মৃত্যুর আগে আবুল খায়ের যেন উত্তরসূরিদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার বীজ বুনে গিয়েছিলেন। তাঁর সন্তানেরা সেখান থেকে কঠোর পরিশ্রমে আবুল খায়ের গ্রুপকে নিয়ে গেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে ২০২০ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে আয়ের দিক থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এমন ২৩টি কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ। ওই প্রতিবেদনে যাদের বার্ষিক আয় দেখানো হয় ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। যদিও এখন গ্রুপটির বার্ষিক আয় আরও অনেক বেশি।

আবুল খায়ের গ্রুপ বর্তমানে শিল্পের অনেক খাতেই নেতৃত্ব দিচ্ছে। কয়েকটা উদাহরণই যথেষ্ট। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় সিমেন্ট কারখানা শাহ সিমেন্ট আবুল খায়ের গ্রুপের। ঢেউটিনের বাজারেও তারা শীর্ষে আছে গরু মার্কা ঢেউটিন ব্র্যান্ড নিয়ে। আবার রডের বাজারে একেএস ব্র্যান্ডের অবস্থান দ্বিতীয়। দ্রুততম সময়ে স্যানিটারি পণ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে তাদের ব্র্যান্ড স্টেলা। মার্কস ব্র্যান্ডের গুঁড়ো দুধসহ অনেক খাদ্যপণ্যে শীর্ষ অবস্থানটি তাদের। তাদের চায়ের ব্র্যান্ড সিলন বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে।

দোকানের চাকরি দিয়ে শুরু

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের নাটেশ্বর গ্রামের সেরাজুল হকের তিন সন্তানের মধ্যে মেজ আবুল খায়ের। ব্রিটিশ আমলে ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা করেন। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে নবম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় গ্রামের পরিচিত এক ব্যক্তির হাত ধরে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে আসেন তিনি। সেটি ১৯৪৬ সালে। সেখানে গাফফার সাহেব নামের এক ব্যক্তির মুদিদোকানে চাকরি নেন। মাস শেষে যা বেতন পেতেন, খরচের জন্য রেখে বাকিটা বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন। এভাবে কয়েক বছর চাকরি করেন। মুদিদোকানে চাকরি করে নিজের দোকান করার স্বপ্ন জাগে তাঁর। বাবা সেরাজুল হককে সে কথা জানালেন। তাঁর বাবা ছেলের আশা পূরণের জন্য গ্রামে জমি বেচে ছেলের হাতে কিছু টাকা তুলে দেন। ১৯৫০-৫১ সালের দিকে পাহাড়তলী বাজারে মনিহারি পণ্যের দোকান দেন আবুল খায়ের। সে সময় পাহাড়তলীতে হজ ক্যাম্প চালু হয়। হাজিরা ক্যাম্প থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে জাহাজে করে হজ করার জন্য সৌদি আরব যেতেন। হাজিদের আনাগোনায় দুই বছরে দোকানের ব্যবসায় বেশ লাভ হয়। তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল আরও বড়।

বিড়ি কারখানা দিয়ে শিল্পের হাতেখড়ি

সে সময় পাট, বিড়িশিল্প, ইটভাটা ও হস্তচালিত তাঁতের কারখানার চল। আবুল খায়ের দেখলেন, হাতে বানানো বিড়ির চল সে সময়। দোকানের লাভের টাকায় পাহাড়তলী বাজারেই ১৯৫৩ সালে দুজন কর্মী নিয়ে বিড়ি বানাতে শুরু করেন তিনি। নিজেই আবার সেই বিড়ি বিক্রি করতেন। নাম দেন ‘৪২ নং আবুল বিড়ি’। শুরুতে টেন্ডু পাতা দিয়ে বিড়ি বানানো হতো। পরে কুম্ভ পাতা দিয়ে শুরু হয় বিড়ি বানানো। পাতা সেদ্ধ করে একটু নরম হলে তামাক মুড়িয়ে বিড়ি বানানো হতো। এরপরে কাগজ দিয়ে।

বিড়ির ব্যবসা জমে ওঠে। ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে ফেনীর পাঁচগাছি, নোয়াখালীর চৌমুহনী ও কুমিল্লার লাকসামেও বিড়ির কারখানা দেন। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় হারাগাছ থেকে তামাকপাতা সংগ্রহ করতেন তিনি। পরে সেখানেও প্রক্রিয়াজাত কারখানা গড়ে তোলেন।

বিড়ির কারখানা সম্প্রসারণের আগে সে সময়ে ইটভাটাও গড়ে তুলেছেন। ১৯৬৪ সালে সীতাকুণ্ডের মাদামবিবির হাট এলাকায় জমি কিনে ইটভাটা গড়ে তোলেন। দুই-তিন বছর পর সেই ইটভাটা বন্ধ করে খুলশীতে মুরগি ফার্মের কাছে ৪৫ একর জমি কিনে ইটভাটা দেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত এই ইটভাটা চালু ছিল।

শিল্পকারখানার পরে আমদানি বাণিজ্যে মনোনিবেশ করেন আবুল খায়ের। ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রামে তখন আমদানি বাণিজ্যে অবাঙালিদের দাপট। বাঙালিরা অবাঙালিদের এজেন্সিতে চাকরি করতেন। সে সময়ে খাতুনগঞ্জের অদূরে জেল রোডে প্রতিষ্ঠান খুলে পণ্য–বাণিজ্যের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন তিনি।

জেল রোডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটিতে শুরুতে ৪২ নং আবুল বিড়ি বিক্রি হতো। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতারা পাইকারি দরে বিড়ি নিয়ে যেতেন। ধীরে ধীরে বিড়ির সরঞ্জামও বিক্রি শুরু হয়।
পরে ব্যবসা বড় করার সিদ্ধান্ত নিলেন। করাচি থেকে লাইসেন্স এনে ব্যবসা করতে হতো সে সময়। ধীরে ধীরে আবুল খায়ের ইস্পাতের পাত, সিমেন্ট, নারকেল তেল, গুঁড়ো দুধ, সিগারেটের কাগজ আমদানির ব্যবসায় যুক্ত হন। এখনো গ্রুপের আমদানি বাণিজ্য পরিচালিত হয় পুরোনো এই ভবন থেকে। পুরোনো ভবনটির দোতলায় এখনো গ্রুপটির আমদানি বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিড়ির কারখানা, আমদানি বাণিজ্য কিংবা ইটভাটা গড়ে তুলে থেমে যেতে চাননি আবুল খায়ের। নতুন নতুন শিল্পকারখানা করাই যেন তাঁর নেশা। ১৯৬৮ সালে পাহাড়তলী বাজারের কাছে জমি কিনে লুঙ্গি কারখানা করেন। নাম দেন শিশমহল। সে সময় শিশমহল লুঙ্গি খুব জনপ্রিয় ছিল। তবে ১৯৭৩ সালে সুতার অভাবে লুঙ্গির কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। তবে জায়গা ফেলে রাখেননি। পাহাড়তলী বাজার থেকে বিড়ির কারখানা সরিয়ে কাছাকাছি লুঙ্গির কারখানায় সম্প্রসারণ করেন।

দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭৪ সালে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে সিনেমা হলে বিনিয়োগ করেন। রূপভারতী নামের সেই সিনেমা হল ২০০৩ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। তবে আবুল খায়েরের কনিষ্ঠ সন্তান শাহ্ রফিকুল ইসলামের (টিটু) মৃত্যুর পরদিনই পারিবারিক সিদ্ধান্তে সিনেমা হল ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অল্প বয়সে ডায়াবেটিস দানা বাঁধে শরীরে। আবুল খায়ের তবু থেমে থাকতে চাননি। সাগরিকায় টেক্সটাইল কারখানা করার জন্য আবেদন করেছিলেন। সে সময় ধীরে ধীরে বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। উদ্যোক্তারা শিল্প খাতে পা রাখতে শুরু করেছিলেন। তবে বড় স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই মাত্র ৪৯ বছর বয়সে ১৯৭৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন আবুল খায়ের। এ সময় বিড়ির চার কারখানা, ইটভাটা, সিনেমা হল ও জেল রোডে ট্রেডিংয়ের ব্যবসা ছিল তাঁর। শিল্পকারখানা গড়ে তোলার জন্য জমিও রেখে যান।

টিকিয়ে রাখার লড়াই

আবুল খায়ের যখন মারা যান, তখন বড় সন্তান আবুল কাশেম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়তেন। আবুল খায়েরের স্ত্রী মাছুদা বেগম তখন দিশেহারা। একদিকে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা, অন্যদিকে আট ছেলেমেয়ের পড়াশোনা। সব মিলিয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েন তিনি। এ অবস্থায় বড় ছেলে আবুল কাশেম পড়াশোনার পাশাপাশি যুক্ত হন ব্যবসায়। গৃহিণী থেকে মাছুদা বেগম প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক গাজীউল হক ও আবুল খায়েরের ছোট ভাই আবুল হোসেন ব্যবসা টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ান।

কয়েক বছরের মাথায় আবুল খায়েরের রেখে যাওয়া শিল্প ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন উত্তরসূরিরা। এরপর তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। সে সময় রাষ্ট্রমালিকানাধীন কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল। দেশে বেসরকারীকরণ শুরুর দ্বিতীয় ধাপে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের নাছিরাবাদ শিল্প এলাকায় বালাগাম ওয়ালা ভেজিটেবল প্রোডাক্টস কারখানা তাদের মালিকানায় আসে।

উত্তরসূরিদের এগিয়ে যাওয়া

বিড়ির কারখানা মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল আবুল খায়েরের। তাঁর উত্তরসূরিদের ক্ষেত্রে ছিল বালাগাম ওয়ালা ভেজিটেবল প্রোডাক্টস কারখানা। এই কারখানায় সয়াবিন তেল, শর্ষে ও ঘি তৈরি হতো। পরে একই কারখানায় নারকেল মাড়াই করে তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

বড় ছেলে আবুল কাশেম তত দিনে ব্যবসায় বেশ অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। সয়াবিন তেলের কারখানায় ভালো মুনাফা হয়। কারণ, সে সময় চট্টগ্রামে ভোজ্যতেলের কারখানা ছিল হাতে গোনা। এক দশকে ভালো আয় হয় এই কারখানা থেকে। বড় সন্তানের পর ব্যবসায় যুক্ত হন আবুল খায়েরের দ্বিতীয় সন্তান আবুল হাশেম। পরবর্তীকালে ব্যবসায় যোগ দেন আবু সাঈদ চৌধুরী, শাহ্ শফিকুল ইসলাম ও শাহ্ রফিকুল ইসলাম। আগের ব্যবসা আর নতুন শিল্প মিলে বড় হওয়ার পথ তৈরি করে দেয় আবুল খায়ের গ্রুপকে।

বিনিয়োগ থেকে লাভের টাকায় নতুন শিল্প গড়ায় মনোযোগ দেন সন্তানেরা। বাবার মতো সন্তানদেরও ছিল শিল্পকারখানা গড়ার অদম্য স্পৃহা। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে ফেনীর মহিপালে ইলিয়াছ ব্রাদার্স থেকে ঢেউটিন কারখানা কিনে নেন। এক বছর পর বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের নাছিরাবাদে জি এম স্টিল লিমিটেডের মালিকানা আসে আবুল খায়ের গ্রুপের হাতে। সেখানে কনডেন্সড মিল্ক ও গুঁড়ো দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ হয়। পুরোনো কারখানা সরিয়ে ১৯৯৭ সালে সীতাকুণ্ডের মাদামবিবির হাটে দেওয়া হয় ঢেউটিনের বড় কারখানা। বিড়ির পর ১৯৯৮ সালে সিগারেট উৎপাদন শুরু করে গ্রুপটি।

বড় শিল্পে রূপান্তর

আবুল খায়েরের উত্তরসূরিদের ভারী শিল্পে হাতেখড়ি হয় ১৯৯৩ সালে। ঢেউটিন দিয়ে শুরুর পর সেই দশকে ঢেউটিন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। কারখানা বড় করেছেন। পুরোনোদের ছাড়িয়ে শীর্ষে নিয়ে গেছেন আবুল খায়ের গ্রুপের ঢেউটিনের ব্র্যান্ড গরু মার্কা ঢেউটিনকে। ২০০২ সালে সিমেন্টশিল্পে যুক্ত হয় এ গ্রুপ। মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে সিমেন্ট কারখানায় বিনিয়োগ করে তারা। ২০১৮ সালে ডেনমার্কের এফএলস্মিথ প্রযুক্তিতে বিশ্বের একক বৃহত্তম ভার্টিক্যাল রোলার মিল (ভিআরএম) স্থাপন করে শাহ্ সিমেন্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পায়। বছরে অর্ধকোটি টন সিমেন্ট উৎপাদিত হয় এই কারখানায়। ২০০৪ সালে চা বিপণনে যুক্ত হয় গ্রুপটি। চায়ের বাজারে শতবর্ষী অনেক প্রতিষ্ঠানকে ছাড়িয়ে খুব দ্রুত দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে গ্রুপটির সিলন ব্র্যান্ডের চা।

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি সীতাকুণ্ডে রড তৈরির কারখানায় বিনিয়োগ করে। দেশে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস পদ্ধতিতে রড উৎপাদন শুরু করে তারা। বার্ষিক ১২ লাখ টন রড উৎপাদনের এই কারখানার উৎপাদন দিয়ে একেএস ব্র্যান্ড বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসতে খুব বেশি সময় নেয়নি। ২০১১ সালে সিরামিকস শিল্পেও বিনিয়োগ করে তারা। ফেনীর মহিপালে ঢেউটিনের পুরোনো কারখানায় ম্যাচ কারখানা গড়ে তুলেছেন উত্তরসূরিরা। সমুদ্র ও নৌপথে নিজস্ব জাহাজ ও নৌযানের পাশাপাশি সড়কপথে পণ্য পরিবহনে এই প্রতিষ্ঠানের বড় বিনিয়োগ রয়েছে।

শূন্য থেকে শীর্ষে

আবুল খায়েরের মৃত্যুর পর থেকে সন্তানেরা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেন। বড় ছেলে আবুল কাশেম এখন গ্রুপ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয় ছেলে আবুল হাশেম আছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে। তৃতীয় ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চতুর্থ ছেলে শাহ শফিকুল ইসলাম পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রুপের হাল ধরা চার সন্তানই পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। আবুল খায়েরের মৃত্যুর পর পড়াশোনা অবস্থায় যুক্ত হয়েছেন গ্রুপের ব্যবসা-বাণিজ্যে। অক্লান্ত পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার কারণে তাঁরা যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেখানেই সফল হয়েছেন।

আবুল খায়ের গ্রুপের হাত ধরে কর্মসংস্থান হয়েছে ৫০ হাজার মানুষের। গত অর্থবছরে গ্রুপটি শুল্ক, কর ও মূসক সব মিলিয়ে সরকারকে রাজস্ব দিয়েছে ৬ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর মিলে গত অর্থবছরের সরকারের যত রাজস্ব আদায় হয়েছে, তার আড়াই শতাংশ দিয়েছে গ্রুপটি। শুধু কর্মসংস্থানই নয়, করোনাকালে পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের মানুষের। দেশে যখন অক্সিজেনের সংকট, তখন দ্রুত গ্রুপটি সারা দেশে ১৭টি অক্সিজেন ব্যাংক স্থাপন করে করোনা রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কারখানায় উৎপাদিত অক্সিজেন বিনা মূল্যে বিতরণ করেছে। সমাজের কল্যাণে কাজের শুরুটাও করেছিলেন আবুল খায়ের। নিজ গ্রামে স্কুল গড়ে তুলেছিলেন।

এত বড় শিল্প গ্রুপ হওয়ার ভিত্তিটা যেন তৈরি করে রেখেছিলেন আবুল খায়ের। ১৯৬৮ সালে পাহাড়তলীতে আবুল খায়েরের গড়ে তোলা লুঙ্গি ও বিড়ি কারখানায় এখন আবুল খায়ের গ্রুপের প্রধান কার্যালয়। ১৯৬৪ সালে তাঁর কেনা জমির সঙ্গে প্রয়োজনীয় জমি কিনে ভাটিয়ারীতে সন্তানেরা পরে প্রতিষ্ঠিত করেন ঢেউটিন কারখানা। আবুল খায়েরের কেনা জমির পাশে ২০০৯ সালে রডের কারখানা গড়ে তুলেছেন সন্তানেরা। কুমিল্লার লাকসামে বিড়ি কারখানার জায়গা সম্প্রসারণ করে ১৯৯৮ সালে সিগারেট কারখানা গড়ে তুলেছেন। খুলশীতে ইটভাটার জায়গায় এখন রড ও চায়ের গুদাম। আবুল খায়ের পণ্যের ট্রেডিং শুরু করেছিলেন ১৯৬৫ সালে, জেল রোডে। তাঁর সন্তানেরা শিল্পের পাশাপাশি এখন বহুগুণ বড় করেছেন ট্রেডিংও। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত পাথর আমদানি। শিল্পে রূপ দিতে করেছেন রেডিমিক্স কারখানাও। সবকিছুর যেন বীজ বপন করে দিয়েছিলেন বাবা। সেটিকেই চারাগাছ থেকে মহীরুহে রূপান্তর করেছেন সন্তানেরা।