বইয়ে ১১ জন শিল্পোদ্যোক্তা এবং ইস্পাহানি পরিবার নিয়ে মোট ১২টি প্রবন্ধ রয়েছে। তার মধ্যে ইস্পাহানি পরিবার নিয়ে লিখেছেন ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মীর্জা সালমান ইস্পাহানি। একইভাবে এ কে খান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এ কে খানকে নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, রহিমআফরোজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা এ সি আবদুর রহিমকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ পরিচালক নিয়াজ রহিম, স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা স্যামসন এইচ চৌধুরীকে নিয়ে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সেখ আকিজ উদ্দিনকে নিয়ে গ্রুপটির বর্তমান চেয়ারম্যান সেখ নাসির উদ্দিন, দেশ গার্মেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ নুরুল কাদেরকে নিয়ে দেশ গ্রুপ অব কোম্পানিজের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিদিয়া অমৃৎ খান, আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মোনেমকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম মাঈনউদ্দিন মোনেম, এসিআইয়ের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলাকে নিয়ে এসিআই ফরমুলেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুস্মিতা আনিস, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আমজাদ খান চৌধুরীকে নিয়ে গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, আনোয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে গ্রুপের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন, অ্যাপেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীকে নিয়ে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানকে নিয়ে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান লিখেছেন।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ। আলোচক হিসেবে আরও ছিলেন এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ও পথিকৃৎ উদ্যোক্তাদের জীবনসংগ্রাম গ্রন্থের সম্পাদক মো. সবুর খান।

বইয়ে স্থান পাওয়া সফল ১২ শিল্প পরিবারের মধ্য থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, আনোয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন, আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেখ বশির উদ্দিন, দেশ গ্রুপের চেয়ারম্যান রোকেয়া কাদের, এডকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরী, রহিমআফরোজ গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর নিয়াজ রহিম, এসিআই ফরমুলেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুস্মিতা আনিস, ইস্পাহানি গ্রুপের পরিচালক মীর্জা আহমেদ ইস্পাহানি ও এ কে খান গ্রুপের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এম লুৎফর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের পরিচালক আবু তাহের খান।

অনুষ্ঠানে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের জীবনের অনেকগুলো কঠিন কাজের মধ্যে একটি হলো মানুষকে “না” বলতে পারা। তাই সঠিক পথে এগিয়ে যেতে হলে “না” বলা শিখতে হবে। তবে “না” বলতে হবে সুন্দর করে।’

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বইটিতে কালজয়ী উদ্যোক্তাদের সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এটি নতুন প্রজন্মের কাছে আদর্শ হিসেবে তাঁদের প্রতিভাকে দেশের কাজে লাগাতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

তরুণদের উদ্দেশে আনিস উদ দৌলা বলেন, ‘তোমরা মনে রাখবে, শিক্ষার কোনো সময় নেই। আমাদের জীবন পুরোটাই শিক্ষার জন্য। তাই সঠিক শিক্ষা নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী নিজেদের গড়তে হবে।’

সবুর খান বলেন, ‘বইটি সম্পাদনার বড় উদ্দেশ্য ছিল আমরা ভবিষ্যতে আমাদের সন্তানদের বিদেশিদের নয়, বরং আমাদের দেশের উদাহরণ দিয়ে অনুপ্রেরণা দিতে পারি।’

সিমিন রহমান বলেন, ‘ট্রান্সকম লিমিটেড এমন একটি কোম্পানি, যেখানে পুরো জাতির জন্য আমরা সেবা নিশ্চিত করে থাকি। আমাদের কোম্পানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা সকল ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা লতিফুর রহমান তাঁর সারা জীবনের স্বপ্ন ও শ্রম দিয়ে এই কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। ১৮৮৫ সাল থেকে সামান্য চা চাষের মধ্য দিয়ে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন অবধি তা অব্যাহত রেখেছি আমরা।’

প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, সুন্দর সাবলীল ভাষায় বইটি লেখা হয়েছে। এটি শুধু বিশেষজ্ঞদের জন্য লেখা বই নয়, সবারই এই বই ভালো লাগবে।