বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারে এ বছর পোশাকের বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। লিটল স্টার স্পিনিং মিলের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, গত বছরের এপ্রিলে প্রতি পাউন্ড তুলা ৭২ সেন্ট দামে আমদানি করা গেলেও এবার তা বেড়ে ১ ডলার ৬৫ থেকে ১ ডলার ৭০ সেন্ট হয়েছে। সে কারণে গত বছর যে সুতার পাউন্ডপ্রতি দাম ছিল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা, সেটি চলতি বছরে বিক্রি হচ্ছে ২২৪ টাকায়। এই সুতা দিয়েই কাপড় উৎপাদন হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাপড়ের দাম বেড়েছে।

ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফ্যাশন উদ্যোক্তা সমিতি (এফইএবি বা ফ্যাশন উদ্যোগ) ২০১২ সালে একটি জরিপ করেছিল। সেই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ফ্যাশন হাউসগুলোতে বছরে মোট ছয় হাজার কোটি টাকার বেচাকেনা হয়। এর মধ্যে ৫০ শতাংশই হয় রোজার ঈদে, ২৫ শতাংশ হয় পয়লা বৈশাখে। বাকিটা সারা বছর ধরে হয়। ছয় হাজার কোটি টাকার সেই বাজার গত এক দশকে অনেক বেড়েছে বলে জানালেন সমিতির নেতারা।

বর্তমানে এফইএবির সভাপতি ফ্যাশন হাউস অঞ্জন’সের কর্ণধার শাহীন আহম্মেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত এক বছরে সুতার দাম নিয়মিতভাবে বেড়েছে। সেটির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কাপড় ও সরঞ্জামের দাম। সেই হিসাবে পোশাকের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। তবে গত দুই বছর করোনার কারণে সেভাবে ব্যবসা হয়নি। তাই পোশাকের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা পোশাকের নকশা সেভাবেই করেছি। তা ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস করা হয়েছে। তাতে আমাদের পোশাকের দাম বাড়াতে হয়নি। তবে কেউ কেউ দাম বাড়িয়েছেন।’

ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রুচির পরিবর্তন হওয়ায় ব্র্যান্ডের পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন অনেক মানুষ। ফলে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু নতুন নতুন পোশাক ব্র্যান্ডের আবির্ভাব ঘটেছে। পুরোনো ব্র্যান্ডগুলোও রাজধানীর পাশাপাশি অন্যান্য শহরে বিক্রয়কেন্দ্র খুলে চলেছে।

স্নোটেক্স গ্রুপের সহযোগী ব্র্যান্ড সারা লাইফস্টাইলের ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে আটটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ব্র্যান্ডটির হেড অব অপারেশন মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার কারণে সারা বিশ্বে সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। সব ধরনের কাঁচামাল ও জাহাজভাড়া বেড়েছে। সেটির প্রভাবে কাপড়ের দাম মানভেদে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে আমরা দাম সংবেদনশীল ব্র্যান্ড হওয়ায় অল্প কিছু পোশাকে ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছি। অধিকাংশ পোশাকেই নিজেদের মার্জিন হ্রাস করে আগের দাম রাখার চেষ্টা করেছি। কাঁচামালের দাম কমলে আমরা আবারও আগের দামে ফিরে যাব।’

রাজধানীতে ঈদের কেনাকাটার বড় জায়গা নিউমার্কেট ও তার আশপাশের ৩৪টি বিপণিবিতান। কিন্তু গত সোমবার ঢাকা কলেজের ছাত্র ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবারও দিনভর সংঘর্ষ হয়। দুই দিন পর গত বৃহস্পতিবার মার্কেট খোলে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলকার মার্কেটগুলোয় ঈদের বেচাকেনা মোটামুটি ধাক্কা খেয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার নিউমার্কেটের জম জম জিনস গ্যালারির স্বত্বাধিকারী মো. শরীফ জানান, তাঁরা গত বছর ডফ ও বস ব্র্যান্ডের জিনসের প্যান্ট ৭৫০ টাকা পাইকারি দরে কিনেছিলেন। এবার সেই প্যান্ট কিনতে হয়েছে ৮৫০ টাকায়। অন্যান্য প্রায় সব পোশাকের দামও ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সে কারণে খুচরা পর্যায়েও দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে।

অন্যদিকে নিউমার্কেটের বাঁধন ফ্যাশনের মালিক নুরুল আমিন জানান, তিনি নিম্ন ও মাঝারি দামের শার্ট ও ফতুয়াজাতীয় পোশাক বিক্রি করেন। পাইকারি বাজারে এসব পোশাকের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বেড়েছে। সে জন্য তিনিও আগের চেয়ে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।

এদিকে দাম বৃদ্ধি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাঁদের কেউ বলছেন, প্রতিটি পোশাকে আগের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে বেড়েছে। আবার কেউ কেউ জানান, তাঁরা প্রায় আগের দামেই পোশাক কিনতে পেরেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী রিপন মিয়া বলেন, ‘আমি নিউমার্কেট থেকে থ্রি–পিস ও শার্ট কিনেছি। গত বছরের তুলনায় বিক্রেতারা ১০০ টাকার মতো বেশি দাম নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন