রোখসানা খানম বলেন, ‘এই সময়ে পারলারে ভিড় অনেক বেশি থাকে। এ জন্য এবার আগে থেকে ফোন করে সময় নিয়ে এসেছিলাম। যার কারণে দ্রুত সাজগোজ শেষ করে বাসায় ফিরতে পারছি। রান্নাবান্নার কাজ আগেই এগিয়ে রেখেছি। এখন বাসায় ফিরে বাচ্চাদের সাজ নিয়ে বসব।’

ভিড় কেমন জানতে চাইলে পারলাটির একজন বিউটিশিয়ান বলেন, সবাই কাজে ব্যস্ত। কথা বলার মতো ফুসরত তাঁদের নেই। এরপর প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সুমা কস্তা বের হয়ে আসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিন ১০-১৫ জনকে সাজিয়েছি গত তিন দিনে। তাতে আমাদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় হয়েছে। আজকে চাপ একটু বেশি। ব্যবসা মোটামুটি ভালোই হয়েছে।’

ঈদের পরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে অনেকে সাজতে আসবেন বলে জানান তিনি।
কেনাকাটা শেষে ঈদের আগের কয়েক দিন পারলার ও সেলুনমুখী হয় নগরবাসী। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে সবাই নিজের সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সে কারণেই রাজধানীর বিউটি পারলার আর সেলুনগুলোতে থাকে সব বয়সী নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। চাঁদরাতে এই ভিড় বেশি লক্ষ করা যায়। মাঝরাত গড়িয়েও নগরীর পারলার-সেলুন খোলা থাকে।

এসব সেবাদাতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ সময় নারীরা চুল কাটা, ভ্রু প্ল্যাক, ফেসিয়াল, মেহেদি লাগানোসহ নানা সাজের জন্য পারলারে আসেন। অনেকে ম্যানিকিউর-পেডিকিওর করে নেন। পুরুষেরা চুল ছাঁট, সেভ, ফেসিয়াল এবং কেউ কেউ চুলে রং করান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু যে সাজগোজই চলে এমন নয়, সাজের জন্য প্রসাধনীও কিনছেন অনেকে। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের স্কিন অ্যান্ড লাউঞ্জ বিউটি পারলারে প্রসাধনীও বিক্রির একটি স্টল রাখা হয়েছে। নিয়মিত বেচাকেনার পাশাপাশি উৎসব এলে এসব পণ্যের বাড়তি কাটতি থাকে বলে জানান সেখানকার কর্মীরা।

প্রতিষ্ঠানটির বিউটিশিয়ান হ্যাপি ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে পারলারের থেকে বেশি ক্রেতা আসেন প্রসাধনী কেনার জন্য। আমাদের পণ্যের বেশ সুনাম আছে। সবাই চান ভালো পণ্য কিনতে। তবে সেটার জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। পারলারে তো মানুষ মাসে দু-তিনবার আসেন। কিন্তু বাকি দিনগুলোতে তাঁকে নির্ভর করতে হয় এসব পণ্যের ওপর। এ জন্য নিজে কোন পণ্যটা কিনছেন, যাচাই করে নিতে হবে। পাশাপাশি পারলারে কী প্রসাধনীর ব্যবহার হচ্ছে, সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

চাঁদরাতে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও সেলুনে ভিড় করতে দেখা গেছে। লম্বা লাইনে সিরিয়ালে আছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। শেষ সময়ে নরসুন্দরদের তাই দম ফেলানোর সময় নেই। রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকার ম্যান কেইভ সেলুনের চার কর্মীকেও ব্যস্ত পাওয়া গেল।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবার সেলুনে অনেক মানুষ এসেছে। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন ৪০-৪৫ জনকে সেবা দিয়েছেন। আজকে শতাধিক মানুষকে সেবা দিতে হবে। চাঁদরাতে চাপ একটু বেশি থাকে। তাঁরাও শেষ রাত পর্যন্ত কাজ করার প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। সেলুনের কর্মীদের বাড়তি কিছু আয় হয়।

মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঈদ এলে একটা আন্তরিক পরিবেশ বিরাজ করে। অনেকে সেবা নেওয়ার পর কর্মীদের বকশিশ দেন। তবে এখনো অনেকে করোনার ভয়ে সেলুনে আসতে চান না।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন