default-image

২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধনের তিন দিন পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু। তারপর টানা অবরোধ-হরতাল চলছে। এ জন্য ৪১ দিনের এই মেলা কেবল সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিনে প্রচুর ক্রেতা-দর্শনার্থী দেখেছে। বাকি দিনগুলোতে মেলা প্রাঙ্গণ ছিল প্রায় ফাঁকা। ফলে সব মিলিয়ে মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এবার অসন্তুষ্ট।
অবশ্য এই পরিস্থিতির মধ্যেও এবারের বাণিজ্য মেলায় তাৎক্ষণিক রপ্তানি কাজ বেড়ে ৯৫ কোটি টাকা হয়েছে। গতবার ছিল ৮০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এই তথ্যটি জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ২০১৩ সালে এই বাণিজ্য মেলা থেকেই তাৎক্ষণিক রপ্তানি কাজ পাওয়া যায় ১৫৭ কোটি টাকা।
মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত গতকালের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। টানা অবরোধ-হরতালের মধ্যেও মেলা সফল হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এত কিছুর মধ্যেও মেলার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলেছে। শুধু বেচাকেনা নয়, এটি বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণেও বাণিজ্য মেলা ভূমিকা রাখছে।’ তবে হরতাল-অবরোধের নামে সহিংসতা না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজের সংলাপের প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও অবাস্তব বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘নাশকতা সৃষ্টিকারীদের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। যাঁরা প্রস্তাব দিয়েছেন, তাঁরা সন্ত্রাসী ও গণতন্ত্র রক্ষাকারীদের এককাতারে বসাতে চাইছেন। কিন্তু তাঁরা জানেন না, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে কেউ ক্ষমতা দখল করতে পারে নাই। তারা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।’ প্রায় একই বক্তব্য তিনি গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবির) ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু। পরে ১২ ক্যাটাগরিতে মেলায় অংশ নেওয়া ২৭ প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
এদিকে মেলার শেষ দিনে গতকাল দুপুরের পর থেকে মেলা প্রাঙ্গণ মোটামুটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশপথ, ভেতরের সরু সড়ক, স্টল, প্যাভিলিয়ন কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই। এর মধ্যেই আবার বাদাম বিক্রেতা থেকে শুরু করে খেলনা, পুতুল, কাপড়সহ নানা পণ্য নিয়ে বসেন অনেক হকার। আর এঁদের ঘিরে মানুষের জটলাও কম নয়।
ছুটির দিন ছাড়া অন্য দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম ছিল মেলায়। বেচাকেনা কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতি পোষাতে মেলার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় মেলার আয়োজক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবি। এ জন্য সব মিলিয়ে মাসব্যাপী মেলার আয়ুষ্কাল দাঁড়ায় ৪১ দিন। আর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দিনের বাণিজ্য মেলা—জানালেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন