default-image

অনুমোদনহীন পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংকগুলোর কোনো সেবা দিতে পারবে না, এমনকি কোনো হিসাবও রাখতে পারবে না।

মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার এ নির্দেশনা জারি করেছে। সব ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস), পিএসও এবং পিএসপিকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিং, পিএসপি ও পিএসও সেবা দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে ব্যাংকগুলো কোনো যোগাযোগ রাখতে পারবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, অনুমোদনহীন কমপক্ষে ২০টি প্রতিষ্ঠান দেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সরাসরি এসব সেবা বন্ধের সুযোগ না থাকায় আপাতত ব্যাংকগুলোকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলা হয়েছে। এর আগে ব্যাংকগুলোকে একই চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কয়েকটি ব্যাংক এখনো অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে পিএসপি ও পিএসও লাইসেন্স দিয়েছে। আইপে সিস্টেম ও ডি মানি পেয়েছে পিএসপি লাইসেন্স। আর পিএসও লাইসেন্স আছে আইটি কনসালট্যান্ট, এসএসএল কমার্স ও সূর্যমুখী লিমিটেডের।

এর বাইরে মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএম) দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও কেনাকাটা, বিল পরিশোধ ও লেনদেন সুবিধা দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে ১৬টি ব্যাংক এ সেবা দিচ্ছে। এগুলো হলো ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ, ডাচ্-বাংলার রকেট, ইসলামী ব্যাংকের এম ক্যাশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ইউক্যাশ, সাউথইস্ট ব্যাংকের টেলিক্যাশ, ওয়ান ব্যাংকের ওকে, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাই ক্যাশ, প্রাইম ব্যাংকের প্রাইম ক্যাশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের স্পট ক্যাশ, ট্রাস্ট ব্যাংকের মোবাইল মানি, মেঘনা ব্যাংকের ট্যাপ এন পে। এ ছাড়া রূপালী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, বাংলাদেশ কমার্স, এনসিসি ও যমুনা ব্যাংক দিচ্ছে শিওর ক্যাশ সেবা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এগুলোর বাইরে সব সেবাই অবৈধ। অবৈধগুলোর সঙ্গে ব্যাংকগুলো কোনো সংযোগ রাখতে পারবে না। আর্থিক খাতে দুর্ঘটনা এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত। কারণ, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে পুরো খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়াই কিছু প্রতিষ্ঠান পিএসপি ও পিএসও কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা আইনসিদ্ধ নয়। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম কোনো কারণে বন্ধ হলে বা তাদের গ্রাহকেরা প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ–সংক্রান্ত বৈধ কার্যক্রমের ওপর গ্রাহকদের আস্থা নষ্ট হবে। এ ছাড়া অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কৃত্রিম অর্থ সৃষ্টি করে পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রমে চালাচ্ছে, তাদের জন্য কোনো ব্যাংক কাস্টডিয়ান হিসাব বা ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট সেবা দিতে পারবে না। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো অনুমোদনহীন এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খোলা ও লেনদেন পরিচালনা করতে পারবে না। এ ছাড়া অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পেমেন্ট গেটওয়ে বা মার্চেন্ট এগ্রিগেশন সেবা প্রদান করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0