default-image

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক রবার্তো আজেভেদো সময়ের আগেই পদত্যাগ করছেন। তাঁর মেয়াদ আরও এক বছর থাকলেও আগামী ৩১ আগস্ট দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি। তার আগেই নতুন মহাপরিচালক নির্বাচিত করবে সংস্থাটি। হঠাৎ করে মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাত বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা আজেভেদো।

৬২ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান কূটনীতিক আজেভেদো ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর পরে আবার দায়িত্ব পান। ২০২১ সালে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। চলে যাওয়ার কারণটা ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ করেন আজেভেদো। তবে তিনি এ–ও বলেন, করোনা–পরবর্তী নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য সংগঠনের আলাদা নেতা থাকা ভালো।

এরপর থেকেই বৈশ্বিক সংকটের বর্তমান পরিস্থিতিতে ডব্লিউটিওর দায়িত্ব কে নিতে যাচ্ছেন তা নিয়ে অনেক আলোচনা, জল্পনাকল্পনা চলছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সংগঠনটির বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য এখন এমন এক সময়, যখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনেক দেশের অগ্রাধিকার নয়।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক এ সংস্থা ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সমালোচকেরা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি বিকশিত হতে ব্যর্থ হয়েছে। আর এখন তো এমন এক সময়, যখন প্রতিষ্ঠানটি গভীর অস্তিত্বসংকটে রয়েছে।

>

এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে সাতজন ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এ পদের দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন সাতজন প্রার্থী। প্রার্থীদের আবেদনপর্ব গত বুধবার শেষ হয়।

এবার দেখে নেওয়া যাক কারা ডব্লিউটিওর ডিজি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন:

১. লিয়াম ফক্স: যুক্তরাজ্যের প্রথম ব্রেক্সিট-পরবর্তী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি ডব্লিউটিওর কার্যক্রম হালনাগাদকরণ ও সংস্কার সমর্থন করেন।

২. আমিনা মোহামেদ: কেনিয়ার আইনজীবী, কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ। সময় শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি আবেদন করেন। আমিনা ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কেনিয়ার বিদেশবিষয়ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

৩. ইউ মায়ুং-হি: তিনি এশিয়া থেকে একমাত্র প্রার্থী। ইউ মায়ুং-হি হচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী।

৪. যিশু সিড কুড়ি: ডব্লিউটিওর সাবেক উপমহাপরিচালক। ৭৩ বছরের সিড কুড়ি মেক্সিকোর অর্থনীতিবিদ। ২০১৮ সালে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকাবিষয়ক উপসচিব ছিলেন।

৫. এনগোজি ওকনজো-আইওয়ালা: আফ্রিকান দেশ নাইজেরিয়ার সাবেক পররাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রী এনগোজি ওকনজো-আইওয়ালা।

৬. হামিদ মামদৌহ: মিসরের সাবেক কূটনীতিক হামিদ মামদৌহ এর আগে ডব্লিউটিওতে কাজ করেছেন।

৭. টিউডর উলিয়ানভস্কি: পূর্ব ইউরোপের দেশ মলদোভার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। উলিয়ানভস্কি ২০১৮–১৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের আগে ১৫ বছর তিনি কূটনীতিক হিসেবে কাজ করেন।

ডব্লিউটিও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে এখন পর্যন্ত এর তিনজন মহাপরিচালক ইউরোপের ছিলেন। এ ছাড়া ওশেনিয়া, এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা থেকে একজন করে মহাপরিচালক হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0