বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, জরুরি সহায়তা হিসেবে তারা এখনই শ্রীলঙ্কাকে এক কোটি ডলার দেবে। মূলত জরুরি ওষুধসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য কেনার জন্য এই সহায়তা দেবে তারা। কোভিড মোকাবিলায় তারা যে জরুরি তহবিল গঠন করেছে, সেই তহবিল থেকে তারা এই অর্থ স্থানান্তর করবে। রয়টার্স সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ বৈঠক গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেই এই আলোচনা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী সাবরি বলেছেন, ঠিক কত অঙ্কের এই সহায়তা প্যাকেজ দেওয়া হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি, তবে ৫০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে সাবরি সাংবাদিকদের বলেছেন, আইএমএফ মূলত প্রথাগত এক্সটেনডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি নিয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু তিনি মনে করেন, আপৎকালীন সহায়তা হিসেবে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি ডলার প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ভারতের সঙ্গেও ১৫০ কোটি ডলারের অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করছে। মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির ধারা অব্যাহত রাখতে তারা ভারতের কাছ থেকে এই সহায়তা চাইছে। একই সঙ্গে চীন, জাপান ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গেও একই আলোচনা করছে শ্রীলঙ্কা।

ঋণখেলাপি শ্রীলঙ্কার সর্বনাশের মূল কারণ, রাষ্ট্রীয় বন্ড বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাছবিচারহীনভাবে বিক্রি করা। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন করতে দেদার ডলারে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে তারা।

এ ডলারভিত্তিক সঞ্চয়পত্র দেশটির মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় অর্ধেক। রাষ্ট্রীয় রিজার্ভে ডলারের পরিমাণ তলানিতে ঠেকার কারণে এ সঞ্চয়পত্রের কিস্তিভিত্তিক লাভের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার। মূল কথা হলো, যেসব প্রকল্প তারা করেছে, তার কোনোটি কাজে আসেনি।

জরুরি আমদানি ব্যয় মেটাতে ডলারের জন্য এখন শ্রীলঙ্কার সরকার তাই আইএমএফের দ্বারস্থ হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে সঞ্চয়পত্রের সুদের অর্থ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শোধ করবে তারা।

অর্থাৎ শ্রীলঙ্কা প্রাথমিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় বিক্রি করা এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে নেওয়া ঋণের পুনঃ তফসিলীকরণ করছে।

আর চীনের কাছ থেকে নেওয়া শ্রীলঙ্কার ঋণের পরিমাণ তার মোট বৈদেশিক ঋণের মাত্র ১০ শতাংশ। এটা জাপান, এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে আলাদা করে নেওয়া ঋণের সমপরিমাণ।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন