default-image

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে ভ্যাটের মেশিন বসানোয় দেরি হচ্ছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এই যন্ত্র বসানোর কথা ছিল। যন্ত্রটি ইতিমধ্যে দেশে চলেও এসেছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সফটওয়্যার সন্নিবেশিত করার জন্য চীনা প্রকৌশলীরা করোনাভাইরাসের কারণে আসতে না পারায় ভ্যাট মেশিন চালুর বিষয়টি আপাতত থেমে গেছে। কবে নাগাদ তা চালু হবে, সেটিও নিশ্চিত নন ভ্যাট কর্মকর্তারা।

এই অবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন করণীয় নির্ধারণে আজ বুধবার বৈঠকে বসছে। এতে ভ্যাটের মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসজেডজেডটি-কেএমএমটি-ইএটিএল জেভি এডিএ ট্রেডিং বাংলাদেশ কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে। বৈঠকে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সভাপতিত্ব করবেন। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নতুন ভ্যাট আইন চালুর পর কেনা দামেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) মেশিন (ইসিআর মেশিনের মতো) প্রদানের ঘোষণা দেয় এনবিআর। ব্যবসায়ীরা যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাটের হিসাব রাখতে পারেন, সে জন্য এনবিআর উদ্যোগটি নেয়। এ জন্য ওই চীনা কোম্পানিকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ইএফডি মেশিন আমদানির কার্যাদেশ দেওয়া হয়। 

এদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে দেখার জন্য গত জানুয়ারি মাসে চীন থেকে ১০০টি ইএফডি মেশিন দেশে আনা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই সপ্তাহের জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ কমিশনারেটে ৪০টি করে এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার ২০টি দোকানে যন্ত্রটি বসানোর কথা ছিল। কিন্তু চীনা প্রকৌশলীরা আসতে না পারায় কাজটি করা যাচ্ছে না। চীনা প্রকৌশলীদের এই মেশিনে নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বসানো এবং এনবিআরের ডেটা সেন্টারে তা সংযুক্ত করার কথা ছিল। ইএফডি মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চীনা প্রকৌশলীরা গত জানুয়ারি মাসে নিজ দেশে ছুটিতে যান।

>১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ভ্যাটের মেশিন চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চীনা প্রকৌশলীরা না আসায় তা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এনবিআরের ডেটা সেন্টার তৈরি করেছে। ওই প্রতিষ্ঠানটিও এই মুহূর্তে চীনা প্রকৌশলীদের এই কাজে সম্পৃক্ত হতে দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। আর আজকের বৈঠকে চীনা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইএফডি মেশিনের পরীক্ষামূলক পরিচালনা, বাকি মেশিন আনা এবং সফটওয়্যার বসানো, এনবিআরের ডেটা সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়ে পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হবে। 

জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) জামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে কবে থেকে পরীক্ষামূলক পরিচালনা শুরু হবে। যেসব চীনা প্রকৌশলী ফিরে আসতে পারেননি, তাঁদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, শিগগিরই পুরোদমে কাজ শুরু হবে।’

জানা গেছে, আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে পরীক্ষামূলক ইএফডি পরিচালনা শুরু করতে চায় এনবিআর। পরীক্ষামূলক পরিচালনা সফল হলে মার্চ মাসেই উড়োজাহাজে করে ১০ হাজার ইএফডি মেশিন আনা হবে। 

সরকার প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ীদের কেনা দামে ইএফডি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পায় এনবিআর। পাঁচ বছরে এক লাখ ইএফডি মেশিন কিনতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় এসজেডজেডটি-কেএমএমটি-ইএটিএল জেভি এডিএ ট্রেডিং বাংলাদেশ কোম্পানি। এই প্রতিষ্ঠানটিকে মেশিন আনাসহ তাতে সফটওয়্যার সন্নিবেশিত করা এবং পাঁচ বছর ওই সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও পালন করতে হবে।

এনবিআরের ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের মাধ্যমে ইএফডি মেশিন কেনা, সফটওয়্যার উন্নয়নসহ সার্বিক ভ্যাট ব্যবস্থা অনলাইনভিত্তিক করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১৩ সালে ৬৯০ কোটি টাকার ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প নেওয়া হয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 

দেশে গত জুলাই মাসে নতুন ভ্যাট আইন চালু হয়েছে। নতুন আইনে হিসাবনিকাশ, ভ্যাট রিটার্ন জমাসহ এ–সংক্রান্ত সবকিছুই অনলাইনে করতে হবে। ব্যবসায়ীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাবনিকাশ করার সুবিধার জন্য ইএফডি মেশিন বসাতে হবে। ইএফডি মেশিন ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ২৪ ধরনের ব্যবসার হিসাব রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই তালিকায় আছে আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফাস্ট ফুড, মিষ্টান্ন ভান্ডার, বিউটি পারলার, তৈরি পোশাকের দোকান, ডিপার্টমেন্ট স্টোর, কোচিং সেন্টার, জিম ইত্যাদি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন