গতকাল রাজধানীর মিরপুর-১, মিরপুর-৬, খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এই ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকায়। আর ৮০০ গ্রাম বা এর চেয়ে কম ওজনের ইলিশ গতকাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়।

আকারভেদে শিং মাছ প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, রুই ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, মৃগেল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, কাতল ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে শিং মাছে কেজিতে ৫০ টাকা এবং অন্য মাছ গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

মিরপুর-৬ নম্বর সেকশন কাঁচাবাজার থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে প্রায় আড়াই কেজি ওজনের একটি রুই মাছ কেনেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মুজাহিদ উদ্দিন। তিনি থাকেন মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনে। মুজাহিদ বলেন, গত শুক্রবারও একই আকারের রুই মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। এবার ক্রেতা বেশি দেখে দোকানদার তাঁর কাছে দাম বেশি রেখেছে বলে জানান।

কাঁচকি ও মলা মাছ বিক্রি হয়েছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে, দেশি ট্যাংরা ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি চিংড়ি (ছোট) ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, চিতল ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, লকডাউনের কারণে হঠাৎ মাছের চাহিদা বেড়েছে। সে তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম। দামও তাই বাড়তি।

মিরপুর-৬ নম্বর সেকশন কাঁচাবাজারের মাছ ব্যবসায়ী আনসার আলী প্রথম আলোকে বলেন, তেলাপিয়া মাছের দাম এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। এখন তেলাপিয়ার সর্বনিম্ন দাম ১৪০ টাকা।

এই বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে কেজি ১৪০ টাকায়, সোনালিকা (কক) বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকায়। বিক্রেতা মো. আবদুল কালাম বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনি ১৩ জন ক্রেতার কাছে প্রায় ৫০ কেজি সোনালিকা মুরগি বিক্রি করেছেন। আর ব্রয়লার বিক্রি করেছেন ৬০ কেজি।

গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ বাজারে ক্রেতার বেশ ভিড় ছিল। ভিড়ের কারণে একে অন্যের গায়ে গা লাগিয়ে বাজার করতে হয়েছে ক্রেতাদের। অনেকের মুখে মাস্কও ছিল না। ভিড় ঠেলেই এই বাজার থেকে কলমিশাকের আঁটি ১৫ টাকা ও পুঁইশাকের আঁটি ২০ টাকা এবং পেঁপের কেজি ৩০ ও পটোল ৪০ টাকা কেজি দরে কেনেন গৃহিণী নীলু মমতাজ। ওই এলাকার উত্তর গোড়ানে তাঁর বাসা।

নীলু প্রথম আলোকে বলেন, সবাই পাগলের মতো কেনাকাটা করছে। বিক্রেতারাও এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, বিক্রেতা শাকের আঁটিতে ৫ টাকা এবং প্রতি কেজি সবজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি দাম রেখেছেন।

তবে মূল্যবৃদ্ধির এমন অস্থিরতায় ভোজ্যতেল (বোতলজাত) লিটারে ৪ টাকা কমানোর ঘোষণা এসেছে। গতকাল ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বিপণনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল কিনতে লাগবে ১৪৯ টাকা। খোলা তেল কিনলে দাম পড়বে ১২৫ টাকা।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন