বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্বাভাবিক এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে ডিজিটাল ডাকঘরের পার্থক্য কী?

আরফান আলী: স্বাভাবিক এজেন্ট আউটলেট থেকে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হয়। ডিজিটাল ডাকঘর এজেন্ট আউটলেট থেকে ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি ডাক বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত ডিজিটাল সেবা দেওয়া হয়। ডাক বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ডিজিটাল ডাকঘরে কারা কারা এজেন্ট হচ্ছে?

আরফান আলী: বাংলাদেশ ডাক বিভাগ কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও ডিজিটাল ডাকসেবা দেওয়ার উপযোগী সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগ্য তরুণ-তরুণীদের যাচাই-বাছাই করে ডিজিটাল ডাকঘরের উদ্যোক্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। ব্যাংক এশিয়া ওই উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকে।

এখন পর্যন্ত কতটি ডাকঘরে ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে?

আরফান আলী: ৮ হাজার ৫০০ ডাকঘরে ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে। ব্যাংক এশিয়া পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ডাকঘরের উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা চালু করছে। সকল ডিজিটাল ডাকঘরে অচিরেই ব্যাংক এশিয়ার ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যাবে।

বর্তমানে কী কী সেবা দেওয়া হচ্ছে?

আরফান আলী: ব্যাংক হিসাব খোলা, টাকা জমাদান, ডিপিএস বা মাসে মাসে জমা, এককালীন দীর্ঘমেয়াদি জমা, আঙুলের ছাপের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন, চেক ইস্যু, ডেবিট কার্ড সেবা, পি ও এস টার্মিনাল ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন, যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর, সামাজিক সুরক্ষা ভাতা প্রদান, বৈদেশিক রেমিট্যান্সের টাকা উত্তোলন, কৃষিতে ঋণ প্রদান, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে ঋণ প্রদান, ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণ প্রদান, পাসপোর্টের ফি প্রদান, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নানা ধরনের ইউটিলিটি বিল প্রদান, ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম প্রদান, স্কুল ব্যাংকিং, ই-কমার্সসহ সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হয়।

গ্রাহক, আমানত, ঋণ ও ভাতা বিতরণ কত হচ্ছে?

আরফান আলী: গ্রাহকেরা ডিজিটাল ডাকঘরে ব্যাংক এশিয়ার বিভিন্ন ধরনের হিসাব খুলতে পারেন যেমন সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, স্থায়ী আমানত হিসাব, মাসিক সঞ্চয়ী হিসাব, স্কুল ব্যাংকিং হিসাব, ১০ টাকার হিসাব, লোন হিসাব। এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক গ্রাহক ১০৮ কোটি টাকার বেশি আমানত ডিজিটাল ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয় করেছেন। ডিজিটাল ডাকঘরের মাধ্যমেই গ্রাম অঞ্চলে কৃষিঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ঋণ এবং ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণ দেওয়া শুরু হয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়নে কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যাংক এশিয়া ডিজিটাল ডাকঘরের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের এসব মানুষকে প্রয়োজনীয় কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে আসছে। ডিজিটাল ডাকঘর এ ক্ষেত্রে সঠিক গ্রাহক নির্বাচন এবং ঋণ তদারকির দায়িত্ব খুবই নিবিড়ভাবে পালন করছে।

ডিজিটাল ডাকঘর ঘিরে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আরফান আলী: ব্যাংক এশিয়া দেশের প্রত্যেক সক্ষম নাগরিকের একটি করে ব্যাংক হিসাব থাকবে—এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ব্যাংক এশিয়া বাংলাদেশের মানুষকে ব্যাংকিং সেবায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল ডাকঘরে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। গ্রামবাংলাসহ সারা দেশের গ্রাহক যেন নির্বিঘ্নে এই ডিজিটাল ডাকঘরে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারে। ডিজিটাল ডাকঘরে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরি করার ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের সঙ্গে ব্যাংক এশিয়া কাজ করছে। সরকার কর্তৃক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ডাক বিভাগের ডাকঘরে উদ্যোক্তারা যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনসাধারণকে সেবা প্রদান করছে, তার পাশাপাশি এখন ব্যাংকিং কার্যক্রম যুক্ত হয়েছে।

সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ৮ হাজার ৫০০ ডিজিটাল ডাকঘরকে ‘ব্যাংকিং হাব’ হিসেবে পরিণত করা হবে, যা ব্যাংক এশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য; যেখান থেকে মানুষ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করবে। এমন উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তদুপরি সরকারের ঘোষিত গ্রামকে শহরে উন্নীত করার মহান কাজটিতে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই বিশ্বাস। ডিজিটাল ডাকঘর এমন একটা কেন্দ্র, যেখান থেকে ডাক বিভাগের সেবা, ডিজিটাল সেবা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ই-কমার্স এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবাসমূহ একই স্থান থেকে এলাকার সব ব্যক্তি পাচ্ছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন