>
  • অ্যাননটেক্স জালিয়াতি
  • নিরীক্ষার জন্য স্বনামধন্য কোনো নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করতে বলা হয়েছে।
  • এক মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

অ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে জনতা ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষার (ফাংশনাল অডিট) নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্বনামধন্য কোনো নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নিরীক্ষার মাধ্যমে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দায়দায়িত্ব নিরূপণ করতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকটির চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গত সোমবার এ নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। এর আগে সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ও ফারমার্স ব্যাংকের জালিয়াতিতে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ব্যাংকগুলোতে একই ধরনের নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, যার মাধ্যমে জড়িতরা চিহ্নিত ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপিত হয়েছিল।
এদিকে গত সোমবার অপর এক চিঠিতে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুছ ছালাম আজাদকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, অ্যাননটেক্স-সংশ্লিষ্ট ২২ প্রতিষ্ঠানকে একই গ্রুপভুক্ত বিবেচনা করে পরবর্তী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর ফলে গ্রুপটির ৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ একই মালিকের হিসাবে চিহ্নিত করতে হবে। এত দিন ছয় হাজার কোটি টাকার ঋণকে তিনটি গ্রুপের দায় হিসেবে বিবেচনা করছিল জনতা ব্যাংক।
এ বিষয়ে গতকাল দফায় দফায় যোগাযোগ করেও ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, অ্যাননটেক্স গ্রুপের প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ঋণের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ইউনুছ বাদল একাই। তাঁর মূল ব্যবসা বস্ত্র উৎপাদন ও পোশাক রপ্তানি। ২০০৪ সাল থেকে জনতা ব্যাংকের শান্তিনগর শাখায় প্রথম ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে অ্যাননটেক্স গ্রুপের জুভেনিল সোয়েটার। ওই শাখার বেশি ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকায় ২০০৮ সালে জনতা ভবন করপোরেট শাখায় ঋণটি স্থানান্তর করা হয়। ২০১০ সাল থেকে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান খুলে ঋণসুবিধা নেওয়া শুরু হয়। এক ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে এত টাকা দেওয়ায় নতুন ঋণ দেওয়ার সব সামর্থ্যই এখন হারিয়ে ফেলেছে জনতা ব্যাংকের এই শাখা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারকাতের সময় এই অর্থ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ বছর জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত এমডি ছিলেন এস এম আমিনুর রহমান। জনতা ভবন করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন আবদুছ ছালাম আজাদ। এখন তিনি এই ব্যাংকেরই এমডি।

জনতা ব্যাংকের একাধিক নথি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, অ্যাননটেক্সের বিভিন্ন কোম্পানির নামে বিভিন্ন সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে ব্যাংক নিজেই বাধ্য হয়ে বিদেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে অর্থ শোধ করে দিয়েছে। পরে গ্রাহক তা পরিশোধ করেনি। এসব দায়ের বিপরীতে ফোর্সড ঋণ তৈরি করেছে ব্যাংক। এভাবে নেওয়া ঋণসুবিধার (নন-ফান্ডেড) সব অর্থই সরাসরি ঋণে (ফান্ডেড) পরিণত হয়েছে। আবার দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনার জন্য নেওয়া চলতি মূলধনও দেওয়া হয়েছে। এর বড় অংশই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। গ্রুপটির ৬ হাজার কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ৩ হাজার ৫৬ কোটি টাকায় এখন খেলাপি।

ব্যাংকটির মতিঝিল প্রধান কার্যালয় জনতা ভবন শাখার এ ঋণ এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি। কারণ, একটি শাখা থেকে এ বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণের ঘটনা আগে ঘটেনি। যেটিকে বলা হচ্ছে, একক ঋণের বৃহত্তম কেলেঙ্কারি।

ক্রিসেন্টকে আবার সুবিধা, জিএম প্রত্যাহার
এদিকে ক্রিসেন্ট গ্রুপকে আবারও ঋণপত্র খোলার সুবিধা দিয়েছে জনতা ব্যাংকের লোকাল শাখা। এ জন্য শাখাটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবদুল আওয়ালকে প্রত্যাহার করে মানবসম্পদ বিভাগে যুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশ ছিল, ক্রিসেন্টকে নতুন করে কোনো সুবিধা দেওয়া যাবে না। ক্রিসেন্ট গ্রুপ সব মিলিয়ে সরকারি তহবিল ও ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক সুবিধা নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0