বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জের জিয়া হলে বসে সিসি ক্যামেরা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সব কেন্দ্রের নজরদারিতে ছিলেন তিনি।

দুই মাস আগে আগুন লাগা সেজান জুস কারখানায় নতুন করে নিরাপত্তাব্যবস্থার কাজটি করছেন জাকির উদ্দিন। রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল জেডএম ইন্টারন্যাশনাল। অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিতে বিভিন্ন উপকরণের সরবরাহ করা হয় তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সারা দেশে যে ৪৬ হাজার কারখানা পরিদর্শন করা হবে, সেখানকার কর্মপরিবেশের ধরন কী হবে, সেটি ঠিক করার দায়িত্বও তাঁর কাধে।

জাকির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২০০০ থেকে ঢাকায় আসার পরের তিন বছর নানা চড়াই–উতরাই পেরিয়ে চাকরি করে গেছেন। এরপর একটা গৃহ নন্দনশৈলী ফার্মে যোগ দেন। সেখানে দায়িত্ব ছিল প্রসাধনী কাজে তদারকি করা। বেতন ধরা হলো পাঁচ হাজার টাকা। সেখানে কেটে গেল দেড় বছর। একটা সময় ভাবলাম, আমি যেহেতু স্থপতি নই, জগৎটা আমার নয়। তাই চাকরিটা ছেড়ে দিলাম।’

তারপর যোগ দেন একটি মুঠোফোন কোম্পানির গ্রাহক সেবা বিভাগে। সেখানে বেতন ঠিক হয় সাড়ে চার হাজার টাকা। তিন বছর চাকরি করার পর মুঠোফোন কোম্পানির চাকরিটাও ছেড়ে দেন তিনি। তারপর যোগ দেন নকিয়া কেয়ারে। একসময় এ চাকরিটাও ছেড়ে দেন। বাসার সবাই বলছিল কেন চাকরি ছেড়েছি। ছয় মাস বেকার ছিলেন।

ছয় মাস বেকার থেকে তারপর ম্যাপেল কেয়ার মুঠোফোন কোম্পানিতে যোগ দেন। সেখানেও মন বসল না।

২০০৯ সালে মনে হলো চাকরি হবে না। নিজে কিছু একটা করব। তখন সারা দেশে শিল্পকারখানাসহ বহুতল ভবনে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রচলন শুরু হয়েছে। সবার মধ্যে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার মানসিকতা তৈরি হলো। বাংলাদেশে এ ব্যবসাকে সম্ভাবনাময় মনে হলো। ব্যাস নেমে গেলেন ব্যবসায়।

জাকির উদ্দিন বলেন, ‘এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের কারখানায় ২০ থেকে ২৫টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে শুনলাম। তাঁকে গিয়ে অনুরোধ করলাম, কাজটি আমাকে দেওয়ার জন্য। তখনো আমার নিজের কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। এক বড় ভাইয়ের প্যাড ব্যবহার করে সিসি ক্যামেরার কাজটি পেয়ে যাই। সেটাই ব্যবসার জীবনের প্রথম কাজ। কাজটা সফলভাবে করতে সক্ষম হই। দেখলাম কিছুটা লাভ হলো। চিন্তা করলাম, দেখি ব্যবসায় কী হয়। ২০১০ সালে কোম্পানি গঠন করি। নাম দেন জাকির মুগ্নি ইন্টারন্যাশনাল।

জাকির উদ্দিন আরও বলেন, ‘অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশ, র‌্যাব বিজিবিতে ডিভাইস, সফটওয়্যার সরবরাহ করছি। প্রযুক্তিগত এসব বিষয় শিখতে জার্মানিতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছি। জাকির উদ্দিন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সদস্য।’

নতুনের প্রতি তাঁর খুব দুর্বলতা। নতুন কোনো প্রযুক্তি যখন আসে, সেটির সঙ্গে থাকতে চান তিনি। নতুন প্রযুক্তির প্রতি তাঁর নেশা। কারিগরি খাত থেকে পড়াশোনা করা নয়। নিজে নিজে শিখেছেন সবকিছু। বিভিন্ন কারখানায় আগুন লাগলে বাংলায় অটো যে ঘোষণা আসে, সেটির সংযোজন তাঁর হাত ধরেই। যাকে বলা হয় পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট (পিএ)। ২০১৪ সালে এ প্রযুক্তি তিনি চালু করেন।

জাকির উদ্দিন বলেন, ‘একসময় কারখানায় আগুন লাগলে ঘোষণা আসত ইংরেজিতে। কারখানায় যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা তো ইংরেজি জানে না। তাইওয়ান থেকে এটি শিখে এসেছি। যেটা বাংলাদেশে পরিচয় হয় ২০১৪ সালে। যখনই আগুন লাগে, সেটা বাংলায় ঘোষিত হবে।’

দুই মাস আগে সজীব গ্রুপের একটি কারখানায় লাগা আগুনে ৫২ জন প্রাণ হারান। পরে জানা গেল, সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থায় মারাত্মক ত্রুটি ছিল। সজীব গ্রুপের সব কারখানায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেডএম ইন্টারন্যাশনালকে। সেখানে সিসি টিভি ক্যামেরা, এক্সসেস কন্ট্রোল। ফায়ার অ্যালার্ম, ফায়ার ডিটেকশন—এসব সরবরাহ করা হবে।

জাকির উদ্দিন জানান, হাসেম গ্রুপ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা ঘুরে দাঁড়াবে। তারা তাদের কারখানায় সেফটি ও সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে চায় বিদ্যমান আইনকানুন মেনে।

উদ্যোক্তা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন