default-image

ব্যাংক খাতে বর্তমানে বিপুল অলস টাকা পড়ে আছে। তার বিপরীতে ঋণ বিতরণ সেভাবে হচ্ছে না। এর মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা শুরু হয়েছে। ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে?

তারিকুল ইসলাম চৌধুরী: করোনার প্রথম ধাক্কা আমরা সামলে উঠেছিলাম। প্রণোদনার ঋণ বিতরণ শুরু করে শেষও করে এনেছিলাম। দেশের অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় ছিল। এখন আবার ধাক্কা আসায় পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, এখনই বোঝা যাচ্ছে না। তবে আশা করছি স্বল্প সময়ের মধ্যে এবারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

গত বছরের এপ্রিলে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আপনাদের ব্যাংকে এর প্রভাব পড়েছে কি?

তারিকুল ইসলাম চৌধুরী: এপ্রিল থেকে সুদহার বেঁধে দেওয়ার পর আমরাও আমাদের ঋণের সুদ ৯ শতাংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। কিন্তু সে হিসেবে আমানতের সুদ কমানো সম্ভব হয়নি। ফলে আমাদের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমার মনে হয় সব ব্যাংক একই ধরনের সমস্যায় পড়েছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে এখন নন-ফান্ডেড ব্যবসার দিকে মনোযোগ বাড়াতে হচ্ছে। তবে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তটি ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
গত সাত বছরে ৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছি। তার বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছি ৫ হাজার ৭৪১ কোটি টাকার।
তারিকুল ইসলাম চৌধুরী এমডি, এসবিএসি ব্যাংক

বর্তমানে ব্যাংক খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?

তারিকুল ইসলাম চৌধুরী: ব্যাংক খাত থেকে গ্রাহকদের যে ঋণ দেওয়া হয়েছে, তা ফেরত আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। কারণ, ঋণের টাকা যেভাবে ফেরত আসার কথা, সেভাবে আসছে না। সামনের দিনে বিষয়টি আরও বড় আকারে আসবে। আমরা শাখা ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা দিয়েছি, গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ঋণ আদায়ের জন্য।

নতুন প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে আপনাদের ব্যাংক কী অবদান রাখছে?

তারিকুল ইসলাম চৌধুরী: চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে আমরা আট বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। এর মধ্যে সামান্য হলেও অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পেরেছি। গত সাত বছরে ৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছি। তার বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছি ৫ হাজার ৭৪১ কোটি টাকার। আমানতের বড় অংশই এসেছে দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। বর্তমানে আমাদের গ্রাহক প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। নতুন নতুন অনেক আমানতকারী আমরা তৈরি করেছি। বর্তমানে আমাদের ব্যাংকের মোট সম্পদ রয়েছে ৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার। ৮৩টি শাখা ও ১২টি উপশাখার মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছি। এর মধ্যে অর্ধেক শাখায় গ্রামীণ এলাকায়। এখনো সারা দেশের সব জেলায় পৌঁছাতে না পারলেও দক্ষিণবঙ্গের সব এলাকায় আমাদের ব্যাংকের শাখা রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ১০টি শাখায় ইসলামি ব্যাংকিং সেবা চালু করা হবে।

সাউথ বাংলা বেসরকারি খাতের একমাত্র ব্যাংক, যার নামের সঙ্গে অ্যাগ্রি বা কৃষি যুক্ত আছে। কিন্তু কৃষি খাতে আপনাদের নজর কেমন?

তারিকুল ইসলাম চৌধুরী: বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেকৃষি খাতের জন্য যে ঋণ প্রদানের লক্ষ্য দেওয়া হয়, আমরা তার পুরোটাই বিতরণ করে থাকি। আমাদের চেষ্টা আছে, কৃষিভিত্তিক প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার। এ জন্য আমাদের বেশির ভাগ শাখাও কৃষিভিত্তিক এলাকায়। তবে আগে সুদহার বেশি থাকায় কৃষি খাতে ঋণ তেমন ছিল না। এখন কৃষি খাতে ঋণ বাড়ছে। এই খাতে বিশেষ নজর দিচ্ছি আমরা।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন