গুলিস্তানে মেলে সব ব্র্যান্ডের এসি

রাজধানীর গুলিস্তানে স্টেডিয়াম মার্কেটের একটি বিক্রয়কেন্দ্রে এসি দেখছেন ক্রেতারাছবি: খালেদ সরকার

কম বাজেটের মধ্যে মোটামুটি মানের ব্র্যান্ডের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) কিনতে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম মার্কেটে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাইসুল আমিন। সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও রয়েছেন। তবে ঘণ্টা দেড়েক গোটা দশেক দোকান ঘুরলেও কোন ব্র্যান্ডের এসি কিনবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তাঁরা।

দেশে ইলেকট্রনিকস পণ্যের বড় বাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে গত সোমবার গিয়ে রাইসুল আমিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বললেন, ‘পরিচিত অনেকের কাছে শুনেছি, স্টেডিয়াম মার্কেটে কম দামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসি মেলে। সে জন্যই এলাম। বাজারটা বোঝার চেষ্টা করছি। জীবনযাত্রার যে ব্যয়, তাতে আমাদের মতো চাকরিজীবীর জন্য এসি কেনা ও পরে এটার খচর বহন করা কষ্টসাধ্য। তবে দুই বছর বয়সী সন্তানকে একটু আরামদায়ক পরিবেশ দিতে এসি এবার কিনতেই হবে।’

রাইসুল আমিনের মতো অনেক ক্রেতাই দরদাম করে এসি কেনার জন্য স্টেডিয়াম মার্কেটে আসেন। এই বাজারে দেশি সব ব্র্যান্ডের পাশাপাশি বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যও মেলে। একই সঙ্গে কম দামের নন-ব্র্যান্ডের এসিও পাওয়া যায় এই মার্কেটে। যদিও নন–ব্র্যান্ডের এসব এসির দাম যেমন কম, তেমনি মানের বিষয়েও আছে প্রশ্ন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টেডিয়াম মার্কেটে প্যানাসনিক, ওয়ার্লপুল, মিতসুবিশি, হিটাচি, জেনারেল, স্যামসাং, ডেইকিন, কেরিয়ার, ট্রান্সটেক, শার্প, গ্রি ও মিডিয়ার পণ্য মেলে। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ওয়ালটন, মার্সেলের পাশাপাশি আছে ভিশন, মিনিস্টার ও তুলনামূলক নতুন ব্র্যান্ড বেইল। কিছুটা অপরিচিত নন–ব্র্যান্ড এসির মধ্যে আছে চিগো, এলিট, গ্রিনস ও গ্রিন এয়ার।

তাসফিয়া ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গরম পড়ার সঙ্গে এসির বাজার সচল হতে শুরু করেছে। অন্যান্যবারের তুলনায় এবার গরম পড়ছে বেশি। সুতরাং আশা করছি, বাজার খারাপ যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘পাইকারির পাশাপাশি খুচরা মিলিয়ে বছরে হাজারখানেক এসি বিক্রি করি। মূলত একটু কম বাজেটের মধ্যে ভালো মানের এসি ক্রয় করার জন্য এখানে ক্রেতারা আসেন। যেহেতু বাজার বড়, সুতরাং এখানে ক্রেতাদের দেখেশুনে ও দামাদামি করে এসি ক্রয় করার সুযোগ থাকে।’

স্টেডিয়াম মার্কেটের কয়েকজন বিক্রয়কর্মী জানান, গুলিস্তানের এই মার্কেটে ১ থেকে ২ টনের এসি ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ দেড়েক টাকায় কেনা সম্ভব। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সময়ে সময়ে অফার দিয়ে থাকে। তখন আরও কমে পাওয়া যায়। তবে এখান থেকে এসি কিনতে হলে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।

‘পাইকারির পাশাপাশি খুচরা মিলিয়ে বছরে হাজারখানেক এসি বিক্রি করি। মূলত একটু কম বাজেটের মধ্যে ভালো মানের এসি ক্রয় করার জন্য এখানে ক্রেতারা আসেন। যেহেতু বাজার বড়, সুতরাং এখানে ক্রেতাদের দেখেশুনে ও দামাদামি করে এসি ক্রয় করার সুযোগ থাকে।’

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, এখানে একটা চক্র আছে। যারা স্থানীয় বাজারে তৈরি পণ্যে স্টিকার লাগিয়ে গ্রাহকদের ঠকানোর চেষ্টা করে। এসব এসি কেনার পর নানা ত্রুটি ধরা পড়ে। অনেকে আবার ওয়ারেন্টি কিংবা গ্যারান্টির নামে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। অকেজো হওয়া তো বটেই, অনেক সময় এসব এসি বিস্ফোরণের কারণ হয় বলে উল্লেখ করেন এই বিক্রেতা।

দেশীয় ব্র্যান্ড মার্সেলের বিক্রয়কর্মী স্যামিউল ডায়সও অনেকটা একই সুরে কথা বললেন। তিনি বলেন, এখান থেকে নন-ব্র্যান্ডের পণ্য না কিনে তুলনামূলক কম দামে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পণ্য ক্রয় করা ভালো। তাতে ক্রেতাদের ওয়ারেন্টির মতো বিক্রয়োত্তর সেবা পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।

গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুলিস্তানের এই বাজারে এসির দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। তবে বিক্রেতারা এবার মূল্যবৃদ্ধির জন্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করছেন। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এসির দাম ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বেড়েছে। এসি মেরামতের যন্ত্রাংশ ও ফিটিংসের সামগ্রীর দামও বাড়তি।

স্টেডিয়াম মার্কেটের ছোট একটি দোকানে এসির যন্ত্রাংশ বিক্রয় করেন মো. ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘ফিটিংসের নানা উপকরণসহ বিদেশ থেকে এসির যেসব যন্ত্রাংশ আসে, সেগুলোর দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। বাড়তি দাম মানে ক্রেতারা দরদাম করবেন। অনেকে এসির সার্ভিসিং করাতে চাইবেন না। আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা খারাপ যাবে।’