চীনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দরপত্র সীমাবদ্ধ রেখে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ ধরনের দরপত্র প্রক্রিয়া সীমিত দরপত্র হিসেবে পরিচিত। অর্থমন্ত্রী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ-ও বলেছেন, সীমিত দরপত্র ডাকা সম্ভব না হলে প্রকল্পটি বাতিল করে দিতে।
ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া বিটিসিএলের প্রকল্পটির নাম ‘ডিজিটাল সংযোগ বাড়াতে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ (এমওটিএন)’। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনা প্রতিষ্ঠান জেডটিইর সঙ্গে গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুক্তি করে বিটিসিএল। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে চীন থেকে আসার কথা ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। বাকি ১৯৬ কোটি টাকা সরকার দেবে। একই কাজের জন্য চীনের দুটি কোম্পানি যথাক্রমে ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকা ও ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রস্তাব জমা দিলেও সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে লেখা অর্থমন্ত্রীর চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির জন্য ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার থেকে ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের প্রস্তাব আছে। সব প্রস্তাবই যেহেতু চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়েছে তাই এ ক্ষেত্রে সীমিত দরপত্র দাবি করা যথাযথ হবে। সেটি না হলে প্রকল্পটি আপাতত বাতিল করা উচিত।
জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে প্রকল্পের জন্য সীমিত দরপত্র আহ্বানের কথা বলা হয়েছে সেটি বিটিসিএলের এমওটিএন প্রকল্প কি না, জানতে চেয়ে অর্থমন্ত্রীকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর উত্তর পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সীমিত দরপত্র আহ্বানের যে পরামর্শ অর্থমন্ত্রী দিয়েছেন সেটির সঙ্গে আমি একমত।’
৮০০ কোটি টাকার বেশি দিয়ে জেডটিইর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোয় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর প্রকল্পটির ডিপিপি বা প্রকল্প প্রস্তাবনা আটকে দেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। যদিও পরে লিখিত জবাবে প্রকল্পটির অনিয়মের দায় পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ওপর চাপায় বিটিসিএল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন