বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আমাদের দেশে ডলারের বাইরে অন্য মুদ্রায় লেনদেনের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত গিয়ে অধিকাংশ লেনদেন ডলারে হয়। আর ডলার যেহেতু আন্তর্জাতিক মুদ্রা, তাই এর সঙ্গে অন্য মুদ্রাগুলোর দাম সমন্বয় করা হয়।
শাহ মো. আহসান হাবীব, অধ্যাপক, বিআইবিএম

এ বিষয়ে বেসরকারি ব্যাংক ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী প্রথম আলোকে বলেন,‘আমাদের দেশে ডলারের সঙ্গে অন্য মুদ্রাগুলোর দাম সমন্বয় করা হয়। এ কারণে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অন্য মুদ্রাগুলোর দামও ওঠানামা করছে। দেশে আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ লেনদেনই হয় ডলারে। আর ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এখন ঋণপত্রে অন্য মুদ্রার নাম উল্লেখ করা হচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে ডলারের দাম বেড়েছে মাত্র ২০ পয়সা। ব্যাংক খাতে ডলারের দাম ৮৬ থেকে বেড়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা হয়। আর এ সময়ে খোলাবাজারে ডলারের দাম উঠেছে ৯২ টাকা পর্যন্ত। আর ব্যাংক খাতে ১ মার্চ প্রতি ইউরোর দাম ছিল ৯৬ টাকা ৪৮ পয়সা। ৬ মার্চ তা কমে দাঁড়ায় ৯৩ টাকা ৯৬ পয়সায়। আবার ৩১ মার্চ এসে ইউরোর দাম আবারও ৯৬ টাকা ১৬ পয়সায় উঠে যায়। আর গতকাল প্রতি ইউরোর বিনিময় মূল্য ছিল ৯৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

একইভাবে ১ মার্চ প্রতি পাউন্ডের দাম ছিল ১১৫ টাকা ৪০ পয়সা। ১৫ মার্চ তা কমে দাঁড়ায় ১১১ টাকা ৮০ পয়সায়। ৩১ মার্চ পাউন্ডের দাম আবারও বেড়ে ১১৩ টাকা ১৮ পয়সায় ওঠে। আর গতকাল ব্যাংকে প্রতি পাউন্ডের বিনিময় মূল্য ছিল ১১২ টাকা ৩২ পয়সা।

এ ছাড়া গত ১ মার্চ প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৬২ টাকা ৪৫ পয়সা। ১৫ মার্চ তা কমে দাঁড়ায় ৬১ টাকা ৮০ পয়সা। আর ৩১ মার্চ এই ডলারের দাম বেড়ে হয় ৬৪ টাকা ৭২ পয়সা। গতকাল ব্যাংকে প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৬৪ টাকা ২৬ পয়সা। একইভাবে চীনের ইউয়ান, ভারতীয় রুপি, সৌদি রিয়ালসহ অন্য মুদ্রার দামও এ সময়ে বেশ কয়েক দফা ওঠানামা করেছে।

এদিকে ব্যাংকের পাশাপাশি খোলাবাজারে ডলারের জোগান ও চাহিদায় বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। এখন খোলাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ৯২ টাকা ছুঁই ছুঁই করছে। যদিও রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের সঙ্গে খোলাবাজারে ডলার কেনাবেচার কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ব্যাংক খাতে ডলারের দাম ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। কিন্তু আমদানিকারকদের দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো কোনো ব্যাংক এখন প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯০ থেকে প্রায় ৯২ টাকা নিচ্ছে। বিশেষ করে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকদের কাছ থেকেই বাড়তি এ দাম নেওয়া হচ্ছে, যার প্রভাবে বাড়ছে অন্য মুদ্রার দামও।

এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) রিজার্ভ মুদ্রা চীনের ইউয়ান। মার্কিন ডলার, ইউরো অঞ্চলের একক মুদ্রা ইউরো, জাপানি ইয়েন ও ব্রিটিশ পাউন্ডের পর ইউয়ান হলো আইএমএফের পঞ্চম রিজার্ভ মুদ্রা। ডলার, ইউরো, পাউন্ড ও ইয়েনের পাশাপাশি ইউয়ানও আইএমএফের সম্পূরক আন্তর্জাতিক রিজার্ভ বা মজুত সম্পদ, যা এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) নামে পরিচিত। সদস্যদেশগুলোর সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুতের সম্পূরক আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে ১৯৬৯ সালে এসডিআর চালু হয়। প্রতি পাঁচ বছর পরপর আইএমএফ বিশ্বের কয়েকটি প্রধান মুদ্রার বিনিময় হারের ভিত্তিতে এসডিআর মুদ্রাগুলোর মূল্যমান নির্ধারণ করে থাকে।

দেশে হঠাৎ করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবীব প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশে ডলারের বাইরে অন্য মুদ্রায় লেনদেনের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত গিয়ে অধিকাংশ লেনদেনই ডলারে হয়। আর ডলার যেহেতু আন্তর্জাতিক মুদ্রা, তাই এর সঙ্গে অন্য মুদ্রাগুলোর দাম সমন্বয় করা হয়। এখনকার ডলারসংকট মোকাবিলায় যতটা সম্ভব সমন্বয় করে চলতে হবে। ডলারের দাম বাড়লে আমদানি খরচ বেড়ে যাবে, তাতে লেনদেন ভারসাম্যে প্রভাব পড়বে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। আর কমলে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন