বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এসব গাড়ির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখন চালাতে হলে গাড়িগুলোর অনেক কিছু প্রতিস্থাপন করতে হবে। নিলামে বিক্রি করতে যত দেরি হবে, ততই মূল্য হারাবে এসব গাড়ি।
মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, মহাসচিব, বারভিডা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলম সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব গাড়ি নিষ্পত্তি করতেই রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে এসব গাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এখন গাড়িগুলো নিলামে তুলে বিক্রি করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চাই আমরা।’

জানা গেছে, এসব গাড়ি ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চারবার নিলামে তোলা হয়েছিল। কিছু গাড়ি অবশ্য বিচ্ছিন্নভাবে আট-দশবারও নিলামে তোলা হয়েছে। তবে একটি গাড়িও বিক্রি করেনি কাস্টমস। নিলামে ভালো দাম যেমন পাওয়া যায়নি, তেমনি কয়েকটি গাড়ির যুক্তিসংগত দাম পেলেও বিক্রি করেনি কাস্টমস। যেমন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক এম এ ইব্রাহিমের ২০১১ সালে এনে আর খালাস না নেওয়া একটি গাড়ির চতুর্থ নিলামে (২০১৯ সালে) দাম সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা উঠলেও বিক্রি করা হয়নি। গাড়ি ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দ্রুত বিক্রি করা না হলে এসব গাড়ি অকেজো হয়ে যেতে পারে।

এসব গাড়ি লন্ডনের রাস্তায় কয়েক বছর চালানো হয়েছিল। গাড়িগুলো পর্যটন–সুবিধায় চট্টগ্রাম বন্দরে আনার পর আটকে যায়।
সাধারণত পর্যটন–সুবিধায় গাড়ি আনলে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়, তবে তা আবার ফেরত নেওয়ার শর্তও থাকে। কিন্তু অতীতে এ সুবিধায় আনা অনেক গাড়ি ফেরত নেওয়া হয়নি। সে জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার রোধে কড়াকড়ি আরোপ করে কাস্টমস। তারা ব্যাংক গারান্টি দিয়ে খালাসের শর্ত আরোপ করে। তখন খালাস না নিয়ে সটকে পড়েন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পর্যটকেরা, যাঁরা গাড়িগুলো এনেছিলেন। তাঁদের আদি নিবাস সিলেটে। তাঁরা এক দশকেও আর গাড়ি খালাস নেননি।

বিলাসবহুল গাড়ির চিত্র

এনবিআরের নির্দেশে কাস্টমস, বিআরটিএ, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, কাস্টমস মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের এ কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে বন্দরে পড়ে থাকা ১২১টি গাড়ির মধ্যে ১২০টি গাড়ির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী পুরোপুরি ভালো অবস্থায় আছে, এমন গাড়ির সংখ্যা কম। ৫৮টি গাড়ির চাবি নেই, একটির চাবি ভাঙা। ১১৪টি গাড়ির চাকা ও ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে। ইঞ্জিনে জং ধরেছে ৭৯টির। দুটি গাড়ির পেছনের কাচ ভাঙা। সব গাড়িতে ধুলার আস্তর জমেছে। এ ছাড়া কাচ ভাঙা, চাকা ফেটে দেবে যাওয়া, যন্ত্রাংশে মরিচা ধরা, ডেকোরেশন নোংরা হওয়া ও গাড়ির তলদেশে জং পড়া তো আছেই।

গাড়িগুলোর অবস্থা তুলে ধরার পর দেশে পুরোনো গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার মহাসচিব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এসব গাড়ির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখন চালাতে হলে গাড়িগুলোর অনেক কিছু প্রতিস্থাপন করতে হবে। নিলামে বিক্রি করতে যত দেরি হবে, ততই মূল্য হারাবে এসব গাড়ি।

কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব গাড়ির মধ্যে সবচেয়ে দামি হলো যুক্তরাজ্যের ল্যান্ড রোভার গাড়ি। এ রকম সাতটি গাড়ি আছে, যেগুলোর সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি চার হাজারের বেশি। অবশ্য ১২০টি গাড়ির অর্ধেকই মার্সিডিজ বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের। এসব গাড়ি কোনো ই–কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিলামে তোলার সুপারিশ করেছে কমিটি।

কমিটির সদস্যসচিব ও কাস্টমসের উপকমিশনার মো. আল আমিন সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ১২০টি গাড়ি সরেজমিন পরিদর্শন করে সর্বশেষ অবস্থা তুলে আনা হয়েছে। এখন এসব গাড়ি অনলাইনে নিলামে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

এখন গাড়িগুলো নিলামে তুলে বিক্রি করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চাই আমরা।
ফখরুল আলম, কাস্টমস কমিশনার, চট্টগ্রাম

গাড়ির দামের চেয়ে ভাড়া বেশি

পর্যটন–সুবিধায় আনা গাড়িবাহী কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর একটি তালিকা তৈরি করেছে। তাতে দেখা যায়, সিংহভাগ গাড়ি রয়েছে ৮৯টি কনটেইনারে। বেশির ভাগ গাড়িই আনা হয় ২০১১ সালে। প্রতিটি গাড়ি রাখা বাবদ বন্দর এখন ভাড়া পাবে কমবেশি ৭৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত গাড়িগুলো বন্দর চত্বরে রাখা বাবদ মোট ভাড়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০ কোটি টাকার বেশি। প্রতিদিন যোগ হচ্ছে আড়াই লাখ টাকা ভাড়া।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এসব গাড়ি নিলামে বিক্রি হলেও এখন আর বন্দরের পাওনা ভাড়া আদায়ের সম্ভাবনা নেই। কারণ, গাড়ি বিক্রির ৮০ শতাংশ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়, আর বন্দর পায় মাত্র ২০ শতাংশ।

জানতে চাইলে বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, নিলামে বিক্রি করেও বন্দরের ভাড়া পাওয়ার আশা নেই, এটা ঠিক। এরপরও গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করা হলে বন্দরের কিছু জায়গা খালি হবে। তাতে বন্দরের পরিচালন কাজ সহজ হবে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন