করোনার ক্ষতি পোষাতে তামাকপণ্যের দাম বাড়াতে হবে

বিজ্ঞাপন
default-image

দেশে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ২৯ মার্চ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে তামাকের কর ও দাম বৃদ্ধিবিষয়ক বাজেট (২০২০-২১) প্রস্তাব করেছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। সুনির্দিষ্ট করপদ্ধতি প্রবর্তন, সিগারেটে দুটি মূল্যস্তরসহ প্রস্তাবিত কর ও দাম বৃদ্ধির দাবি করা হয়েছে ওই প্রস্তাবে। দাবি বাস্তবায়ন করা হলে ছয় লাখ মানুষের অকালমৃত্যু রোধ হবে এবং ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জিত হবে, যা সরকার করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় ব্যবহার করতে পারবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রস্তাবে আত্মা জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ধূমপায়ীদের ঝুঁকি করোনায় বেশি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ ধূমপান করে। প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ নিজ বাড়িতেই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাকের ক্ষতির শিকার এই বিপুল জনগোষ্ঠী বর্তমানে মারাত্মকভাবে করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তামাকের সহজলভ্যতাই এর প্রধান কারণ। স্বল্প দামে তামাকজাত পণ্য কেনার সুযোগ এবং ত্রুটিপূর্ণ কর কাঠামো বিশেষ করে সিগারেটে চারটি মূল্যস্তর থাকায় তামাকের ব্যবহার হ্রাসে কর ও মূল্য পদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করছে না। তামাকের দাম বেশি হলে তরুণ জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত হয় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ছাড়তে উৎসাহী হয়।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আত্মা জানিয়েছে, এনবিআরের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর ই-মেইলের মাধ্যমে এই বাজেট প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। জাতীয় বাজেট প্রণয়নে বিবেচনার জন্য তামাকজাত পণ্যে করারোপের বিষয়ে যেসব দাবি তুলে ধরা হয় সেগুলো হলো—

১. সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা চারটি থেকে দুটিতে (নিম্ন এবং প্রিমিয়াম) নামিয়ে আনা।
এ ক্ষেত্রে ক.৩৭+ টাকা এবং ৬৩+ টাকা—এই দুটি মূল্যস্তর একত্র করে নিম্নস্তরে নিয়ে আসা; নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। খ.৯৩+ টাকা ও ১২৩+ টাকা এই দুটি মূল্যস্তরকে একত্র করে প্রিমিয়াম স্তরে নিয়ে আসা; প্রিমিয়াম স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১২৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১৯ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

২. বিড়ির ফিল্টার এবং নন-ফিল্টার মূল্য বিভাজন তুলে দেওয়া
ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৪০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৬.৮৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা; ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩২ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ৫.৪৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

৩. ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যের (জর্দা ও গুল) মূল্য বৃদ্ধি করা
প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৩ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা; প্রতি ১০ গ্রাম জর্দা ও গুলের ওপর যথাক্রমে ৫.৭১ টাকা এবং ৩.৪৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষত নারীদের মাঝে এই পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে জর্দা-গুল ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

এ ছাড়া তামাক পণ্যের খুচরা মূল্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল থাকবে।

এই তামাক-কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ২০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবেন, দীর্ঘ মেয়াদে ৬ লাখ বর্তমান ধূমপায়ীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে এবং সরকারের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে, যা দিয়ে সরকার করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ব্যবহার করতে পারবে। দেশে তামাকের ব্যবহার দ্রুতহারে কমানো এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে তামাকবিরোধী মিডিয়া জোট আত্মার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।—বিজ্ঞপ্তি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন