default-image

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় এবার আমনের ফলন ভালো হয়েছে। ধানের দামও চড়া। কিন্তু কৃষক হাটে বিক্রি করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ওজনে প্রতারিত হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা প্রতি মণে কৌশলে ২-৩ কেজি করে ধান বেশি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত নভেম্বরে রসুলগঞ্জ হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী হাকিম নূর কুতুবুল আলম। এ সময় ওজনে কারচুপির দায়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। কিন্তু এখন আবার কারচুপি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

লক্ষ্যনার্থের কামাত গ্রামের গফুর আলী বলেন, ‘আগোত বাড়ি থাকি হাটোত ধান বেচনো, এক মণ ধান এক মণই হইছে। হোর অ্যালা সেই ধান ৩৭ কেজি করছে। হামারলার লাভ হয় না। হউক আবাদের টাকাটা উঠুক না উঠুক ওমারলার (ব্যবসায়ী) লাভ হয়ছে তো।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রামে ২১ হাজার ২৬০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ১৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়। ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮৩ হাজার মেট্রিক টন।

রসুলগঞ্জ হাট সপ্তাহে রোববার ও বৃহস্পতিবার বসে। প্রতি হাটবারে এখান থেকে কিনে ৫০-৬০ ট্রাক ধান অন্য জেলায় নিয়ে যান ব্যাপারী ও ব্যবসায়ীরা। গত রোববার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রসুলগঞ্জ হাটে প্রতি মণ ধান প্রকারভেদে ৯৭০ থেকে ৯৯০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

হাটে আসা কৃষকেরা বলেন, তাঁরা ৪০ কেজি করে ধান আনলেও ব্যবসায়ীরা ওজনের সময় কৌশলে তা ৩৭ থেকে ৩৮ কেজি দেখাচ্ছেন। ফলে প্রতি মণে তাঁদের ৭০ থেকে ৮০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

হাটের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, এ হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা ধান কিনতে আসেন। বর্তমান বাজারদরে তাঁদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ওজনে কিছুটা কারচুপি করতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, হাটে ধান বিক্রি করতে এসে ওজনে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় কয়েকজন সদস্য কয়েকবার আলোচনা করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত নভেম্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও নূর কুতুবুল আলম। তখন ওজনে কারচুপি জন্য কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।

জানতে চাইলে ইউএনও নূর কুতুবুল আলম বলেন, আবারও ব্যবসায়ীদের ওজনে কারচুপি ধরতে হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হবে।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন