গ্রাহকের পূর্ণাঙ্গ পরিচিতির (কেওয়াইসি) তথ্য না থাকলেই ব্যাংক হিসাবটি বন্ধ করা যাবে না। ‘সুপ্ত’ হিসাব আকারে চিহ্নিত করে রাখতে হবে। সুপ্ত বলতে বাংলাদেশ ব্যাংক বুঝিয়েছে, হিসাবটি থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করতে দেওয়া যাবে না, তবে জমা নেওয়া যাবে।
এ হিসাবে পরবর্তী সময়ে গ্রাহকের আবেদনের ভিত্তিতে কেওয়াইসি সম্পন্ন করে হিসাবটি আবারও নিয়মিত করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (এফআইইউ) থেকে গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, কোনো কোনো ব্যাংক এফআইইউর (আগের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ) নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না। ২০০২ সালের ৩০ এপ্রিলের আগে খোলা হিসাবে কেওয়াইসি সম্পন্ন করা না থাকলে হিসাবটিকে ‘সুপ্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরিবর্তে বন্ধ করে দিচ্ছে। এটি আগে দেওয়া নির্দেশনার লঙ্ঘন। এ প্রেক্ষাপটে নির্দেশনার যথাযথ পালন এবং ব্যাংকিং রীতিনীতির বাইরে কোনো হিসাব বন্ধ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একটি সময় ব্যাংকগুলো নিজেদের মতো করে হিসাব খুলত। তবে ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হিসাব খোলার আগে গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি (কেওয়াইসি) সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়। পরে ২০০৫ সালের জুলাই মাসে অপর নির্দেশে ২০০২ সালের ৩০ এপ্রিলের আগে খোলা সব হিসাবের কেওয়াইসি নিতে বলা হয়। নির্দেশে আগে খোলা সব হিসাবে কেওয়াইসি নিতে ব্যাংকগুলোকে প্রথমে ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল, পরে আবার ২০১২ সালের মধ্যে সমাপ্ত করতে বলা হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ে তথ্য হালনাগাদ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সাতটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে গত নভেম্বর মাসে জরিমানা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন