কত গাড়ি চলবে টানেলে

প্রথম আলো ফাইল ছবি

সময়মতো কাজ হলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বা ২০২৩ সালের শুরুতে খুলে দেওয়া হবে চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে স্থাপিত এই টানেল দিয়ে কত গাড়ি চলবে, তার একটা আভাস রয়েছে ২০১৩ সালের সমীক্ষা প্রতিবেদনে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, টানেল চালুর বছরে ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করতে পারে। সে হিসাবে দিনে চলতে পারে ১৭ হাজার ২৬০টি গাড়ি।

সমীক্ষায় বলা হলেও বাস্তবে কত গাড়ি চলবে, তা নির্ভর করছে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রমের ওপর। আবার গাড়ি চলাচলে গতি আসবে মিরসরাই–কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল চালু হবে ২০২৬ সালে। মিরসরাই–কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পের জন্য এখন মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষা হচ্ছে। অর্থাৎ টানেল চালুর পরপর গাড়ির চাপ কিছুটা কম থাকতে পারে।

টানেলের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায়ও গভীর সমুদ্রবন্দর এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হবে ধরে নিয়ে আভাস দেওয়া হয়। চালুর বছর ছাড়া ২০৩০ সালে ১ কোটি ৩৯ লাখ গাড়ি চলবে বলেও আভাস দেওয়া হয়, যার ৫০ শতাংশ হবে পণ্যবাহী গাড়ি।

চট্টগ্রাম বন্দরের পর্ষদ সদস্য মো. জাফর আলম বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল চালু হলে টার্মিনালটির আমদানি–রপ্তানি পণ্যবাহী গাড়ি সড়কপথে টানেল দিয়েই চলাচল করবে। এতে শহরের যানজট এড়িয়ে যোগাযোগ সহজ করবে টানেলটি।

বর্তমানে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে শাহ আমানত তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু ও কালুরঘাট সেতু দিয়ে। আবার দেশীয় নৌকায় করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ কর্ণফুলী নদী দিয়ে যাতায়াত করে। টানেল চালু হলে শুরুতে কর্ণফুলী সেতু দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের একাংশ সেতুর বদলে টানেল দিয়ে চলাচল করবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্পকারখানার পণ্যবাহী গাড়ি। তাতে শুরুতে যানবাহনের সংখ্যা খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়বে আমদানি–রপ্তানি পণ্য পরিবহন ঘিরে।

চট্টগ্রাম শহরের বাইরে থেকে আসা দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী যানবাহন কম সময়ে টানেল দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তাতে সময়ের সাশ্রয় হবে। আর নির্মাণাধীন টানেলে যানবাহনের টোল কত হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। টোলের হারও যানবাহন চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।