ডাকছে আমার দেশ - সবাই মিলে ভালো থাকার গল্প

বিজ্ঞাপন
>করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুর্দশা বেড়েছে। ব্র্যাকের জরিপে উঠে এসেছে তাঁদের কথা। ব্র্যাক ও গ্রামীণফোনের ‘ডাকছে আমার দেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে এসব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা চলছে। তেমনই দুজন হলেন রেকসোনা ও রহিমা।
default-image

‘যেন মরা গাছে ফুল ফুটেছে’ রেকসোনা বেগমের বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চাঁদগড় গ্রামে। তাঁর স্বামী দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় বাইরে কাজ করতে পারেন না। একমাত্র পুত্রসন্তানও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। রেকসোনা বাড়ির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। খেয়েপরে বেঁচে থাকার জন্য তিনি রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। দেশে করোনা সংক্রমণের কারণে দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য সব বন্ধ থাকায় এখন আর কাজে যেতে পারছেন না। চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাসা-বাড়িতেও কেউ কাজে নেয় না। ফলে উপার্জন সম্পূর্ণ বন্ধ। কিছুদিন অন্যের কাছ থেকে ধারদেনা করে এক বেলা খেয়ে তাঁর ও পরিবারের দিন কেটেছে। সম্প্রতি বাড়ির পাশের দোকান থেকে বাকিতে চাল কিনতে চাইলে দোকানদার তাঁকে খালি হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর কোনো উপায় না দেখে রেকসোনা পাশের নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করেন। মাছ বিক্রি করে ৭৫ টাকা পান এবং সেই টাকা দিয়ে আটা কেনেন। দুই দিন সেই আটার রুটি খেয়েই পরিবারের সবাই ক্ষুধা নিবারণ করেছেন।

সেই আটাও যেদিন শেষ হলো, ঠিক সেদিন ব্র্যাক থেকে রেকসোনা বিকাশের মাধ্যমে দুই সপ্তাহের জন্য খাদ্যভাতা হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা হাতে পান। টাকাটা হাতে পাওয়ার খবর জানিয়ে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আইজকাল সবাই আমারে দূর দূর কইরা তাড়াইয়া দেয়। দেখা হইলেই ভাবে ধার করতে আইছি। ভাবছিলাম, না খাইয়াই পরিবার লইয়া মইরা যামু। কিন্তু এই ১ হাজার ৫০০ টাকা আমার কাছে নতুন জীবন পাওনের মতোই। মনে হইতাছে যেন মরা গাছে ফুল ফুটছে।’

default-image

‘স্বপ্ন নয়, সত্যি’ রহিমা থাকেন রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার রায়াপুর গ্রামে। তাঁর পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা ৪ জন। স্বামী ৫ বছর ধরে অসুস্থ, কোনো উপার্জন করতে পারেন না। তাঁর বিবাহিত এক মেয়ে ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। গত বছর অসুস্থতার কারণে তাঁকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। তারপর স্বামীও তাঁকে তালাক দেন। বর্তমানে ৫ বছরের মেয়েসহ রহিমার কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। রহিমা দিনমজুরি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে কোথাও কোনো কাজ পাচ্ছেন না। চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাড়ি থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে ঘরে কোনো খাবার নেই। নেই মেয়ে ও স্বামীর ওষুধ কেনার মতো টাকা। রহিমা কিছুদিন অন্যের জমির ফেলে দেওয়া আলু কুড়িয়ে তা সেদ্ধ করে খেয়ে কোনোরকমে দিন পার করেছেন। বর্তমানে সেই আলুও আর অবশিষ্ট নেই। এ রকম একটা সংকটজনক অবস্থায় ব্র্যাকের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহের জন্য তাঁকে খাদ্যসহায়তা হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। টাকা উত্তোলনের পর তিনি কেঁদে ফেলেন। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে সরাসরি বাজারে গিয়ে চাল, ডাল আর অসুস্থ স্বামী ও মেয়ের জন্য জরুরি ওষুধ কিনে হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে আছে, যা কখনোই কাম্য নয়। তাই গ্রামীণফোন ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগ ‘ডাকছে আমার দেশ’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে রেকসোনা ও রহিমাদের মতো হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের কাছে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে যাচ্ছে। আপনিও শামিল হতে পারেন এবং আপনার আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিতে পারেন ‘ডাকছে আমার দেশ’–এর মাধ্যমে। আসুন, সবাই মিলেই ভালো থাকি। এমন করেই মরা গাছেও আবার নতুন ফুল ফুটুক। রহিমাদের পেট ভরে খাওয়ার স্বপ্ন সত্যি হোক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন