default-image

মাস তিনেক আগেও ছিল শুকনা ধানিজমি আর মাঠ। এখন সেখানে থই থই পানি। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসের নতুন পানি যেন যৌবন এনে দিয়েছে হাওর-খাল-বিলে। ডানে-বাঁয়ে দুই পাশে থাকা জলাশয়গুলো এখন বর্ষার পানিতে একাকার। আর ঠিক মাঝখানে উঁচু শুকনা জায়গার খানিকটা জুড়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে পিচঢালা রাস্তা দক্ষিণ সুরমার দিকে। সে রাস্তা ধরে এগোতেই দেখা মেলে রাজু আহমদের।

রাজু রাস্তার ঠিক পাশে থাকা ঘন সবুজ ঝোপঝাড়ে নুয়ে নুয়ে কী যেন খুঁজছিলেন! কাছে যেতেই চোখে পড়ে, সদ্য বৃষ্টি পেয়ে আপন গতিতে বেড়ে ওঠা কচুর লতি সংগ্রহ করছিলেন তিনি। তাঁর বাঁ হাতে মুঠোবন্দী ধূসর-সবুজ হৃষ্টপুষ্ট কিছু লতি, পাড়ে থরে থরে সাজানো রয়েছে আরও কিছু। কুতুবপুর নৈখাই এলাকায় যখন এমন দৃশ্য চোখে পড়ে, তখন ঠিক মাথার ওপরে দুপুর ১২টার তেজোদীপ্ত সূর্য।

হাতের ইশারা পেয়ে কাছে আসেন রাজু। দরদর করে ঘামছেন। পরনে তাঁর টি-শার্ট আর হাফ প্যান্ট। মুখে খোঁচা খোঁচা সপ্তাহ দুয়েকের না কাটা দাড়ি-গোঁফ। কেমন আছেন জানতে চাইলে ঠোঁট উল্টে মাথা নেড়ে না-সূচক জবাব দেন। কুতুবপুর নৈখাই গ্রামের বাসিন্দা রাজু (২৫) বলেন, ‘ভালা না। করোনার আগে রাজমিস্ত্রির কাম করতাম। এরপর সব বদলি গেছে। এখন আর কেউ দালানকোঠা বানাইতাছে না। কাম বন্ধ। বাধ্য অইয়া কচুর লতি তুলি আর বেচি। ডেইলি যা টাকা পাই, তাই দিয়া কুনুরকমে সংসার চলে।’

ছাতা বগলদাবা করে খালি পায়ে হেঁটে চলছেন এক বয়োবৃদ্ধ লোক। পাশেই চায়ের দোকানে টিভিতে বাজছে বাংলা সিনেমার গান। দু-তিনজন লোক সেখানে চা পান করতে করতে খোশগল্প করছেন। একটু দূরে ফুটপাতে কিছু কচুশাকের আঁটি নিয়ে বসে আছেন এক লোক। চিরচেনা দৃশ্য নেই, ক্রেতাদের নেই আনাগোনা। নির্জন বাজারের সুনসান রাস্তা ধরে কেবল হুটহাট কিছু মানুষ যাচ্ছেন, আসছেন।

এ দৃশ্য দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৭০ বছরের পুরোনো চৌধুরী বাজারের। বাজারটি উপজেলার ২৪টি গ্রামীণ হাটবাজারের মধ্যে পুরোনো কয়েকটির একটি। গত বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে ফুটপাতে বসে থাকা সেই চল্লিশোর্ধ্ব কচুবিক্রেতা স্মৃতির জাবর কাটেন, ‘কয় মাস আগেও কী রমরমা বাজার আছিল। এখন মরা বাড়ি! মানুষ নাই। দরকার ছাড়া মানুষ বার অয় না!’ পরেই আক্ষেপ ঝরে তাঁর কণ্ঠে, ‘বেচাকিনি নাই। ৫০ টাকা বেচছি। কিলা যে সংসার চলব? এখন তো কেউ ঋণও দেয় না!’

একটু এগোতেই ‘নিউ রাহী ফ্যাশন’ নামের একটি কাপড় ও জুতার দোকানে নিমগ্নচিত্তে দোকানদারকে মুঠোফোনে গেম খেলতে দেখা যায়। কাছে গেলে মুচকি হেসে বলেন, ‘কাস্টমার নাই। তাই গেম খেলি, ফেসবুক দেখি।’ বেচাকেনা কেমন চলছে, প্রশ্ন ছুড়তেই আবদুল মালিক নামের এই ত্রিশোর্ধ্ব যুবকের হাসি উধাও। দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেবল বললেন, ‘করোনা পথে নামাইয়া দিছে!’ একটু দম নিয়ে কিছুক্ষণ পর জানান, তাঁর দোকানে আগে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি হতো। এখন চার থেকে পাঁচ শ টাকায় নেমেছে। দোকানের দুই কর্মচারীকে বাধ্য হয়ে অব্যাহতি দিয়েছেন।

আবদুল মালিকের দোকানের ডানে-বাঁয়ে অন্তত ছয়টি দোকান তালাবদ্ধ। ঘণ্টা দুয়েক বাজারে ঘুরে এমন শতাধিক তালাবদ্ধ দোকান দেখা গেল। দাউদপুর-চৌধুরী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ আকমল হোসেন বলেন, বাজারে প্রায় আড়াই শতাধিক ছোট-বড় দোকান আছে। দেড় শতাধিক দোকান বন্ধ আছে।

দোকান বন্ধ কেন? প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ এম খলিল বলেন, লকডাউনের সময় অনেক দোকান বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় দোকানে মালামাল অবিক্রীত থাকায় অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। মালামালের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। অনেকের পুঁজি নেই। ব্যাংক কিংবা এনজিও এখন নতুন করে ঋণও দিচ্ছে না। ফলে অনেকে দোকান চালু করতে পারছেন না।

>

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৭০ বছরের পুরোনো চৌধুরী বাজার ফাঁকা
শতাধিক দোকান বন্ধ

এই বাজারে সন্ধ্যার পরই মূলত মানুষের ভিড় হতো বেশি। চা খেতে খেতে খোশগল্প করত কত মানুষ। সেই দৃশ্য আর নেই। বেচাকেনা চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। বাজারের একটি সবজি দোকানে এক কিশোরকে প্রথম আলো পড়তে দেখে এগিয়ে গেলাম। নাম তার ফাওয়াজ আহমদ। সে স্থানীয় জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাইস্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ছে। এটি তার চাচার দোকান। চাচা বাড়িতে খেতে গেছেন। সে–ও বলল, আগের মতো ক্রেতা নেই। সারা দিন বসে থাকতে হয়।

শান্তি নেই গ্রামেও

দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ৩১০টি গ্রাম রয়েছে। একটির নাম কুন্দিয়ারচর। এর অবস্থান মোগলাবাজার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। আগের রাতে মুষলধারে বৃষ্টিতে গ্রামের ইট–সলিংয়ের একমাত্র রাস্তা আর বাড়ির উঠানে থিকথিকে কাদাপানি জমেছে। সেই পানি আর কাদা মাড়িয়েই যেতে হয় সালেহ আহমদের বাড়িতে। তাঁর মা জ্যোৎস্না বেগম টিনশেড ঘরের বারান্দায় পিঁড়ি পেতে বসে দা দিয়ে কাঁঠাল-বিচি কেটে কেটে টুকরো করছিলেন। পাশ ঘেঁষে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদে লুটোপুটি দিচ্ছিল তাঁর আট মাসের নাতনি।

আগন্তুক দেখে দৌড়ে মেয়েকে কোলে নেন সালেহ আহমদের স্ত্রী সুলতানা বেগম। সালেহ বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ–সংযোগ সরবরাহের কাজ করেন। গড়ে হাজার টাকা রুজি করতেন। করোনার শুরুর পর দুই মাস বেকার ছিলেন। ইদানীং কিছু কাজ পাচ্ছেন। দুই–তিন শ টাকা আয় হয়।

আলাপে যোগ দেন জ্যোৎস্না বেগমও। জানান, তাঁর ১০ সদস্যের পরিবার। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে বড় সালেহই শুধু আয় করেন। তাঁর ষাটোর্ধ্ব স্বামী আবদুল কাদির অসুস্থ। প্রতি মাসে তাঁর সাড়ে চার হাজার টাকার ওষুধ লাগে। এখন ছেলে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি কোনো সহায়তাও পাননি তাঁরা।

একটু এগোতে দেখা মিলল মৎস্যজীবী ইসমাইল আলীর সঙ্গে। পাশেই ছোট একটি খালে বেশ কয়েকটি বারকিজাতীয় নৌকা বাঁধা। ইসমাইলের স্ত্রী রাজিয়া বেগম এসব দেখিয়ে বলেন, এসব নৌকা দিয়েই মাছ শিকারে যান তাঁর স্বামী। তবে আগের চেয়ে মাছ বিক্রি হয় কম। একই সারিতে কাঠমিস্ত্রি ইনসান আলীর বাড়ি। দুই ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর। এখন আয় কমে যাওয়ায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী শাফিয়া বেগম বললেন, ‘কম কম খাইয়া দিন যাইতাছে!’

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামটি উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব—এ তিনটি পাড়ায় বিভক্ত। একটি ইট–সলিংয়ের রাস্তা গ্রামটির মাঝ দিয়ে চলে গেছে। তবে কোনো নর্দমা না থাকায় পুরো রাস্তায় পানি আর কাদা জমে আছে। জমে থাকা পানিতে মশা আর মাছি উড়ছে। পূর্ব পাড়ায় রাস্তার অনেকটা অংশে ইট–সলিং দেওয়া হয়নি। সে অংশ কাদায় একাকার। গ্রামের বাসিন্দা ও দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হাবিবুর রহমান জানায়, গ্রামে সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। পাশের ইউনিয়নের স্কুলই তাই ভরসা।

মোগলাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম শায়েস্তা প্রথম আলোকে জানান, গ্রামটিতে পাঁচ হাজার মানুষের বাস। এখানকার ৮০ শতাংশ মানুষই মৎস্যজীবী। ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামের তুলনায় এখানে শিক্ষাদীক্ষায়ও মানুষজন পিছিয়ে আছে। গ্রামটিতে নিম্নবিত্ত প্রায় ২০০ পরিবার সরকারি ত্রাণ সুবিধা পাচ্ছে। তবে আরও দেড় শ পরিবার ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য।

নারী ফেরিওয়ালার দুঃখগাথা

সেই সাতসকাল থেকে তাঁরা হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত-অবসন্ন। পেটেও দানাপানি কিছু পড়েনি। একটু জিরিয়ে নেওয়ার আশায় তাঁরা ছোট একটি টং মতন রেস্তোরাঁয় বসেন। রেস্তোরাঁটির অবস্থান দক্ষিণ সুরমার চৌধুরী বাজার রাস্তামুখী ত্রিমুখী এলাকায়। তাঁরা প্রথমে ভেবেছিলেন, পানি খেয়েই উঠে পড়বেন। কিন্তু পেটের ক্ষুধায় সে চিন্তা থেকে সরে এসে ডিম-খিচুড়ির অর্ডার দেন।

সাথী বেগম ও শিউলি বেগম নামের ওই দুই নারী মাথায় একটা বড় ঝুড়িতে কাচ ও মেলামাইনের থালা, বাটি, কাপ, গ্লাস, ট্রেসহ বিভিন্ন সামগ্রী দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন। দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকায় স্বামী-সন্তান নিয়ে তাঁরা সাত বছর ধরে ভাড়া ঘরে বসবাস করেন। মূল বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।

সাথী জানান, জিনিস ফেরি করতে গিয়ে এখন তাঁদের এক কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। করোনাভাইরাসের ভয়ে তাঁদের এখন আর কেউ বাড়ির উঠানে কিংবা ঘরের বারান্দায় উঠতে দেয় না। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত কয়েকটা গ্রাম ঘুরেছেন। কিন্তু তিন শ টাকার মালামালও বেচতে পারেননি। আগে এক দিনে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার জিনিস বিক্রি হতো।

শিউলি বলেন, ‘বাড়ির ভেতরে এখন আর আমাদের ঢুকতে দেয় না। কুদানি (ধমক) মারে। খারাপও লাগে। তবু বেহায়ার মতো যাই। বাঁচতে হইলে ইনকাম তো করতে হইব।’

চিকিৎসায় ফোনই ভরসা

অসুখ থাকলেও করোনা-আতঙ্কে হাসপাতালমুখী হচ্ছেন না দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ১০ ইউনিয়নের অনেক বাসিন্দা। বাসিন্দারা জানান, প্রয়োজনে পরিচিত চিকিৎসকদের ফোন করে রোগের বিস্তারিত বলছেন। এরপর চিকিৎসকেরা খুদে বার্তার মাধ্যমে ওষুধ দিচ্ছেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় হাটবাজারের ওষুধের দোকানদারদের কাছ থেকেই ওষুধ নিচ্ছেন তাঁরা।

সিরাজপুর গ্রামের আবদুন নূর পেশায় ট্রাকচালক। তিনি বলেন, ‘ডাডা (কঠিন) অসুখে না পড়লে কেউ হাসপাতাল অ যাইন না। গাঁও-গেরামের বাজার থাকিই ওষুধ আইন্যা খাইলাইন সবে। বড়জোর ফার্মেসিত গিয়া দোকানদাররে অসুখের কথা কইয়া ওষুধ আনিলাইন অনেকে।’ একই গ্রামের এক নারী জানান, কয়েক দিন আগে তিনি মেয়েলি অসুখে ভুগছিলেন। তবে করোনার ভয়ে হাসপাতালে যাননি। পরে এক চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে ওষুধ খেয়েছেন।

বৈরাগীবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র পাল বলেন, খুব সমস্যায় না পড়লে কেউ হাসপাতালে যাচ্ছেন না। স্থানীয় বাজার থেকেই অনেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। তবে একটা বিষয় লক্ষণীয়, অন্যান্য বছর এমন সময়টাতে আম-কাঁঠালের মৌসুমে অনেক মানুষের পেটের পীড়া হতো। এবার সেই অর্থে তা হচ্ছে না। কারণ, মানুষজন ঘরে থেকে নিয়মিত হাত ধুচ্ছে। ফলে হাতের ময়লা পেটে যাচ্ছে না।

default-image

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৩১ শয্যার হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী সেবা নিতে আসতেন। এখন সব মিলিয়ে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো রোগী আসেন। যেসব রোগী এখন আসেন, তাঁরা বেশির ভাগই জ্বর, সর্দি, কাশি-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়েই আসেন। যেখানে ৩০ থেকে ৫০ জন প্রসূতি সেবা নিতেন, সেখানে এখন ১০ থেকে ১২ জন প্রসূতি আসেন।

এ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকলেও স্বাভাবিক প্রসবের সুবিধা রয়েছে। আগে মাসে চিকিৎসকেরা ১০–১৫ জন গর্ভবতী নারীর সন্তান প্রসব করাতেন, তিন মাস ধরে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৩ থেকে ৪ জনে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মইনুল আহসান বলেন, খুব জরুরি না হলে করোনার সময়টাতে কেউ চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন না। তবে জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দিলেই ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে অনেকেই ছুটে আসছেন। রোগীদের আসার উপস্থিতি কম দেখে টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়াও চলছে। উপজেলার কোনো বাসিন্দা ফোনে সেবা পেতে চাইলে সেটাও দেওয়া হচ্ছে।

বাধাগ্রস্ত পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম

এ উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম কিছুটা গতি হারিয়েছে। অনেকেই করোনা পরিস্থিতিতে বাড়িতে মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে পরিবার পরিকল্পনা-সম্পর্কিত সেবা দিয়ে আসছিলেন।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে স্থায়ী বন্ধ্যাত্বকরণ (লাইগেশন) কার্যক্রমে। আগে উপজেলায় অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে প্রতি মাসে গড়ে ২৫টির মতো লাইগেশন হতো। এখন গত তিন মাসে একজনও স্থায়ী বন্ধ্যাত্বকরণ করাননি।

মাঠপর্যায়ে কর্মরত একাধিক পরিবার কল্যাণ সহকারী জানিয়েছেন, উপজেলার গ্রামগুলোতে মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাঁরা সেবা দেন। কিন্তু এখন কেউ বাড়িতে বাইরের লোক ঢুকতে দিতে চান না। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তপন কান্তি ঘোষ জানান, আগে ৩০ হাজার নারী বড়ি নিতেন। এখন সেটা না বেড়ে বরং কমে প্রায় ২৫ হাজারে নেমেছে। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অসহায়ের পাশে প্রবাসীরা

দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার প্রবাসী রয়েছেন। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বাইরের নানা দেশে তাঁদের অবস্থান। কেউবা স্থায়ীভাবে, কেউবা কর্মসূত্রে। করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর তাঁরাও ঘরবন্দী হয়ে পড়েন। তবে নিজ এলাকার মানুষের জন্য অনেক প্রবাসী ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে সহায়তার হাত প্রসারিত করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় অর্ধশতাধিক প্রবাসী সংগঠন ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকেই মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরা পর্যন্ত এ সুবিধা পাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0