সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার বা তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাসম্পন্ন পরিচালনাকারী (এসএমপি অপারেটর) হিসেবে গ্রামীণফোনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার দাবি জানিয়েছে বাকি তিন অপারেটর রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ও টেলিটক। তারা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কে এ বিষয়ে গত সোমবার চিঠি দিয়েছে।

গ্রামীণফোন সম্প্রতি বিনামূল্যে ১০ কোটি মিনিট দেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কলরেট কমিয়ে দেওয়া ও চিকিৎসকদের নামমাত্র মূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

মোবাইল অপারেটর রবি বলছে, গ্রামীণফোন তাদের বাজারমুখী পদক্ষেপগুলোকে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার মোড়কে উপস্থাপন করছে। এ নিয়ে তারা গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনও করেছে। অবশ্য গ্রামীণফোন বলছে, এ মন্তব্য দুঃজনক।

বিটিআরসি গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে গ্রামীণফোনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার ক্ষমতা পায় সংস্থাটি। কোনো মোবাইল অপারেটর গ্রাহকসংখ্যা, রাজস্ব অথবা তরঙ্গ—এ তিন ক্ষেত্রের একটিতে ৪০ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যাধারী হলে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করা যায়। গ্রামীণফোন গ্রাহকসংখ্যা ও অর্জিত বার্ষিক রাজস্বের দিক দিয়ে ৪০ শতাংশ বাজার হিস্যাধারী।

বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণার গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি চারটি বিধিনিষেধ জারি করে। বিধিনিষেধগুলো ছিল মাসিক কলড্রপের সীমা ২ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা, দেশজুড়ে কোনো প্রচার বা মার্কেট কমিউনিকেশন না করা , এমএনপির (নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদল) 'লক ইন পিরিয়ড' ৩০ দিনে কমিয়ে আনা ও অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একক বা স্বতন্ত্র চুক্তি না করা। পরে আবার তুলে নেওয়া হয়।

এরপর থেকে এসএমপির বিষয়ে বিটিআরসির তেমন কোনো কার্যক্রম ছিল না। তিন অপারেটর চাইছে, গ্রামীণফোনের ওপর বিধিনিষেধ আবার আরোপ করা হোক। বিটিআরসিকে দেওয়া চিঠিতে তিন অপারেটর বলেছে, আগ্রামী মূল্যহার ও ভর্তুকি মূল্যে কোনো অফার এসএমপি অপারেটরকে দিতে দেওয়া উচিত নয়।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, 'চিঠিটি এখনো হাতে পাইনি। তবে শুনেছি। কাল (বৃহস্পতিবার) আমরা সবাইকে নিয়ে একটি বৈঠক ডেকেছি। মতামত নেওয়ার পর দেখা যাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়।'

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0