেদের দলে থাকে। কখনো অন্য সামুদ্রিক পাখির সঙ্গে যোগ দেয়। অন্য পাখির খাবার চুরি করে খাওয়ার অভ্যাস আছে। খাবার তালিকায় আছে মাছ, স্কুইড, চিংড়ি, পাখির ডিম, সামুদ্রিক শৈবাল ইত্যাদি।
প্রজননের সময় এরা উপনিবেশ তৈরি করে বসবাস করে ও সমুদ্র উপকূলের পর্বতে বাসা করে ডিম পাড়ে। একটি উপনিবেশে ১ লাখ কিডিওয়েক পাখি থাকতে পারে। উভয় পাখি মিলেমিশে বাসা বানায়। স্ত্রী পাখি ১-৩টি ডিম পারে। দুজনে পালা করে ডিমে তা দেয় এবং ২৪-২৮ দিনে ছানা বের হয়ে আসে। ছানা উড়তে শেখে ৩৪-৫৮ দিনে। প্রজননের পর এরা সমুদ্রে ফিরে যায়। নবাগতরা প্রায় ৩-৫ বছর একটানা খোলা সমুদ্রে কাটায়। তারপর ডিম পাড়তে আগের জায়গায় ফিরে আসে। এরা সাধারণত সমুদ্রের যে অংশে ঢেউ ও পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে সেদিকে খাবার খোঁজে। একটি পাখি প্রায় ১৩ বছর বেঁচে থাকে। শিকার, ডিম সংগ্রহ ও সমুদ্রে তেলদূষণের কারণে এ পাখির সংখ্যা কমে যেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে এ পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। কিডিওয়েক সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নির্দেশক পাখি হিসেবে বিশ্বে ও পরিবেশবিদদের কাছে বিবেচিত।

বিজ্ঞাপন
পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন