ক্রেডিট কার্ডের নিয়মিত সুদ আরোপ বন্ধে কোন নির্দেশনা দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে যারা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন, তাদের নিয়মিত সুদ আরোপ অব্যাহত রয়েছে এবং তা পরিশোধ করতেই হবে। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডের বাৎসরিক মাশুলও গুনতে হবে। তবে নিয়মিত সুদের উপর চক্রবৃদ্ধি সুদ, বিলম্বে পরিশোধে জরিমানা ও অতিরিক্ত মাশুল আদায় বন্ধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত অতিরিক্ত সুদ ও জরিমানা আদায় বন্ধ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংক ভেদে ক্রেডিট কার্ডের সুদ হার ১২ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত। আর বাৎসরিক মাশুল তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের চক্রবৃদ্ধি সুদ আরোপ ও আদায় স্থগিত, জরিমানা ও বিলম্বে বিল পরিশোধে মাশুল আদায় বন্ধের নির্দেশের পর অনেক গ্রাহক বিভিন্ন মাধ্যমে জানাচ্ছেন, সুদ আদায় বন্ধ হয়নি। আবার অনেকে বিলম্বে বিল পরিশোধে মাশুল আদায়ের কথাও বলছেন।

ব্যাংকগুলোর কার্ড বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, যে বিলম্ব সুদ আদায় করা হচ্ছে তা ১৫ মার্চের আগের। এরপর শুধু নিয়মিত সুদ আরোপ ও আদায় করা হচ্ছে। যদি বেশি সুদ আদায় করা হয়, তা ফেরত দেওয়া হবে। অনেক গ্রাহক কার্ডের মাধ্যমে খরচের হিসাব না রাখায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে মনে করছে ব্যাংকাররা।

আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সুদ মাফ করার কোন নির্দেশনা দেয় নি, এটা দিতেও পারে না। ক্রেডিট কার্ডে চক্রবৃদ্ধি সুদ ও জরিমানা যাতে আদায় করা না হয়, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটা না হলে গ্রাহকদের অনেক বেশি টাকা জরিমানা ও সুদ দিতে হতো। করনো ভাইরাসের কারনে অনেকের আয় কমে গেছে, তাই গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনা করে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিরাজুল ইসলামের পরামর্শ, যদি কোন ব্যাংক নির্দেশনা মেনে চক্রবৃদ্ধি সুদ ও জরিমানা আদায় বন্ধ না করে তাহলে গ্রাহকেরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগ জানাতে পারে। অভিযোগ যথাযথ হলে গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পাবে।

এর আগে পৃথক দুই নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ক্রেডিট কার্ড গ্রাহককে সুদের উপর নতুন করে কোনো সুদ আরোপ করতে পারবে না ব্যাংকগুলো। এর আগে ব্যাংকগুলোকে জরিমানা আদায় বন্ধ করতে বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো কোনো ব্যাংক অপরিশোধিত ক্রেডিট কার্ড বিলের ওপর মাসিক ভিত্তিতে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আরোপ করছে। এর ফলে গ্রাহক কর্তৃক অতিরিক্ত সুদ প্রদান করতে হচ্ছে বা হবে, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে যা গ্রহণযোগ্য নয়। এ প্রেক্ষিতে ক্রেডিট কার্ডের বিলের ওপর ১৫ মার্চ থেকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত দৈনিক অথবা মাসিক ভিত্তিতে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আরোপ না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে যেসব গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের ওপর দৈনিক ভিত্তিতে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আরোপ করা হয়েছে বা আদায় করা হয়েছে তাদের সেই টাকা ফেরত দিতে হবে অথবা আদায় করা যাবে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক এলাকাতেই লকডাউন করা হয়েছে। নাগরিকদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রাহকেরা কিস্তি বা বিভিন্ন বিল পরিশোধ করতে পাড়ছে না। এ কারনে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিংয়ের প্রধান মাহীয়ুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক আগে থেকেই চক্রবৃদ্ধি সুদ নেয় না। যেসব জরিমানা নেওয়া হয়েছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা পাওয়ার পর তা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ লাখ ৩ হাজার ৪২৭ জন। গত জুনে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।

বর্তমানে দেশে ৪০টির মতো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় সবাই ভিসা ও মাস্টারকার্ড ব্র্যান্ডের মাধ্যমে কার্ড সেবা দিচ্ছে। তবে এর বাইরে কয়েকটি ব্যাংক কার্ড সেবাকে অভিনবত্ব দিতে অন্য ব্র্যান্ডের কার্ডও এনেছে। সিটি ব্যাংক এমেক্স কার্ড, প্রাইম ব্যাংক জেবিসি কার্ড, ইস্টার্ন ব্যাংক ডাইনার্স ক্লাব কার্ড, ডাচ–বাংলা ব্যাংক নেক্সাস পে কার্ড ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ইউনিয়ন পে ইন্টারন্যাশনালের সেবা দিচ্ছে। ক্রেডিট কার্ড সেবায় সিটি ব্যাংকের পরে রয়েছে ইস্টার্ন, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ও ব্র্যাক ব্যাংক।

একাধিক ব্যাংকের কার্ড বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নির্দেশনা মেনে তারা চক্রবৃদ্ধি সুদ ও জরিমানা আদায় বন্ধ করেছে। তবে নিয়মিত সুদ আরোপ অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0