default-image

করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা তহবিলের নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ তহবিল থেকেও কোনো খেলাপি গ্রাহক ঋণ নিতে পারবেন না, এমনকি তিনবারের বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন, এমন গ্রাহকও ঋণ পাবেন না। এ ঋণের সুদ হার হবে ৯ শতাংশ, যার মধ্যে ৫ শতাংশ সুদ সরকার বহন করবে।

এই প্যাকেজের আওতায় বিতরণ করা মোট ঋণের অন্তত ৫০ শতাংশ উৎপাদন উপখাতে বিতরণ করতে হবে। আর সেবায় ৩০ শতাংশ ও ব্যবসা উপখাতে ২০ শতাংশ বিতরণ করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আজ সোমবার এ–সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং শিল্পকারখানায় নিয়োজিত জনবলকে কাজে বহাল রাখতে প্রধানমন্ত্রী ৫ এপ্রিল ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সে আলোকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো নিজস্ব উৎস থেকে শুধু চলতি মূলধন ঋণ দেবে। গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাংক মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। আর সরকার থেকে ভর্তুকি হিসেবে পাবে আরও ৫ শতাংশ।

এ প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই খাতে একটি ব্যাংকের ২০১৯ সালের ডিসেম্বর ভিত্তিক স্থিতির ১০ শতাংশ ঋণ দিতে পারবে। সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎপাদন ও সেবা উপখাতকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবে মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতের ট্রেডিং উপখাত এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবে। এ প্যাকেজের আওতায় একটি ব্যাংকের মোট ঋণের কমপক্ষে ৭০ শতাংশ কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে দিতে হবে। ৩০ শতাংশ মাঝারি শিল্প খাতে দেওয়া যাবে। ঋণের কমপক্ষে ৫ শতাংশ দিতে হবে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে।

এ প্যাকেজের মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে কোনো একক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ এক বছর এ প্যাকেজের আওতায় সরকার হতে ভর্তুকি পাবেন। কোনো ঋণখেলাপি বা খেলাপি হওয়ার পর তিনবার পুনঃতফসিল নিয়ে এ প্যাকেজের আওতায় সুবিধা পাবেন না। এখান থেকে ঋণ নিয়ে বিদমান ঋণ সমন্বয়, কারখানা সম্প্রসারণ বা নতুন ব্যবসা চালু করা যাবে না। এর আগে যেসব গ্রহীতা ঋণ নিয়েছেন, তাঁরা বিদ্যমান চলতি মূলধন ঋণ স্থিতির ৩০ শতাংশ অথবা গত তিন বছরের গড় পরিচালন ব্যয়ের ৫০ শতাংশের মধ্যে যেটি কম, সেই হারে ঋণ পাবেন। আর ট্রেডিং খাতে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0