default-image

দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়কালে ২৯০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে ইপিজেডের প্রতিষ্ঠানগুলো। আগের বছর একই সময়ে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬০ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রথম ছয় মাসের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
বর্তমানে দেশে আটটি ইপিজেড রয়েছে আর ইপিজেডগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হলো বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজা। রপ্তানির পাশাপাশি ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগও এ ছয় মাসে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে বলে জানায় বেপজা।
বেপজার তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি আয়ের বড় অংশই বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর। শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো গত ছয় মাসে প্রায় ২১৭ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলারের সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করে। তার বিপরীতে শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার।
বেপজা জানিয়েছে, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আটটি ইপিজেডে নতুন ও পুরোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২১ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। আগের বছর একই সময়ে এ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ কোটি মার্কিন ডলার।
দেশের আটটি ইপিজেডে বর্তমানে ৪৩৭টি শিল্প-কারখানা চালু ও ১২৩টি চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ইপিজেডগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, কর্ণফুলী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জের আদমজী, নীলফামারীতে অবস্থিত উত্তরা, ঈশ্বরদী ও মংলা ইপিজেড। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে চট্টগ্রাম ইপিজেডে, এর পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এর বাইরে ঢাকায় প্রায় ৫ কোটি, আদমজীতে ৩ কোটি ২১ লাখ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে প্রায় ৩ কোটি, উত্তরা ও কুমিল্লা ইপিজেডে ১ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে।
বেপজার মহাব্যবস্থাপক নাজমা বিন্তে আলমগীর গত সোমবার প্রথম আলোকে জানান, ইপিজেডগুলোর রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে। এ খাতের মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫৬ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ কোটি ডলার বেশি।
রপ্তানি আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। এ খাতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে তিন কোটি মার্কিন ডলার বেশি। এ ছাড়া তৈরি পোশাক অ্যাকসেসরিজ খাতে রপ্তানির পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে চার কোটি ডলার বেড়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে হয়েছে ২৭ কোটি ডলার। পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে প্রায় ১৬ কোটি ডলার আয় হয়েছে।
তবে রপ্তানি আয় কমেছে নিট খাতে। এ খাত থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২২ কোটি ২৭ লাখ ডলারেরও বেশি।

ইপিজেডে ছয় মাসের রপ্তানি চিত্র (জুলাই–ডিসেম্বর ২০১৪)

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি
১১.৭২%
বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ১২.১৭%
চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আটটি ইপিজেডে বিনিয়োগ হয়েছে ২১ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ
ছিল প্রায় ১৯ কোটি ডলার
প্রধান কয়েকটি খাত
তৈরি পোশাক
১৫৬ কোটি ডলার
বস্ত্র খাত
২৯ কোটি ডলার
পোশাক খাতের সরঞ্জাম
২৭ কোটি ডলার
পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য
১৬ কোটি ডলার

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন