উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির সদস্য তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর মধ্যে আরও ৪৬টি তাদের অগ্নি, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো ত্রুটির সংশোধন কর্মপরিকল্পনা (ক্যাপ) শেষ করেছে। গত মাসে কারখানাগুলোর ক্যাপ সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে অ্যালায়েন্সের ক্যাপ সম্পন্ন করা সদস্য কারখানার সংখ্যা বেড়ে ১৬৬-তে দাঁড়িয়েছে। ক্যাপ সংশোধন শেষ করার মানে হলো, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এসব কারখানার সংস্কারকাজ শেষ।

এদিকে নতুন করে দুটি পোশাক কারখানার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে অ্যালায়েন্স। সংস্কারকাজে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ার কারণেই কারখানা দুটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে জোট। ফলে অ্যালায়েন্সের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা দাঁড়াল ১৫৮। এসব কারখানা জোটের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ওয়ালমার্ট, টার্গেট, জেসিপেনি, চিলড্রেন প্যালেস, মেসিসহ ২৯টি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের পোশাক তৈরির ক্রয়াদেশ পাবে না।

নতুন করে ক্যাপ সম্পন্ন হওয়া কারখানাগুলো হলো সাভারের অনুরিমা স্পোর্টসওয়্যার, বার্ডস ফেডরেক্স, বার্ডস গার্মেন্টস (ইউনিট-২), বার্ডস আরএনআর ফ্যাশন, দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (ওভেন ইউনিট), বেঙ্গল প্লাস্টিক, মাসকট গার্মেন্টস, মাসকট ফ্যাশন অ্যান্ড মাসকট নিট, ঢাকা ইপিজেডের সাউথ চায়না ব্লিচিং অ্যান্ড ডাইং ফ্যাক্টরি, মিরপুরের রেজাল্টস রিও ডিজাইন, নারায়ণগঞ্জের তৌফিক সোয়েটার, এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং, গাজীপুরের কলোসাস অ্যাপারেল, এভার ফ্যাশন, অ্যাথলেটিক সাপোর্ট, কোস্ট টু কোস্ট, মার্ক ওয়াশ অ্যান্ড ডায়িং, তিভোলী অ্যাপারেল, এইচএমএন ফ্যাশন, লিজ নিটিং অ্যান্ড প্রিন্টিং, লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি, মাশিহাতা সোয়েটার, জিন্নাত নিটওয়্যার, মেডিটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জিন্নাত ফ্যাশনস, বেঙ্গল হারিকেন ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং, ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডায়িং, ইউনিক ডিজাইনারস, চট্টগ্রামের লিজেন্ড প্রিন্টিং, ক্যানপার্ক বাংলাদেশ, ভ্যানগার্ড গার্মেন্টস (ওয়াশিং ডিভিশন), মাডিস্ট (বাংলাদেশ), মাল্টি শাফ, রিদম ফ্যাশন, বেঞ্চমার্ক অ্যাপারেলস, কেডিএস পলি, মার্ক ফ্যাশনওয়্যার (ইউনিট-২), চিটাগং এশিয়ান অ্যাপারেল, ডিএএফ প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরচুন অ্যাপারেলস, চিটাগং নিটওয়্যার, ইনটিমেইট অ্যাপারেলস, তেজগাঁওয়ের আরমানা অ্যাপারেল, মিরপুরের ওপেক্স গার্মেন্টস, জিতা অ্যাপারেলস এবং কাফরুলের পাওয়ার ভিনটেজ ওয়্যার।

অ্যালায়েন্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেমস এফ মরিয়ার্টি এক বিবৃতিতে গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘অ্যালায়েন্সের কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করছে। আগামী বছরের মধ্যেই আমাদের অধিকাংশ কারখানার সংস্কারকাজ শেষ হবে।’

২০১৩ সালের এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে পাঁচ বছরের জন্য ক্রেতাদের দুই জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স গঠিত হয়। উভয় জোটের অধীনে দুই হাজারে বেশি কারখানার অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও ভবনের কাঠামোগত পরিদর্শন শেষ। এখন কারখানাগুলোর সংস্কারকাজ চলছে।

অ্যালায়েন্স আগামী বছরেই তাদের কার্যক্রম গোটাবে। গত মাসে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে এক ই-মেইল বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জেমস এফ মরিয়ার্টি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের পর অ্যালায়েন্স থাকছে না। তবে ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ গত জুনে জানিয়েছে, তারা ২০২১ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কার্যক্রম চালাবে। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো সক্ষমতা অর্জন না করতে পারলে জোটের মেয়াদ আরও ১ বছর বাড়বে।

এদিকে দুই জোটের কার্যক্রম বুঝে নিতে আলাদা প্ল্যাটফর্ম করার উদ্যোগ নিয়েছে বিজিএমইএ। ‘সম্মান’ নামে এই উদ্যোগটির খসড়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। সরকারের সবুজ সংকেতও মিলেছে। বিজিএমইএ সম্মানের মূল পরিকল্পনা করলেও বাস্তবায়ন করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

অ্যালায়েন্সের সঙ্গে গত সোমবার বিজিএমইএর নেতাদের বৈঠক হয়। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, সম্মানের খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যালায়েন্সের কাছে পাঠানোর বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা খসড়া যাচাই-বাছাই করে হয়তো কিছু বিষয় সংযোজন-বিয়োজনের সুপারিশ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0