বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অম্বরের শুরুটা ২০১৭ সালে। দেশি কাপড়ে নিজস্ব নকশায় ভিন্ন কিছু করার আগ্রহ নিয়েই শুরু তার ব্যবসা। প্রথমে টাঙ্গাইলের তাঁতিদের কাছ থেকে শাড়ি এনে নকশা করতেন শ্রাবণী। পরে মেয়েদের কামিজের ওপর নকশা করা শুরু করেন। ফার্মাসিতে পড়লেও ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশন ডিজাইনে প্রতি ছিল তাঁর ব্যাপক ঝোঁক। সেই আগ্রহ থেকেই চাকরি ছেড়ে কাপড় নিয়ে কাজ শুরু করলেন। প্রতিষ্ঠানের নামও দিলেন অম্বর, মানে কাপড়। আর অম্বরের পোশাক মানে ‘দেশি দেশি, বেশি বেশি’।

শ্রাবণী রায় বলেন, প্রথমে বাসার আশপাশে পরিচিতজনেরা পোশাক কিনতেন। ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পেজ চালুর এক মাস পর প্রথম ক্রয়াদেশ পান। শুরুতে তেমন সাড়া না পেলেও, ধৈর্য হারাননি শ্রাবণী। অপেক্ষা করেছেন। পরিবারে কারও ব্যবসার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই সবকিছু শ্রাবণীকে কাজ করতে করতে শিখতে হয়েছে। প্রথম পণ্য ডেলিভারি দিয়েছেন মিরপুর থেকে ধানমন্ডিতে নিজে গিয়ে। আবার পণ্য সরবরাহ করার পরও টাকা না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিজের ডিজাইন নিয়ে আলাদা আলাদা কারখানায় কাপড়ের প্রিন্ট, সেলাই, ডায়িং, সুতার কাজ করান তিনি। এতে অনেক সময় লাগে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দৌড়াতে হয়। পরিশ্রম অনেক বেশি। তবু হাল ছাড়তে নারাজ তিনি। এখন তাঁর ফেসবুক পেজে ফলোয়ারের সংখ্যা সোয়া লাখের কাছাকাছি।

একটু একটু করে আম্বরের ব্যবসা বাড়ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে সন্তানের মা হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর করোনার আঘাত। সব মিলিয়ে বেশ কিছুদিন ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়। এ বছর আবার শুরু করেন থমকে যাওয়া ব্যবসা। নতুন করে চালু করেছেন ফেসবুক পেজ। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর পড়াশোনা শুরু করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনে (এনআইডি)। জানুয়ারিতে মিরপুরে নিজেদের নতুন স্টুডিও দিয়েছেন। এখন কালশীতে একটি কারখানা ভাড়া নিয়ে নিজেদের পোশাক তৈরি করেন। ওই কারখানায় ১০০ জনের বেশি শ্রমিক দিন-রাত কাজ করেন। নরসিংদী থেকে তাঁতিদের হাতে বোনা দেশি কাপড় কিনে এনে তার ওপর নিজেরা নকশা করেন। বর্তমানে দুটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও অম্বরের পোশাক বিক্রি হয়। সেখান থেকে দেশের বাইরের গ্রাহকেরাও পোশাক কিনতে পারেন। এ ছাড়া ঢাকার বাইরেও অম্বরের বিক্রি অনেক ভালো বলে জানান শ্রাবণী। আগামী বছর অনলাইনে নিজেদের আলাদা সাইট খোলার ইচ্ছা আছে তাঁর। এ ছাড়া বাচ্চাদের জন্য পোশাক তৈরির কাজ শুরু করবেন।

শ্রাবণী রায় বলেন, ‘চার বছরের পথচলায় অনেকবার হতাশা ভর করেছে মনে। নিজেই আবার সে হতাশা কাটিয়ে উঠেছি হাল না ছাড়ার সংকল্পে।’ শ্রাবণী বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের সব সময় প্রতিটি লেনদেনের কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ থাকাটা জরুরি। এ ছাড়া মনে রাখতে হবে, ক্রেতা হলেন ব্যবসার প্রাণ। তাই ক্রেতার প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে সব সময়।

উদ্যোক্তা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন