default-image

আগামী দুই বাজেটে করপোরেট কর হার কমানোর ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, করপোরেট কর কমানোর বিষয়টি যৌক্তিক। এটা তিনি ১০ বছর ধরে বলছেন। তবে এত দিন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তবে আগামী দুই বাজেটে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘অন্তত যৌক্তিক হবে।’
ব্যবসায় পরিবেশ সহজ করা নিয়ে গতকাল রোববার দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের আগে দুজন ব্যবসায়ী নেতা করপোরেট কর কমানোর দাবি করেছিলেন।
আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে। এতে আইসিএবির সভাপতি আদিব হোসেন খান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। বিদেশিদের সঙ্গে এখন আমরা মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারি। তবে এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।’
একটি উপস্থাপনায় সমস্যাগুলো তুলে ধরেন আইসিএবির পর্ষদ সদস্য দেওয়ান নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোম্পানি আইন সংস্কারের উদ্যোগটি মনে হয় গতি হারিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক আইন দরকার, যেখানে কোম্পানি একীভূত করা, বাস্তব করপোরেট সুশাসন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি কারিগরি জ্ঞান সংগ্রহে বিদেশে অর্থ পাঠানো, বিদেশি কোম্পানির শাখার মুনাফা প্রত্যাবাসন, চলতি হিসাবে টাকাকে অন্য মুদ্রায় রূপান্তর করে লেনদেন, বাণিজ্য বিরোধের দক্ষ ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, কর আইনে গ্রুপের করের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়াসহ বেশ কিছু বিষয়ে সংস্কারের অনুরোধ করেন।
আলোচনায় করপোরেট করের বিষয়টি প্রথম তুলে ধরেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল ও প্রতিবেশী দেশের চেয়ে বাংলাদেশে করপোরেট কর অনেক বেশি। আমরা অনেক দিন ধরে বলে আসছি করপোরেট কর ২৫ শতাংশের কম হওয়া উচিত।’
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সাবেক সভাপতি আফতাব-উল ইসলামও করপোরেট কর কমানোর সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, ভিয়েতনাম ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ড ২০ শতাংশ, মিয়ানমার ২৫ শতাংশ হারে করপোরেট কর নেয়। বাংলাদেশে তা ৩৫ শতাংশ। তিনি চিনি উৎপাদনে ভর্তুকি বন্ধ করতে এসব কারখানা বেসরকারি খাতে দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ বক্তব্যের পর এসিআইয়ের চেয়ারম্যান আনিস-উদ দৌলা বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা নয়, আবার ব্যবসায়ীদের কাজ সরকার চালানো নয়। সরকারের ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিত। সরকার এখন চকলেট, বিস্কুট বানাচ্ছে। লোকসান দিচ্ছে। ভর্তুকি দিচ্ছে। সরকারের উচিত আগামী বাজেটে ব্যবসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা।
বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবর আলী চট্টগ্রামের কারখানাগুলোকে গ্যাসের ঘাটতি পূরণে ফার্নেস অয়েল আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি করেন। তিনি বলেন, ফার্নেস অয়েলের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দামের পার্থক্য লিটারে মাত্র ছয় টাকা।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের জবাব দেন। করপোরেট করের বিষয়ে
তিনি বলেন, ‘আমি ১০টি বাজেট দিয়েছি। এসব বাজেটে বলেছি, করপোরেট কর অতিমাত্রায় বেশি। কিন্তু বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নিইনি। এবার আমি আশা করি, একটা ব্যবস্থা নেব। তবে সমস্যা হলো রাজস্ব আদায়। এটা আমাকে সন্ত্রস্ত করে। এই বয়সে এসে বিপ্লবী সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।’
রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে ভর্তুকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পরামর্শ আমি মোটা অক্ষরে লিখে নিচ্ছি। এ দেশে দুই লাখ পরিবার আখ চাষ করে। বিপরীতে দেশের সবাই চিনি খায়। বিদেশে চিনি সস্তা। এ খাতে ভর্তুকি সম্পদের অপচয়।’ ফার্নেস অয়েলের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য অজিত কুমার পাল, আইসিএবির সহসভাপতি মাহমুদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন