নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গতকাল রোববার উদ্বোধন করা হয়েছে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বিকেলে ফিতা কেটে এই মেলার উদ্বোধন করেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে মেলা উদ্বোধন হলেও এখনো মেলা চত্বরে নির্মাণকাজ চলতে দেখা গেছে। অধিকাংশ স্টলের কাঠামো তৈরি হলেও একটিও প্রস্তুত হয়নি। এসব কাজ শেষ করতে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে বলে মেলার আয়োজক চট্টগ্রাম চেম্বার সূত্রে জানা গেছে। স্টল না থাকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে শুধু আমন্ত্রিত অতিথিরাই উপস্থিত ছিলেন মেলা চত্বরে।
মেলা চত্বরের সামনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এই বাণিজ্য মেলা দেশি-বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধের সুযোগ তৈরি করবে। মেলায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় উদ্যোক্তারা বিদেশি পণ্য ও প্রযুক্তি প্রত্যক্ষ করে নিজেদের পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নে উৎসাহিত হবেন।
চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রতি প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, এলএনজি টার্মিনাল ও টানেল নির্মাণ, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চাঙা হবে। শিল্পায়ন কার্যক্রমেও গতি আসবে। চট্টগ্রামে আরও বড় পরিসরে মেলা হওয়া উচিত ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের বাণিজ্য মেলা যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, আমার দৃষ্টিতে সেভাবে হয়নি। আরও বেশি উপস্থিতি ও প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম। এ সময় আরও বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিউল ইসলাম, চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন নেওয়াজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, দেশীয় রপ্তানিমুখী বৃহৎ শিল্প, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। থাইল্যান্ড, ভারত, ইরান ও মরিশাসের উদ্যোক্তারা এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছেন। এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় প্রবেশমূল্য রাখা হচ্ছে ১০ টাকা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন