বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনার খরা কাটিয়ে আশানুরূপ পোশাক সেলাইয়ের আদেশ পাওয়ায় বেশ উৎফুল্ল মনির হোসেনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার টেইলার্সের দরজিরা। সেই সঙ্গে টেইলার্স মালিকেরাও রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। রাজধানীর বেশ কিছু এলাকার দরজিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর পোশাক সেলাইয়ের আদেশ করোনার আগের অবস্থায় পৌঁছেছে। এতে করোনাকালের ক্ষতি মোটামুটি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা তাঁদের।

গত মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন বিপণিবিতান ও পাড়া-মহল্লার বেশ কিছু দরজির দোকান ঘুরে দেখা যায়, সব এলাকার দরজি বাড়িতে কর্মব্যস্ততা। ঈদের আগমুহূর্তে পোশাক সরবরাহের জন্য এখন দরজিদের ব্যস্ততা সেলাইয়ের কাজে। পাশাপাশি তৈরি করা পোশাকের সরবরাহও চলছে সমানতালে।

মিরপুরের রূপনগর এলাকার জননী টেইলার্সের মালিক মো. নুরুল ইসলাম জানান, সারা বছর কমবেশি পোশাক তৈরি আদেশ থাকলেও ঈদকে ঘিরে কাজ অনেক বেড়ে যায়। কারণ, এ সময় প্রায় সবাই নতুন এক বা একাধিক পোশাক তৈরি করেন। বাড়তি এ চাপ সামাল দিতে তাই মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।

মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন টেইলার্স মালিক ও কাটিং মাস্টাররা জানান, ঈদে মেয়েদের থ্রি-পিস (কামিজ, সালোয়ার, ওড়না), গাউন, ব্লাউজ, কুর্তি, টপস, লেহেঙ্গা, বোরকা ও খিমার; বাচ্চাদের থ্রি-পিস, ফ্রক, স্কার্টফতুয়া এবং ছেলেদের পাঞ্জাবি, পাজামা, কাবলি, কটি, শার্ট, প্যান্ট ও স্যুট বানানোর আদেশই বেশি থাকে। তবে এ বছর থ্রি-পিস, ফ্রক ও পাঞ্জাবি বানানোর আদেশই সবচেয়ে বেশি।

উল্লিখিত এলাকার বাইরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, বনানী সুপার মার্কেট, ইস্টার্ন মল্লিকাসহ বেশ কিছু বড় বিপণিবিতানে আছে কয়েক শ টেইলার্স। এ বছর বেশ ভালো কাজের আদেশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন এসব টেইলার্স মালিক ও সেখানকার সেলাইয়ের কারিগর বা দরজিরাও।

নিউমার্কেট এলাকার ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সে ৬০ থেকে ৭০টি টেইলার্স আছে। এখানকার টেইলার্সগুলোতে ২০ রোজার পর থেকে নতুন কাজের আদেশ নেওয়া বন্ধ। ইস্টার্ন মল্লিকা টেইলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বছর যথেষ্ট কাজ পেয়েছি। এর বেশি কাজ নেওয়া সম্ভব নয়। সামর্থ্যের বেশি কাজ নিলে সময়মতো সরবরাহ করা যাবে না।’

একই এলাকার চাঁদনী চক শপিং কমপ্লেক্সের সানলাইট টেইলার্সের মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর রোজার শুরুতে কয়েক দিন তেমন কোনো কাজের আদেশ ছিল না। তবে ছয় রোজার পর থেকে পোশাক তৈরির কার্যাদেশ বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, ‘গত বছর যেখানে মাত্র ১ হাজার পিচ সেলাইয়ের আদেশ পেয়েছিলাম, সেখানে এবার পেয়েছি ৩ হাজার পিচের সেলাইয়ের আদেশ।’

তবে কোনো কোনো দরজি জানিয়েছেন, এবারের ঈদে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, বেশির ভাগ মানুষ এখন পোশাক তৈরির ঝামেলা এড়াতে বিপণিবিতান বা অনলাইন থেকে তৈরি পোশাক কেনায় বেশি আগ্রহী।

ঈদ মৌসুমে পর্যাপ্ত গ্রাহক পাওয়ার কথা জানিয়েছেন টেইলারিং খাতের বড় ব্র্যান্ডগুলোও। ঈদ উপলক্ষে নতুন ধরনের বেশ কিছু শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবির কাপড় এনেছে এসব ব্র্যান্ড। টেইলারিং খাতের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড টপ টেনের কাঁটাবন শাখার ব্যবস্থাপক আতাহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা আশানুরূপ গ্রাহক পেয়েছি।’

সানমুন টেইলার্সের নিউমার্কেট শাখার ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ জানান, এ বছর ঈদ উপলক্ষে তাঁরা ১ হাজার ৬০০–র মতো পোশাক তৈরির আদেশ পেয়েছেন। এ সংখ্যা করোনার আগের ঈদ মৌসুমের কাছাকাছি, তবে করোনার সময়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। গত বছর করোনার মধ্যে তাঁদের ৬০০টির মতো আদেশ ছিল বলে জানান তিনি।

এদিকে নিউমার্কেট এলাকার নুরজাহান মার্কেটের তৃতীয় তলায় বিভিন্ন পোশাকের দোকানের সামনে সেলাই মেশিন নিয়ে বসেছেন এ রকম দরজির সংখ্যা প্রায় ৭০। ওই মার্কেট থেকে নতুন প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি কেনার পর এসব দরজির কাছ থেকে তা মাপমতো কাটিয়ে নেন ক্রেতারা। সর্বনিম্ন ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার মধ্যে এ কাটিংয়ের কাজ করেন এসব সেলাই কারিগর। তাঁদেরই একজন মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছরে ঈদ মৌসুমে কাজ অনেক কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন কাজ করোনার আগের অবস্থায় পৌঁছেছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন