আইডিআরএর চেয়ারম্যান পদ থেকে এম মোশাররফ হোসেন পদত্যাগ করার পর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ১৫ জুন নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় সাবেক সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারীকে। সংস্থাটিতে আইনবিষয়ক সদস্য হিসেবে বর্তমানে আছেন সাবেক জেলা জজ মো. দলিল উদ্দিন ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মইনুল ইসলাম। নতুন প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে বহু বছর পর সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও সদস্য সব পদ পূরণ হচ্ছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত বছরের ২৩ নভেম্বর আইডিআরএর নন-লাইফ ও লাইফ সদস্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বয়সের শর্ত দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ৬০ বছর। অথচ আইনে বলা আছে, ৬৭ বছর বয়সী যে কেউ এ দুই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পদ দুটিতে নিয়োগ দিতে পরে আরও দুবার বিজ্ঞপ্তি দেয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। একবার বয়স ৬২ পর্যন্ত বাড়ায়, আরেকবার বাড়ায় ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত। তিন দফায় ৪২ জন আবেদন করেছেন বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

নতুন নন-লাইফ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম এক্সপ্রেস ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি প্রভাতী ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ১৯৮৯ সালে রূপালী ইনস্যুরেন্স কোম্পানি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

মো. নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনটি তিনি হাতে পেয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে যোগ দেবেন।’

লাইফ সদস্য কামরুল হাসান এর আগে প্রটেক্টিভ লাইফ ইনস্যুরেন্স, বেঙ্গল ইসলামী লাইফ (সাবেক এনআরবি লাইফ) ও প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্সে কাজ করেছেন। পদ্মা ইসলামী লাইফে ২০১৬ সালে একবার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ অনুমোদন করেও ঋণখেলাপি থাকার কারণে পরে প্রত্যাহার করে নেয় আইডিআরএ। অথচ আইডিআরএর সদস্য হিসেবে এবার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হলো তাঁর নামে।

কবে যোগ দেবেন—মুঠোফোনে আজ বিকেলে জানতে চাইলে কামরুল হাসান কথা বলতে রাজি হননি। ‘আমার নম্বর কোথায় পেলেন’—পাল্টা এমন প্রশ্ন করে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। কিছুক্ষণ পর আবার জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দেন এবং বলেন, ‘একবার যেহেতু কেটে দিয়েছি, বুঝতেই পারছেন, আমি কথা বলতে চাচ্ছি না।’

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হাসান বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন—গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তাঁর নিয়োগ বাতিল করে নতুন কারও নামে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

বছর দশেক আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান পদে এক ব্যক্তির নাম সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমোদিত হওয়ার পরও বাতিল হয়। আবার সাবেক এক অর্থসচিবকে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেও দুদিন পর তা বাতিল করে দেয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন