প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণার আড়াই মাসেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে কমে গেছে প্রবাসীদের পাঠানো আয়। গত মাসে প্রবাসীরা দেশে ১৪৮ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। জুলাই মাসেও প্রবাসী আয় এসেছিল ১৫৯ কোটি ডলারের।

তবে গত বছরের আগস্ট বিবেচনায় নিলে এই আগস্টে প্রবাসী আয় কিছুটা বেড়েছে। গত বছর একই মাসে এসেছিল ১৪১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল প্রবাসী আয়ের এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসী আয়ে ২ শতাংশ প্রণোদনা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৬ আগস্ট এ নিয়ে নীতিমালা জারি করে। কিন্তু এখনো কোনো ব্যাংক সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেনি। এতে প্রবাসী আয়ের প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণাও ফল দেয়নি।

জানতে চাইলে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকগুলো এখনো ঠিক করতে পারেনি কীভাবে টাকাটা দেওয়া হবে। আর কীভাবে সরকার থেকে টাকা পাওয়া যাবে। এ জন্য আরও কিছুদিন সময় লেগে যাবে। তবে জুলাই থেকে যেসব আয় আসছে, নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের সবাই প্রণোদনা পাবেন।

সূত্র জানায়, সরকার চলতি অর্থবছরে এই খাতে প্রণোদনা দিতে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। সেই টাকা এখনো বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়নি। এ কারণে ব্যাংকগুলোও প্রণোদনার অগ্রিম টাকা নিতে পারছে না।

জানা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। আর পরের মাস আগস্টে তা কমে হয় ১৪৮ কোটি ২৮ লাখ ডলার। আলোচ্য মাসে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ৩৫ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। আর ৪০টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। ৯টি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ১৮ হাজার ডলার। তবে ইসলামী ব্যাংক একাই এনেছে ২৯ কোটি ৩১ ডলার। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংক ১৬ কোটি এবং ডাচ্‌-বাংলা ও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০ কোটি ডলার করে।

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে প্রবাসীরা সাড়ে ৯ শতাংশ রেমিট্যান্স বেশি পাঠান। পরের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় আসে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0