উত্তরা ফাইন্যান্স সূত্র জানায়, ৩০ জুন ছিল এস এম শামসুল আরেফিনের শেষ কর্মদিবস। ফলে চাকরি শেষের ঠিক এক সপ্তাহ আগে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়, উত্তরা ফাইন্যান্সে সংঘটিত ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও আমানতকারীদের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপে যুক্ত থাকায় এস এম শামসুল আরেফিনকে এমডি পদ থেকে অপসারণ করা হলো। পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উত্তরা ফাইন্যান্সকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ নিয়ে এস এম শামসুল আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সুবিধা নেওয়ার মতো ব্যক্তি নই, যেসব অভিযোগ উঠছে, এর কোনোটার সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। আমি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আপিল করব।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসে, উত্তরা ফাইন্যান্সের ২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে মার্চেন্ট ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের মার্জিন ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯৭ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে ৩৫০ কোটি টাকা জমা হয়েছে উত্তরা ফাইন্যান্সের বিভিন্ন পরিচালকের ব্যাংক হিসাবে। কোনো ধরনের আবেদন, প্রস্তাব বা অনুমোদন ছাড়া পরিচালকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এর বাইরে উত্তরা মোটরস ও উত্তরা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৩৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যার কোনো অনুমোদন নেই। উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান রাশেদুল হাসান প্রাপ্যতার বাইরে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির এমডি এস এম শামসুল আরেফিন অনুমোদন ছাড়াই ব্যবস্থাপনা ব্যয় শিরোনামে ২৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে এমডির পক্ষে সাউথ ব্রিজ হাউজিংকে ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা, বে ডেভেলপমেন্টকে ১ কোটি টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ি কিনতে ডিএইচএসকে ৫০ লাখ টাকা ও উত্তরা মোটরসকে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন