আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে কোম্পানিটির কাঁচামাল, পরিবহনসহ পণ্য তৈরির পেছনে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ২৩ কোটি টাকা।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এ খাতে আগের বছরের চেয়ে খরচ বেড়েছে ৪৯৭ কোটি টাকা বা ৪৯ শতাংশ। এ ছাড়া কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদ ও মাশুলবাবদ খরচও বেড়েছে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে। গত জানুয়ারি-মার্চে ঋণবাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ কোটি টাকা। কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত বছর করোনার কারণে সব ধরনের ব্যবসায় মন্দাভাব ছিল। এ কারণে আমদানিও কম হয়েছে। এ বছর আমদানি অনেক বেড়েছে। এ জন্য স্বল্পমেয়াদি ঋণ করতে হয়েছে। আবার ঋণপত্র খোলার পরিমাণও বেড়েছে। তাতে খরচ বেড়েছে আগের বছরের চেয়ে তিন গুণ।

জানতে চাইলে ওয়ালটনের কোম্পানি সচিব রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে জুন, এ সময় এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রির ভালো মৌসুম। এ বছর এ সময়ের মধ্যে দুটি ঈদ পালিত হবে। তাই আমরা বাড়তি কাঁচামাল আমদানি করেছি। এতে স্বল্পমেয়াদি কিছু ঋণ করতে হয়েছে। সে জন্য গত বছরের চেয়ে এ বছর এই খাতে খরচ বেড়েছে।’

ওয়ালটন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, কোম্পানিটির আয়ের বড় একটি অংশই আসে ফ্রিজ বিক্রি থেকে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটি ৬ লাখ ৩৫ হাজার ফ্রিজ বিক্রি করেছে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে ২ লাখ ১০ হাজারের বেশি ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে। দেশের ফ্রিজের বাজার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই ওয়ালটনের দখলে।

ওয়ালটনের অর্থবছর জুলাই-জুনভিত্তিক। সেই হিসাবে কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরের ৯ মাস পার করেছে। এ ৯ মাসে কোম্পানিটির ব্যবসা বা পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৫ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। গত বছর, তথা ২০২০-২১ সালে কোম্পানিটির মোট আয় ছিল ৬ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে ফ্রিজ ও এসি বিক্রি থেকেই আয় হয়েছিল ৫ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা; অর্থাৎ কোম্পানিটির আয়ের ৮০ শতাংশই এসেছে ফ্রিজ ও এসি বিক্রির আয় থেকে। আর টেলিভিশনসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি থেকে আয় করে ১ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করে ওয়ালটন গত বছর কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৮২০ কোটি টাকা।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন