বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হাট নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় গতকাল সোমবার দুই দেশের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশে চারটি বৈঠক হলো। গতকালের বৈঠকে আগামী মার্চ মাসে হাটের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কসবার ডাকবাংলোতে বেলা ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত বৈঠক চলে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এডিএম নাজমা বেগম এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সিপাহীজলা জেলার এডিএম দিলীপ কুমার চাকমা।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুল হক ভূইয়া, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, কসবা পৌরসভার মেয়র মুহাম্মদ ইলিয়াছ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেল আহমেদ, কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, বিজিবির কোম্পািন কমান্ডার মো. আমিনুল ইসলাম, কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা ইয়াছমিন আক্তার, নির্বাহী হাকিম হুমায়ুন কবির ও কানিজ ফাতেমা।
ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার শিল্প ও বাণিজ্য উন্নয়ন করপোরেশনের পরিচালক ওয়াল এল আগার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সংসিষ্ঠা চক্রবর্তী, কোম্পানি কমান্ডার কোয়ার সিং মাহথির, বিশালঘর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপারসন দুলন সরকার হাজারি প্রমুখ।
বৈঠক শেষে দুই দেশের এডিএম সাংবাদিকদের জানান, হাটের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ৪০ ভাগ শেষ হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষে হবে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এ হাট উদ্বোধন করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছ, সীমান্তের ২০৩৯ পিলারের কাছে কসবা পৌর এলাকার রেলস্টেশন-সংলগ্ন এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহিজলা জেলার কমলাসাগর এলাকায় দুই দেশের সমপরিমাণ এক একর ৫০ শতক জায়গায় সীমান্ত হাট নির্মাণ করা হচ্ছে। ভারত সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে দুই কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সীমান্ত হাটের নির্মাণকাজ চলছে।
হাটে দুই দেশের ২৫টি করে ৫০টি দোকান বসবে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টা থেকে শুরু করে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এ হাট চলবে। সীমান্ত হাটে একসঙ্গে ১৫০ জন করে দুই দেশের ৩০০ ক্রেতা কেনাকাটা করতে পারবেন। সীমান্ত হাটে ভারত ও বাংলাদেশের দুই দিকে দুটি ফটক থাকবে।
সীমান্ত হাটে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্লাস্টিকের সামগ্রী, বিস্কুট, পুরুষের ব্যবহারের লুঙ্গি, শুকনো মাছ (শুঁটকি), বেকারি সামগ্রী, শাকসবজি, অ্যালুমিনিয়াম, রান্নার সামগ্রী, ফলের জুস, ফলমূল, স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য, মেলামিন সামগ্রী, ক্ষুদ্র কৃষি ও গৃহ নির্মাণের সামগ্রী, তৈরি ও খাদি কাপড় এবং প্রসাধনসামগ্রী বিক্রি করা হবে।
ভারতের পক্ষ থেকে বিক্রি হবে শাকসবজি, ফলমূল, মসলা, বাঁশের তৈির বিভিন্ন সামগ্রী, ক্ষুদ্র কৃষি ও গৃহ নির্মাণের সামগ্রী, কাপড়, প্লাস্টিক, প্রসাধন সামগ্রী, অলংকার, গোল আলু, ইস্পাত প্রভৃতি।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন