বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে মুঠোফোনে সংগঠনটির সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএসবিআরএর সহকারী সচিব নাজমুল ইসলাম। জাহাজভাঙা কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। নথিপত্র জব্দ করা কারখানাগুলো হলো ভাটিয়ারি স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড, প্রিমিয়ার ট্রেড করপোরেশন, মাহিনুর শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও এসএন করপোরেশন।

নাজমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব ঘোষণা কিংবা কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে চারটি কারখানায় একযোগে অভিযান চালায় কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনের গঠিত তিনটি দল। তারা একযোগে পৃথক পৃথক জাহাজভাঙা কারখানায় গিয়ে কারখানার নথিপত্র ও কম্পিউটার জব্দ করে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের ভ্যাট কার্যালয়ে নিয়ে যায়। অভিযানের সময় কর্মকর্তারা এ রকম তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষগুলো হতভম্ব হয়েছে বলে জানান তিনি।

নাজমুল ইসলাম আরও বলেন, এ ঘটনার প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে সব কটি জাহাজভাঙা কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে বিএসবিআরএ। ফলে বুধবার থেকে কারখানায় জাহাজ কাটিং, স্ক্র্যাপ সরবরাহসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বিএসবিআরএ সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ডের উপকূলে মোট ১৫০টি জাহাজভাঙা কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে সচল কারখানার সংখ্যা ৬০টি। এ কারখানাগুলোতে ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। কারখানা বন্ধের কারণে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বেকার হয়ে পড়বেন তাঁরা।

চট্টগ্রাম কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার হাসান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে কিংবা দিতে পারে, ওই প্রতিষ্ঠানে তাঁরা নিয়মিত অভিযান চালান। তাঁদের কাছে তথ্য ছিল যে ওই কারখানাগুলো ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে কিংবা দিতে পারে। সে জন্য তাঁরা কারখানাগুলোয় অভিযান চালিয়ে নথিপত্র জব্দ করেছেন। এখন জব্দ করা কাগজপত্র যাচাই–বাছাই করে দেখবেন তাঁরা। যত কাগজপত্র নিয়েছেন, সেগুলো যাচাই করতে অনেক সময় লাগবে।

আরেফিন এন্টারপ্রাইজ নামে জাহাজভাঙা কারখানার মালিক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁর ৪০ বছরের ব্যবসার ইতিহাসে এ ধরনের অভিযান দেখেননি। কখনো তাঁদের কাগজপত্র জব্দ করতে হয়নি। কারণ, জাহাজভাঙা কারখানাগুলো ভ্যাট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ভ্যাট অগ্রিম পরিশোধ করেন। ফলে তাঁদের ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবু যদি ভ্যাট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়, তাহলে তাঁরা নোটিশ দিয়ে জানাতে পারতেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের সহযোগিতা করত। তিনি আরও বলেন, ভ্যাট কর্মকর্তারা তাঁদের হেনস্তা করেছেন। তাঁরা সংক্ষুব্ধ।

কারখানা বন্ধ ও শ্রমিকদের বেকার হওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের বক্তব্য নেই বলে জানান অতিরিক্ত কমিশনার হাসান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন