বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ সময় শাহিনুর ইসলাম বলেন, নারী উদ্যোক্তা মাসুমা ইসলামের সাফল্য নিয়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও রাকাবের তৎকালীন এমডি মো. ইসমাইল হোসেনের নজরে আসে। তাঁরা এই নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর ব্যবসার পরিধি বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সে অনুযায়ী মাসুমাকে কোনো জামানত ছাড়াই পাঁচ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে রাকাব। এই ঋণের জন্য তাঁকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে।

মাসুমা ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, জাপানে পণ্য রপ্তানির জন্য ইতিমধ্যে তিনি পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) থেকে সনদ নিয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর আরএম ফুড কর্নারের উৎপাদিত ঘিয়ের প্রথম চালান জাপানে পাঠানো হবে। মাসুমা আরও জানান, এর আগেও তিনি যুক্তরাজ্যের বাজারে পণ্য রপ্তানির প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু বিএসটিআই সনদ না থাকায় ও পুঁজির সংকটের কারণে তখন পণ্য পাঠাতে পারেননি। এখন বিএসটিআইর সনদের পাশাপাশি রাকাব থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ পাওয়ায় বিদেশে পণ্য রপ্তানির বাধা কেটেছে।

বর্তমানে বগুড়া শহরের সিও অফিস কইগাড়ি এলাকায় থাকেন মাসুমা ইসলাম। তাঁর স্বামী রাজিবুল ইসলাম শহরের তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনে সহকারী হিসাব ব্যবস্থাপকের পদে চাকরি করতেন। কিন্তু গত বছরের এপ্রিলে করোনার সংক্রমণের কারণে বিধিনিষেধ শুরু হলে হোটেলটি বন্ধ হয়ে যায়। তাতে চাকরি হারান রাজিবুল ইসলাম। স্ত্রী মাসুমা, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে রাজিবুলের পাশে দাঁড়ান স্ত্রী মাসুমা। বাড়িতে নানা রকম আচার বানানো শুরু করেন তিনি। করোনার কারণে আচার বিক্রির জন্য কোনো দোকান ভাড়া নিতে পারেননি। তাই অনলাইনে পণ্য বিক্রি করতে শুরু করেন। অল্প দিনেই ভালো সাড়া পান। আচার বিক্রির অর্ডার, তথা ক্রয়াদেশ বাড়তে থাকে। স্বামী রাজিবুলও এসে পাশে দাঁড়ান। বাড়িতে গড়ে তোলেন আচারের কারখানা।

মাসুমা জানান, শুরুতে আম, জলপাই, বরই, আমলকী, রসুন ও মরিচের আচার তৈরি করে বিক্রি করতেন। তবে সবচেয়ে বেশি ঝড় তোলে গরুর মাংসের আচার। অল্প দিনেই ব্যাপক সাড়া মেলে। এখন সারা দেশ থেকে ক্রয়াদেশ আসছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। মাসে গড়ে ১০০ কেজি গরুর মাংসের আচার বিক্রি হয়। প্রতি কেজি এক হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এ ছাড়া প্রতি মাসে ৫০ কেজি রসুনের আচার ও ১০০ কেজি ঘি বিক্রি হয়। এভাবেই করোনার মধ্যে চলছে মাসুমা-রাজিবুলের বাণিজ্য। তাঁরা নিজেদের ব্র্যান্ডের নাম দিয়েছেন আরএম ফুড কর্নার।

নারী উদ্যোক্তা মাসুমা ইসলাম বলেন, মুঠোফোন প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজিবুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর প্রথমে পরিচয় ও পরে বিয়ে হয়। করোনার কারণে রাজিবুলের চাকরি চলে গেলে অনলাইন নামের প্রযুক্তি সেবাই তাঁদের থমকে যাওয়া জীবনে আবার চলার পথ দেখায়। করোনা স্বামীর চাকরি কেড়ে নিলেও, প্রযুক্তি তাঁদের উদ্যোক্তা বানিয়েছে।

মাসুমা আরও বলেন, অনলাইনে পণ্য বিক্রি করে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন। পেয়েছেন উইমেন ইন্টারপ্রেনার অর্গানাইজেশন (উই) থেকে সফল উদ্যোক্তার সম্মাননা। গত শনিবার রাজধানীতে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ঘি এবং আচার কেনার জন্য আগ্রহ জানিয়েছে দেশের নামীদামি সুপার শপ ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো।

উদ্যোক্তা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন