বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঢাকায় কয়েকটা ভাগাভাগির বা ভাড়াভিত্তিক কার্যালয়ের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও ধারণাটি এখনো খুব জনপ্রিয়তা পায়নি। ইউশরা খোঁজ নিয়ে জানলেন, তাঁর নিজের এলাকা উত্তরায় এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তাই ২০১৯ সালে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের জসীমউদ্‌দীন অ্যাভিনিউর উত্তরা টাওয়ারের পঞ্চম তলায় তিন হাজার বর্গফুট জায়গা নিলেন তিনি। ট্রেড লাইসেন্স করলেন ‘ওয়ার্কস্টেশন ১০১’ নামে। শুরু করলেন অফিস বা কার্যালয় সাজানোর কাজ। উদ্দেশ্য, নতুন উদ্যোক্তা ও ঘুরে ঘুরে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জন্য ইন্টারনেট, চা-কফি, ক্লান্তি দূর করা, খেলার আয়োজনসহ নানা সুযোগ-সুবিধাসংবলিত বসার স্থানের ব্যবস্থা করা। সাজসজ্জার কাজ চলা অবস্থাতেই ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম গ্রাহক পেয়ে গেলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলেন ‘ওয়ার্কস্টেশন ১০১’-এর কাজ।

নতুন উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে ওয়ার্কস্টেশন ১০১-এ রয়েছে স্বল্প সময়ের জন্য (ঘণ্টা বা দিন হিসেবে) হট ডেস্ক, ডেডিকেটেড ডেস্ক, প্রিমিয়াম ডেডিকেটেড ডেস্ক, ব্যক্তিগত কার্যালয়, ভার্চ্যুয়াল কার্যালয়, সভাকক্ষ, সম্মেলনকক্ষ এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান ভাড়ার সেবা। শুক্রবার সেখানে আয়োজন করা হয় বিশেষ ইভেন্ট বা অনুষ্ঠান। সেখানে সহায়ক সেবা রয়েছে। হট ডেস্কের ভাড়া ঘণ্টায় ১০০ টাকা, ১২ ঘণ্টার জন্য ৭০০ টাকা। আর ৪০ ঘণ্টার জন্য ২ হাজার টাকা। এ ছাড়া মাসে ৮ হাজার টাকায় ডেডিকেটেড ডেস্কও ভাড়া নেওয়া যায়। এই ঠিকানা ব্যবহার করে নতুন উদ্যোক্তারা তাঁদের ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্রও তৈরি করতে পারেন।

গত বছরের জানুয়ারিতে ওয়ার্কস্টেশন ১০১-এর কাজ শুরু হওয়ার কয়েক মাস না যেতেই করোনার হানা। আলাপকালে ইউশরা বলেন, ‘করোনা আসার পর আমি ভাবলাম, সব শেষ। করোনার মধ্যে কে কার্যালয় ভাড়া নিতে আসবেন। কিন্তু করোনার প্রথম ধাক্কার পর দেখা গেল, অনেকেই আগ্রহী। অনেকেই খরচ বাঁচাতে নিজেদের বড় বড় কার্যালয় ছেড়ে আমাদের এখানে উঠেছেন।’

ফলে করোনার মধ্যেও নতুন করে উত্তরা টাওয়ারের ছয়তলায় আরও ৩ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গা নিলেন ইউশরা। এর মধ্যে ব্যক্তিগত কার্যালয় ও ভার্চ্যুয়াল কার্যালয়ের চাহিদাও বেড়ে যায়। কারণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ওয়ার্কস্টেশন ১০১-এ যে খরচ পড়ে, তা নিজস্ব কার্যালয়ের খরচের চেয়ে অনেক কম। বর্তমানে দেশি-বিদেশি ৫০টি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্কস্টেশন ১০১-এর সেবা নিচ্ছে। সেবাগ্রহীতার তালিকায় রয়েছেন কয়েকজন ফ্রিল্যান্সারও।

হলিক্রস স্কুল, রাজউক কলেজ হয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে হিসাববিজ্ঞান স্নাতক ও মাস্টার্স ইন এডুকেশন সম্পন্ন করেছেন। নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পাশাপাশি নিজেও ‘চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব’ প্ল্যাটফর্ম থেকে পেয়েছেন নবীন উদ্যোক্তা স্মারক ২০২০।

বাংলাদেশে কো-ওয়ার্কিং স্পেস বা ভাগাভাগির অফিস ধারণাটা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে নতুন উদ্যোক্তাদের আইনি বাধ্যবাধকতা সহজ করা এবং তাদের পাশে আরও সেবা নিয়ে থাকতে চান ইউশরা নাশমিন।

উদ্যোক্তা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন