নতুন আরও একটি কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের গতকাল মঙ্গলবারের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে বিএসইসি এ তথ্য জানিয়েছে।
আইপিওর অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিটি হলো তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুর সঙ্গে ১৬ টাকা অধিমূল্য বা প্রিমিয়াম যোগ করে প্রতিটি শেয়ারের বিক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২৬ টাকা।
এ ছাড়া বিএসইসির গতকালের সভায় পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং নামের অপর এক কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির একটি আবেদন নাকচ করা হয়েছে। কোম্পানিটি বিদ্যমান শেয়ারধারীদের বাইরে সাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানের মূলধন বাড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে সম্মতি দেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
চলতি বছরে গতকালই প্রথমবারের মতো নতুন কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করেছে বিএসইসি। কমিশন জানিয়েছে, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারবাজার থেকে সংগৃহীত টাকায় চলমান ব্যবসার পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রকল্প সম্প্রসারণের কাজে লাগাবে। আইপিও আবেদনের সঙ্গে কোম্পানিটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত আর্থিক বছরের যে নিরীক্ষিত প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে এটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দেখানো হয়েছে ২ টাকা ৪৯ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি (নেট অ্যাসেট ভ্যালু) ছিল ৩৪ টাকা ৪১ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারের ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস।
জানা গেছে, ২০০২ সালের আগস্টে যাত্রা শুরু করা কোম্পানিটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ঢাকার অদূরে গাজীপুরের টঙ্গীর মুন্নুনগরের গোপালপুর এলাকায় কোম্পানিটির কারখানা অবস্থিত। এটি শতভাগ রপ্তানিমুখী নিট পোশাক খাতের একটি প্রতিষ্ঠান। এটির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নতুন একটি ডায়িং ইউনিট স্থাপন করা; যার জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৬১ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে জোগান দেওয়া হবে। এটি নর্দান তসরিফা গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। নর্দানের ব্যবসা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন তসরিফা আহমেদ।
দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিএসইসির ব্যবস্থা: সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। প্রতিষ্ঠান দুটির একটি ব্রোকারেজ হাউস, অপরটি মার্চেন্ট ব্যাংক। এগুলো হলো জয়তুন সিকিউরিটিজ ইন্টারন্যাশনাল ও বিএলআই ক্যাপিটাল। এদের মধ্যে জয়তুন সিকিউরিটিজকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও বিএলআই ক্যাপিটালকে সতর্ক করা হয়েছে।
স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা বা ডিমিউচুয়ালাইজেশন সম্পন্ন হওয়ার পর ব্রোকারেজ হাউসগুলো লেনদেনের সনদধারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রেক (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট বা টিআরইসি) হোল্ডার হিসেবে অভিহিত করা হয়। সেই হিসেবে জয়তুন সিকিউরিটিজ নামের ব্রোকারেজ হাউসটি এখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেক হোল্ডার হিসেবে পরিচিত।
বিএসইসি জানিয়েছে, জয়তুন সিকিউরিটিজ একীভূত গ্রাহক হিসাবে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি ছিল। ২০১৩ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার শর্টসেল (শেয়ার না থাকার পরও বিক্রি), ঋণ বহির্ভূত শেয়ারে ও পরিচালকদের ঋণ সুবিধা দিয়ে কমিশনের আইন ও নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে জয়তুন সিকিউরিটিজ। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করেছে বিএসইসি।
এর বাইরে বিএলআই ক্যাপিটাল ঋণবহির্ভূত শেয়ারে ঋণ সুবিধা দিয়ে বিএসইসির নির্দেশনা ভঙ্গ করে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করেছে কমিশন।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন