default-image

করোনাকালে (এপ্রিল-জুন) গ্রামীণফোনের একজন গ্রাহক মাসে গড়ে ২০১ মিনিট মুঠোফোনে কথা বলেছেন। যেটা করোনাকালের আগের তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ) চেয়ে ১৪ মিনিট কম।

এ চিত্র উঠে এসেছে গ্রাহকসংখ্যায় দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক বিবরণীতে। গ্রামীণফোন জানিয়েছে, আলোচ্য প্রান্তিকে তাদের রাজস্ব আয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এরপর ২৬ মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে, যা অব্যাহত ছিল ৩০ মে পর্যন্ত। গ্রামীণফোনের আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, এপ্রিলে পরিস্থিতি খারাপ ছিল। পরের দুই মাসে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

গ্রামীণফোন আজ বুধবার তার দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, সর্বশেষ গ্রামীণফোনের গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪৫ লাখ, যা ছয় মাস আগের তুলনায় ২০ লাখ কম। মোট গ্রাহকের ৪ কোটি ৯ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে পাঁচ লাখ বেশি।

গ্রাহক সংখ্যা, রাজস্ব ইত্যাদি দিক দিয়ে গ্রামীণফোন বাজারের বড় হিস্যাধারী। শুধু গ্রামীণফোন নয়, সার্বিকভাবেই টেলিযোগাযোগ খাতের ব্যবসা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। গ্রাহক কমে যাওয়ার চিত্র বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবেই দেখা যায়। বিটিআরসি বলছে, মে মাস শেষে দেশে মুঠোফোন গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ১৫ লাখ, যা মার্চের হিসাবের তুলনায় ৩৮ লাখ কম। এ সময়ে সব অপারেটরের গ্রাহকই কমেছে।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) একজন গ্রাহকপ্রতি গড় রাজস্ব ছিল মাসে ১৫৬ টাকা। এপ্রিল-জুন সময়ে তা ১৪৬ টাকায় নেমে যায়। এর মানে হলো, মুঠোফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের পেছনে মানুষ ব্যয় কমিয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়েছে
অবশ্য ডেটার পরিমাণের দিক দিয়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) গ্রামীণফোনের একজন গ্রাহক ২ দশমিক ৫৪ গিগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি।

আর্থিক বিবরণী নিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, 'বিগত চার মাস ধরে একটি নজিরবিহীন বৈশ্বিক মহামারি আমাদের কাজের ধরনের উপর ব্যপক প্রভাব ফেলেছে। আমাদের কাজের ধরন থেকে শুরু করে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়েছে।'

গ্রামীনফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ইয়েন্স বেকার বলেন, 'সাধারণ ছুটি থাকায় দেশের অর্থনীতির শ্লথগতির কারনে ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন চ্যালেঞ্জিং সময় পার করেছে। তবে মে থেকে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন শুরু হয়েছে।'

গ্রাহকের কমতির ধারার মধ্যেই ১১ জুন ঘোষিত চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। ফলে এখন একজন গ্রাহক ১০০ টাকা কথা বলা ও খুদেবার্তার পেছনে ব্যয় করলে ২৫ টাকা যায় সরকারের ঘরে। আর ইন্টারনেটে সরকার পায় ১৮ টাকার মতো।

অপারেটরদের আশঙ্কা, মানুষ কথা বলা কমিয়ে বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করবেন। ইতিমধ্যে রাজস্ব কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন