আগামী এক দশকে ফ্রিজের চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হবে

দেশের রেফ্রিজারেটর শিল্প খাতের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি ইলেক্ট্রো মার্ট। এ খাতের নানা দিক নিয়ে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন ইলেক্ট্রো মার্টের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আফসার

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: দেশে ফ্রিজের বাজার কত বড়?

মোহাম্মদ নূরুল আফসার: দেশে ফ্রিজের চাহিদা ২৫ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি ফ্রিজ দেশেই উৎপাদিত হয়। বাকিগুলো আমদানি করা হয়। শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ও থানার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্রিজের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বছরে কয়েকটি উৎসবের সময়, বিশেষ করে রমজান ও কোরবানির ঈদ ঘিরে সবচেয়ে বেশি ফ্রিজ বিক্রি হয়। সারা বছর যত ফ্রিজ বিক্রি হয়, তার ৫০-৬০ শতাংশই এ সময়েই হয়ে থাকে।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: দেশের বাজারে ইলেক্ট্রো মার্টের অবস্থান কেমন?

আফসার: ইলেকট্রনিকস পণ্যের প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রো মার্টের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮০ সালে। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ প্রতিষ্ঠান ফ্রিজ উৎপাদন ও বিপণন শুরু করে। বর্তমানে কনকা, গ্রি ও হাইকো—এই তিন ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বিক্রি করছে ইলেক্ট্রো মার্ট। ফ্রিজ উৎপাদন ও বিক্রির দিক দিয়ে ইলেক্ট্রো মার্ট দেশের বাজারে বৃহৎ স্থান দখল করে আছে। দেশের বার্ষিক চাহিদার ২৫ শতাংশের বেশি ফ্রিজ আমরা বিক্রি করছি। আমাদের বাজারজাত করা কনকা, গ্রি ও হাইকো ব্র্যান্ডের ফ্রিজ দেশের সর্বত্র বিক্রি হলেও সিটি করপোরেশন ও জেলা শহরগুলোতে চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ইলেক্ট্রো মার্টের পণ্যের গুণগত মান, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও সাশ্রয়ী মূল্যই এর প্রধান কারণ। বর্তমানে আমাদের ফ্রিজ উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় চার হাজার ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাত হাজার লোক যুক্ত আছে। বাজারে ইলেক্ট্রো মার্টের ৭০টির বেশি মডেলের ফ্রিজ আছে। এসব ফ্রিজের দাম সর্বনিম্ন সাড়ে ১২ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশের ফ্রিজ শিল্প খাতে প্রভাব কী?

আফসার: করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশের ফ্রিজ শিল্প খাতে সরবরাহের প্রক্রিয়া কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। যদিও দক্ষ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সেই সংকট মোকাবিলা করা গেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধির কারণে আমাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্যে কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: আগামী এক দশকে দেশের ফ্রিজ শিল্প খাত কতটা সম্প্রসারিত হবে?

আফসার: দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। সরকার ব্যাংকঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করায় ফ্রিজ শিল্প খাতটি বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছে। আশা করছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী ১০ বছরে দেশে ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হবে। তবে এ খাতের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য ভ্যাট ও কর অবকাশসুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। পাশাপাশি ঋণের সুদহার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য জোর সুপারিশ করছি। এই দুটি কাজ করা গেলে ফ্রিজ শিল্প খাত দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। অন্যথায় বিকাশমান খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুনরায় আমদানিনির্ভরতা বাড়বে।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: দেশে প্রচলিত ফ্রিজগুলোতে কী কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে?

আফসার: হিউমিডিটি কন্ট্রোলার, অ্যান্টিফাঙ্গাল ডোর গ্যাস্কেট, ডিজিটাল ডিসপ্লে, ইনভার্টার টেকনোলজিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বাইরেও বিভিন্ন ব্র্যান্ড বিশেষ বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। যেমন কনকা ফ্রিজের ব্লু জোন অ্যান্ড ভিটামিন ফ্রেশ প্রযুক্তি (ফলমূল-সবজি সতেজ রাখে ও ভিটামিন মিনারেল ঠিক রাখে) এবং অ্যাকটিভ কার্বন ডিয়োডোরাইজার (দীর্ঘদিন পর্যন্ত খাবারের স্বাদ-গন্ধ একই রকম রাখে) গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে। হিউমিডিটি কন্ট্রোলার প্রযুক্তি সবজি বাক্সের প্রয়োজনীয় হিউমিডিটি নিয়ন্ত্রিত রেখে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সবজিগুলো সতেজ রাখে, অ্যান্টিফাঙ্গাল ডোর গ্যাস্কেট বাইরের কোনো ফাঙ্গাল ও জীবাণু ফ্রিজের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয় না। ডিজিটাল ডিসপ্লে প্রযুক্তির মাধ্যমে বাইরে থেকে ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আর ইনভার্টার প্রযুক্তি তো ৭১ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয়ী করে দিয়েছে।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: ফ্রিজ কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কী কী সুবিধা দেওয়া হচ্ছে?

আফসার: গ্রাহকেরা প্রায় ৩৫টি ব্যাংকের ক্রেডিট, ডেবিট কার্ডসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ বা মাসিক কিস্তিতে ফ্রিজ কিনতে পারছেন। কোম্পানির যেকোনো বিক্রয় ও প্রদর্শনকেন্দ্র বা অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের কিস্তিতে ফ্রিজ ক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। কম্প্রেসারের জন্য ১০ বছরের ওয়ারেন্টিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন মেয়াদি ওয়ারেন্টি সুবিধা। এ ছাড়া কোম্পানির নিজস্ব সেবাকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিক্রয়-পরবর্তী সেবা দেওয়া হয়। এ জন্য সারা দেশে ইলেক্ট্রো মার্টের প্রায় চার হাজার প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান আছেন।