default-image

টানা অবরোধ-হরতালে স্থবির হয়ে পড়েছে টাঙ্গাইলের শাড়ির ব্যবসা। ক্রেতা না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও তাঁতিরা। উৎপাদন কমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁতশ্রমিকেরা।
টাঙ্গাইল জেলা তাঁতবস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতি জানায়, জেলায় প্রায় ৭৫ হাজার তাঁত রয়েছে। এসব তাঁতের সঙ্গে অন্তত ১০ হাজার তাঁতি ও ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছেন।
টাঙ্গাইলে সাধারণত ৩০০ থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা দামের শাড়ি তৈরি হয়। বছরে ঈদ, পূজা ছাড়াও পয়লা বৈশাখ, বসন্তবরণ, ২১ ফেব্রুয়ারি ও শীতকালে উৎসবের মৌসুমে শাড়ির ব্যবসা চাঙা থাকে। তবে এবার শেষের তিন উৎসবে হরতাল-অবরোধের
কারণে ব্যবসা না হওয়ায় পয়লা বৈশাখ ও ঈদের শাড়ি উৎপাদনেও হাত দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী হিসেবে খ্যাত দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল। সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই চার মাস বিয়ে-সাদিসহ নানা অনুষ্ঠান লেগে থাকে। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকার আসেন। তবে এবার উল্টো চিত্র। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাইকার আসছেন না। তাই উৎপাদিত শাড়ি নিয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন তাঁতপল্লি ঘুরে দেখা যায়, কর্মচাঞ্চল্য নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যেখানে তাঁতের খট্ খট্ শব্দে মুখরিত হয়, সেখানে নিস্তব্ধতা। শাড়ি প্রদর্শন ও বিক্রয়ের বড় বড় দোকানের কোনোটা বন্ধ, আবার কোনোটা খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই। কাজ না থাকায় বিক্রয়কেন্দ্র ছেড়ে আড্ডা দিয়ে, তাস খেলে সময় কাটাচ্ছেন অনেকেই।
যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি নামে একটি শাড়ি ব্যবসাকেন্দ্রে গিয়ে কথা হয় ময়মনসিংহ থেকে পাইকারি শাড়ি কিনতে আসা এনামুল হকের সঙ্গে। তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে এই দেড় মাসে অন্তত তিনি পাঁচবার শাড়ি নিতে আসতেন। কিন্তু বেচাকেনা না থাকায় এই প্রথম এলেন। অন্য সময় প্রতিবার শতাধিক শাড়ি নিলেও এবার নিয়ে যাচ্ছেন মাত্র ৪৫টি।
শাড়ি ব্যবসায়ী নীল কমল বসাক জানান, হরতাল-অবরোধের কারণে শীতকালীন ব্যবসাটা মার খেয়েছে। সামনে পয়লা বৈশাখ ও ঈদের ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ বৈশাখ ও ঈদের শাড়ি এই সময়েই উৎপাদন শুরু হয়। আর এবার অনিশ্চয়তার কারণে শাড়ির নকশাই করা হয়নি।
চণ্ডী গ্রামের তাঁতমালিক স্বপন পাল জানান, বিক্রি নেই, তাই শাড়ি উৎপাদন অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে। তাঁর ১৬টি তাঁতের প্রতিটিতে স্বাভাবিক সময়ে সপ্তাহে তিন-চারটি শাড়ি উৎপাদন করলেও এখন একটির বেশি উৎপাদন করা হচ্ছে না।
উৎপাদন কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ তাঁতশ্রমিকেরা। তাঁদের আয়ও কমে গেছে। তাই তাঁদের দুর্ভোগ চরমে।
চণ্ডী গ্রামের তাঁতশ্রমিক নকুল পাল বলেন, হরতাল-অবরোধে বিক্রি কম। তাই মালিকেরা কাপড় কম বানান। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাগো পেট তো বন্ধ থাকে না।’
টাঙ্গাইল তাঁতবস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, জেলায় এই দেড় মাসে তাঁত খাতে অন্তত ৫০ কোটি টাকার লেনদেন কম হয়েছে। এভাবে আর কিছুদিন চললে সামনের বৈশাখ ও ঈদ মৌসুমের বাজারও হারাতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন