ঢাকার গুলশানে সিক্স সিজেন্স হোটেলে কেয়ার বাংলাদেশের টিপিং পয়েন্ট প্রকল্প একটি কথাচিত্রের আয়োজন করা হয়। গত মঙ্গলবারের এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লোটা শ্লিটার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার হাইকমিশনের উন্নয়ন সহায়তা বিভাগের প্রধান ফেডরা মুন মরিস।

প্রদর্শনীতে কথাচিত্রের মাধ্যমে কিশোরী ও নারী তাদের নিজেদের জীবনের এবং সমাজের বিভিন্ন পরিবর্তন তুলে ধরা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে অভিনব পদ্ধতিতে মোকাবিলার চেষ্টার কথা তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সনাতনী রীতি ও চর্চা যা কিশোরীদের ক্ষমতায়নের পথে বাঁধা সৃষ্টি করে তা এই প্রকল্প ইতিবাচক বার্তা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। গত ৩ বছরে এই কর্মকাণ্ডে কিশোরী মেয়েদের জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে তার মূল্যায়নের মাধ্যম হিসেবে ‘টিপিং পয়েন্ট’-এর এই কথাচিত্রের আয়োজন। কিশোরী মেয়েদের ও ময়েরা যারা কখনও ক্যামেরা ব্যবহার করেননি, আলোকচিত্রের মাধ্যমে তাদের অভিমত প্রকাশ করে। এই সব আলোকচিত্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কিশোরী ও নারীদের জীবনের বাস্তব প্রেক্ষাপট ফুটে উঠছে।

সুনামগঞ্জের কিশোরী শিপন হাজরা, সাজেনা আখতার, জেসিয়া আখতার, শিউলি সেনাপতি নিজেরা প্রমুখ তাদের পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরেন। নিজেরা করি’র খুশি কবির, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানা ও আইসিডিডিআরবি–র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট রুচিরা তাবাসসুম নাভেদ প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

কথাচিত্র প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত বিভিন্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় শিক্ষা, খেলাধুলা, শরীর চর্চা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগের সঙ্গে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক প্রবণতার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কিশোরীদের মতে, মেয়েদের জন্য শিক্ষা, খেলাধুলা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি ছেলেদের গৃহস্থালী বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দেওয়া, বাল্যবিবাহ রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উল্লেখ্য, মেয়েদের সব ধরনের অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য, যা ব্যতিরেকে বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব নয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0