default-image

করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির সব সূচকই নিম্নমুখী। কিন্তু আমদানি এত কমে গেছে, যা নিকটঅতীতে দেখা যায়নি। প্রবাসী আয় কমলেও এখনো আসছে, রপ্তানি আয়ও কমেছে। তবে বিদেশি অনুদান ও ঋণ আসছে। ঋণপত্র খোলাও অনেক কমে গেছে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় চাপ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে অনেক দেশেই লকডাউন চলছে। এর মধ্যেও দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশিরা আয় (রেমিট্যান্স) পাঠানো অব্যাহত রেখেছেন। তবে তা ধীরে ধীরে কমছে। ১ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৮০ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৭ কোটি ডলার।

আর গত এপ্রিলে প্রবাসীরা ১০৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যার পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় ৯ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ১৪৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।
এদিকে আমদানিও কমছে ব্যাপকভাবে। গত এপ্রিল মাসে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৬০ কোটি ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৫২৬ কোটি ডলার। আর গত মার্চে খোলা হয়েছিল ৪৯৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত এপ্রিলে ঋণপত্র খোলা কমেছে ২৬৮ শতাংশ।

আবার ঋণপত্র নিষ্পত্তিও কমেছে অনেক। গত এপ্রিলে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯৫ কোটি ডলারের, আগের বছরের এপ্রিলে নিষ্পত্তি হয়েছিল ৫০৮ কোটি ডলার। সে হিসাবে ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে ৬২ শতাংশ। গত মার্চে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছিল ৪১৭ কোটি ডলারের।
এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে দেশের পণ্য রপ্তানিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত এপ্রিলে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৫২ কোটি বা ৪ হাজার ৪২০ কোটি ডলারের পণ্য, যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম।
ফলে দেশের আমদানি, রপ্তানি ও প্রবাসী আয়, অর্থনীতির এ তিন সূচকই নাজুক অবস্থার মধ্যে পড়েছে। তবে এরপরও আজ রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৮৪ কোটি ডলার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাসের পুরো প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে পড়েনি। সেটা পুরোপুরি পড়লে সূচক আরও তলানিতে নেমে যাবে। আর সেটা তাড়াতাড়ি ভালো অবস্থায় ফিরবে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0